West Bengal Assembly Election 2026

অধ্যাপকদের ভোটে প্রিসাইডিং অফিসার করা হচ্ছে কেন? হাই কোর্টে সদুত্তর দিতে পারল না নির্বাচন কমিশন, খারিজ নির্দেশ

বুথে বুথে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে কাজের জন্য রাজ্যের সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়োগ করেছিল কমিশন। কিছু দিন আগে তার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১১
প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে কাজের জন্য রাজ্যের সহকারী অধ্যাপকদের নিয়োগ করেছিল কমিশন।

প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে কাজের জন্য রাজ্যের সহকারী অধ্যাপকদের নিয়োগ করেছিল কমিশন। —ফাইল চিত্র।

রাজ্যের বিভিন্ন কলেজের সহকারী অধ্যাপকদের ভোটে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ করার যে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিয়েছিল, তা খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। কেন অধ্যাপকদের ভোটের কাজে নিয়োগ করা হয়েছে, কমিশন তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি। সেই কারণেই কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, অধ্যাপকদের বেতন এবং পদমর্যাদার কথা মাথায় রেখে কোনও দায়িত্ব যদি দেওয়া হয়, তবে তাঁরা তা পালন করবেন।

Advertisement

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বুথে বুথে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে কাজের জন্য রাজ্যের সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়োগ করেছিল কমিশন। কিছু দিন আগে তার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে তাঁদের পৃথক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানায় কমিশন। অনেকেই ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা নেওয়া শুরু করেছেন। আদালত জানিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ কার্যকর হবে না। অর্থাৎ, প্রশিক্ষণ হয়ে গেলে তাঁদের ভোটের সময় প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাকিরা কমিশনের নির্দেশ থেকে অব্যাহতি পাবেন।

কেন অধ্যাপক হয়েও প্রিসাইডিং অফিসারের কাজ করতে হবে? প্রশ্ন তুলে অধ্যাপকদের একাংশ কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এর আগে কমিশনের কাছে এমন সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চেয়েছিল আদালত। শুক্রবার মামলাটি ওঠে হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অধ্যাপকদের বুথে পাঠানোর কোনও সঠিক কারণ জানাতে পারেনি কমিশন। পূর্ব নির্ধারিত নোটিস মেনে নিয়োগও করা হয়নি অধ্যাপকদের। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানান, সদুত্তর না মেলায় কমিশনের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করা হচ্ছে। তবে অধ্যাপকদের বেতন এবং পদমর্যাদার কথা মাথায় রেখে কমিশন যদি তাঁদের অন্য কোনও দায়িত্ব দিতে চায়, তাঁরা তা পালন করবেন।

আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। ভোট চলাকালীন বুথে বুথে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে শিক্ষা দফতরের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের নিয়োগ করে থাকে কমিশন। এ ক্ষেত্রেও তাদের বক্তব্য ছিল, রাজ্যে ৯০ হাজারের বেশি বুথ রয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে আধিকারিক প্রয়োজন। গত বিধানসভা নির্বাচনেও অধ্যাপকেরা এই কাজ করেছিলেন বলে দাবি কমিশনের। তারা জানায়, এ বার কেন অধ্যাপকেরা এই কাজে আপত্তি করছেন, তা স্পষ্ট নয়। আদালত জানিয়েছে, অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে নিয়োগের সঠিক কারণ জানাতে না-পারার জন্যই কমিশনের সিদ্ধান্ত খারিজ করা হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন