রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবাল। —ফাইল চিত্র।
সোমবার থেকে হঠাৎ রাজ্য জুড়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে মদের দোকান এবং পানশালা। রাজ্যের আবগারি দফতরের নির্দেশে সোমবার থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের সব জেলাতেই মদের দোকান বন্ধ থাকছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছিল বিধানসভা ভোটের কারণেই এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবাল জানালেন নির্বাচন কমিশনের তরফে এমন কোনও নির্দেশই জারি করা হয়নি!
মনোজ মঙ্গলবার বলেন, ‘‘শুনে আমি অবাক হয়েছি। কেন কলকাতায় মদ বন্ধ করা হয়েছে জানতে চাইব আবগারি কমিশনারের কাছে।’’ অর্থাৎ, মনোজের ঘোষণার স্পষ্ট কমিশনের নির্দেশ ছাড়াই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সোমবার থেকে রাজ্য জুড়ে সমস্ত মদের দোকান বন্ধ করেছে রাজ্যের আবগারি দফতর। আগাম ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন সুরাপ্রেমীরা।
সাধারণ নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে যেখানে যেখানে ভোট সেখানে সেখানে মদের দোকান বন্ধ রাখতে হয়। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ রয়েছে। সেই সব এলাকায় ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে মদের দোকান বন্ধ থাকার কথা। তবে আবগারি দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সোমবার অর্থাৎ ২০ এপ্রিল থেকেই মদের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। তবে দ্বিতীয় দফায় যেখানে যেখানে ভোট রয়েছে, যেমন কলকাতা বা উত্তর ২৪ পরগনা বা দক্ষিণ ২৪ পরগনা, সেখানকার মদের দোকানও সোমবার থেকেই বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আবগারি দফতর। কলকাতা বা উত্তর ২৪ পরগনা বা দক্ষিণবঙ্গের জেলার আধিকারিকদের কাছে যে নির্দেশিকা গিয়েছে, তাতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিন মদের দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আবার ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, গণনার দিন অর্থাৎ ৪ মে মদের দোকান বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, এই সব এলাকায় ভোট দ্বিতীয় দফায়, অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল। কিন্তু প্রথম দফার ভোটের ক্ষেত্রে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য যা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, তা কলকাতা-সহ বাকি জায়গার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। রাজ্যের সব সব জেলাশাসক, কলকাতার নগরপালকে পাঠানো লিখিত বার্তায় আবগারি দফতর জানিয়েছে, ১৯৯৮ সাল থেকেই ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে স্থানীয় মদের দোকান বন্ধ রাখা দস্তুর। এ বার এই সময়সীমা দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কলকাতা-সহ দ্বিতীয় দফায় ভোট হতে যাওয়া জেলাগুলিতে কেন এক সপ্তাহ আগেই মদের দোকান ও পানশালা বন্ধের নির্দেশিকা জারি হল, তার কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি রাজ্য সরকারের আবগারি দফতর। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যেই। সেই আবহেই এ বার সিইও মনোজের মন্তব্য বিতর্ক আরও উস্কে দিল। প্রসঙ্গত, গত মাসে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্য সফরে এসেছিল। সে সময়েই ইঙ্গিত মিলেছিল, এ বারের ভোটের আগে মদের দোকান বন্ধের সময়সীমা বাড়তে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় ভোট হতে যাওয়া জেলাগুলিতে তা বেড়ে কার্যত এক সপ্তাহ দাঁড়াল।