WB Elections 2026

ভোটে অশান্তি ঠেকাতে গলিপথে বাইক-টহল কেন্দ্রীয় বাহিনীরও

শহরের একাধিক অলিগলিতে বড় গাড়ি ঢোকারউপায় নেই। সেই সব এলাকায় কোনও গোলমাল হলে দ্রুত যাতেকেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছতে পারে, মূলত সে কথা ভেবেই ওই মোটরবাইক কিউআরটি নামানো হয়েছে।

শিবাজী দে সরকার
শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৫

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

সাধারণ পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি এ বার শহরের অলিগলিতে মোটরবাইক নিয়ে টহল দিতে শুরু করল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। রবিবার রাত থেকেই কলকাতা পুলিশের প্রতিটি থানা এলাকার গলিপথেওই টহলদারি শুরু করেছেন জওয়ানেরা। সূত্রের খবর, প্রতি থানা এলাকায় হাফ সেকশন কেন্দ্রীয়বাহিনী, অর্থাৎ চার জন জওয়ান দু’টি বাইকে ওই নজরদারি চালাচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে পৃথক মোটরবাইকে থাকছেন কলকাতা পুলিশের এক জন বা দু’জন কর্মী। ভোটেরআগে রবিবারের মতো সোমবার রাতেও ওই বাইক-বাহিনী টহলদেবে এলাকায়। ভোটের আগের দিন, অর্থাৎ আজ, মঙ্গলবার সকাল১০টা থেকে সংশ্লিষ্ট জওয়ানেরা প্রতি থানা এলাকায় ঘুরবেন বুধবারভোট-পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত। এই সময়ে তাঁদের সঙ্গে থাকবেনকলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের এক জন করে অফিসার। ফলে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো আজ, মঙ্গলবার থেকেই দ্বিতীয় দফার ভোটের শেষ পর্যন্ত সারা শহরজুড়ে বাইকে টহল দেবে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।

সূত্রের খবর, শহরের একাধিক অলিগলিতে বড় গাড়ি ঢোকারউপায় নেই। সেই সব এলাকায় কোনও গোলমাল হলে দ্রুত যাতেকেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছতে পারে, মূলত সে কথা ভেবেই ওই মোটরবাইক কিউআরটি নামানো হয়েছে। এ ছাড়া, প্রতি বারই শহরের বস্তি এলাকা থেকে ভোট দানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ বার তেমন পরিস্থিতি যাতে না হয়, তা-ও নজরে রাখবে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই বিশেষ দল।

এ বারের ভোট নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করাহয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। ছাপ্পাহীন ভোট ও ভোটারদের ভয় দেখানো বন্ধকরতে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা করার জন্য পুলিশকেওনির্দেশও দিয়েছে কমিশন। রবিবার কলকাতা পুলিশের তরফে ভোটের দিন পুলিশি ব্যবস্থা নিয়ে একবৈঠক হয়। সেখানে কমিশনের প্রতিনিধিরা ছাড়াও কলকাতাপুলিশের বিভিন্ন থানার অফিসারেরা ছিলেন। ওই বৈঠকে কমিশনের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লালবাজার জানিয়েছে, ভোট-পর্ব সুষ্ঠু ভাবে মেটাতে সামগ্রিককলকাতা পুলিশ এলাকাকে ৩৫১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরের আওতায় থাকছে চার থেকে ছ’টি করে ভোট কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সেক্টরের দায়িত্বে থাকবেনকলকাতা পুলিশের এক জন করে অফিসার এবং দু’জন কর্মী।পাশাপাশি, প্রতিটি কুইক রেসপন্স টিমে (কিউআরটি) থাকছেন হাফ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকবে জেলা নির্বাচনী দফতরের। ফলে, ওই দফতরে কোনও রকম গোলমালের খবর পৌঁছলে তারা সরাসরি তা জানিয়ে দিতে পারবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিউআরটি-কে।

এ বার জলপথেও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কলকাতাপুলিশের রিভার ট্র্যাফিক পুলিশের আওতাধীন ১৪টি ঘাটকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। দায়িত্বদেওয়া হয়েছে এক জন করে অফিসারের হাতে। তাঁদের সঙ্গে পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি থাকবেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দু’জন করে সদস্য।

এ দিকে, নির্বাচন প্রক্রিয়া না মেটা পর্যন্ত কলকাতা পুলিশএলাকার কোনও থানার ওসি এবং অতিরিক্ত ওসি কোনওপরিস্থিতিতেই নিজের থানা এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না বলেনির্দেশ জারি করেছেন কলকাতার নগরপাল। কোনও বিশেষপ্রয়োজনে যেতে হলে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অগ্রিমছাড়পত্র নিতে হবে এর জন্য। এর আগেই অফিসারদের থানায়থাকার জন্য নির্দেশ জারি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন