মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
পূর্বনির্ধারিত সূচি খানিক বদলে শুক্রবার সড়কপথেই দুর্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন সূত্রে খবর, দুপুর ২টো নাগাদ দুর্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দিতে পারেন তিনি। সেখানেই রাত্রিবাস করার কথা রয়েছে তাঁর। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর কোনও জনসভা বা অন্য কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। শনিবার তাঁর তিনটি জনসভা রয়েছে। একটি পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জে, অপর দু’টি পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর এবং কাশীপুরে।
বৃহস্পতিবার ঝড়বৃষ্টির কারণে কলকাতা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান অবতরণের সময় সমস্যার সৃষ্টি হয়। ঝড়বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে বিমানটি বিমানবন্দরে নামতে পারেনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা বিমানটি আকাশে চক্কর কাটে। মাঝ-আকাশে আটকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেল ৫টা ১৯ মিনিটে বিমানটি নির্বিঘ্নে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচার সেরে অন্ডাল থেকে দুপুর ৩টে ৩৯ মিনিটে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর বিমান। ৪টে নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল সেটির। কিন্তু ঝড়বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে বিমানটি নামতে পারেনি।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিমানে অন্ডালে যাওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু আবহাওয়া সংক্রান্ত বিষয় মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী সড়কপথে দুর্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দিতে পারেন। শুক্রবার দুর্গাপুরে রাত্রিবাস করার পর সেখান থেকেই শনিবার রানিগঞ্জের সভাস্থলে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। তবে নবান্ন সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মমতা ছোট প্রাইভেট জেটে জেলা সফর করছেন। শুক্রবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান দীর্ঘ ক্ষণ অবতরণের অনুমতি না-পাওয়ায় জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে কি না, কত ক্ষণ বিমান আকাশে চক্কর কাটতে পারবে, অনেকেই তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। শুক্রবার বিকেলে কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে না-পেরে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান বেহালার দিকে ঘুরে গিয়েছিল। এই দেড় ঘণ্টায় কখনও বিমানের উচ্চতা কমেছে, কখনও বেড়েছে। একাধিক বার দেখা গিয়েছে বিমানটি দক্ষিণের দিকে সরে যাচ্ছে। আবার কিছু ক্ষণ পরে তা দমদমের দিকে ফিরে এসেছে। দীর্ঘ ক্ষণ উৎকণ্ঠার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ায় বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি কলকাতা বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল।
আগেই জানানো হয়েছিল যে, শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর কোনও প্রচার কর্মসূচি নেই। তৃণমূল সূত্রে খবর, শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী বিশ্রাম করবেন। শনিবার থেকে ফের পুরোদমে প্রচার শুরু করবেন তিনি।