WB Elections 2026

বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিক পদ ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা, প্রশাসনিক চিঠিতে তৎপরতার নির্দেশ নবান্নের

মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়া পদগুলির মধ্যে রয়েছে পরিবেশ, বন, স্বাস্থ্য, সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরামর্শদাতা কমিটি, মিশন ও উন্নয়ন বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ২১:০২
Chief Minister Mamata Banerjee resigns from multiple posts ahead of assembly elections

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে একাধিক সরকারি বোর্ড, কমিটি, কাউন্সিল ও সংস্থার পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সিদ্ধান্তের পরেই রাজ্য প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

নবান্নের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে পাঠানো চিঠি অনুযায়ী— তিনি (মমতা) অবিলম্বে বিভিন্ন পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে সেই ইস্তফা গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু তালিকাভুক্ত পদই নয়, তালিকার বাইরে যদি কোনও সংস্থা বা কমিটিতে তাঁর নাম থেকে থাকে, সেখান থেকেও ইস্তফা গ্রহণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ইস্তফা দেওয়া পদগুলির মধ্যে রয়েছে পরিবেশ, বন, স্বাস্থ্য, সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরামর্শদাতা কমিটি, মিশন ও উন্নয়ন বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি, স্টেট পাবলিক পলিসি অ্যান্ড প্ল্যানিং বোর্ড, স্কিল ডেভেলপমেন্ট মিশন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার শীর্ষ পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পদত্যাগ কোনও আইনগত বাধ্যবাধকতা থেকে নয়, বরং নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারি পদ ব্যবহার করে নির্বাচনী সুবিধা নেওয়া নিষিদ্ধ। ফলে স্বার্থের সংঘাত এড়াতে অনেক সময়ই মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা এই ধরনের পদ ছাড়েন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারের কাছে নিরপেক্ষতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াও একটি বড় কারণ। যদিও সব মুখ্যমন্ত্রী এমন পদক্ষেপ করেন না। তবুও নির্বাচনের আগে এই ধরনের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন