লেডিজ় পার্কে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ভবানীপুরে। —নিজস্ব চিত্র।
তৃণমূল প্রার্থীদের হয়ে প্রচারের ময়দানে তিনি অক্লান্ত। গত ২০-২৫ দিন ধরে রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করছেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার নজর দিলেন নিজের ঘরে। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ ভবানীপুরে। হাতে সময় কম দেখে সোমবার সন্ধ্যায় নিজের বিধানসভা এলাকায় নিবিড় জনসংযোগে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়কও বটে।
সোমবার সন্ধ্যায় শেক্সপিয়র সরণিতে একটি নির্ধারিত নির্বাচনী সভা শেষ করেই মমতা সোজা চলে যান ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে গঙ্গা-যমুনা, শ্যামকুঞ্জ, ভিক্টোরিয়া এবং ডিম্পল কোর্ট-সহ মোট পাঁচটি বড় আবাসনে প্রচার চালালেন তিনি। ঘড়ির কাঁটায় তখন পৌনে ৭টা। আধঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই নিবিড় কর্মসূচিতে তিনি প্রতিটি আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মসূচির সময় সংবাদমাধ্যমকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অত্যন্ত ঘরোয়া মেজাজে ওই বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপচারিতা সারেন তিনি।
কথোপকথনের সময় মুখ্যমন্ত্রী মূলত তিনটি বিষয়ের উপর জোর দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রথমত, বিধায়ক হিসাবে নিজের রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরেছেন ভবানীপুর বিধানসভার ওই ভোটারদের কাছে। গত ১৫ বছরে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র এবং সামগ্রিক ভাবে কলকাতার উন্নয়নে তাঁর সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরেন মমতা। পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভার পুর পরিষেবা নিয়ে বাসিন্দাদের মতামত জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। নিয়মিত জল, আলো বা সাফাইয়ের মতো পুর পরিষেবা ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে সরাসরি তাঁদের থেকে জেনে নেন তিনি। আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় ফিরলে এই এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নে আর কী কী ‘বৃহত্তর পরিকল্পনা’ রয়েছে, তারও আভাস দেন তৃণমূলনেত্রী।
রবিবারও মমতা ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের লেডিজ় পার্কে স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের মতো মিশ্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মন পেতে সরাসরি তাঁদের দুয়ারে পৌঁছে যাওয়া মমতার পুরনো ও কার্যকর এক কৌশল। উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় রাজ্যের অন্যত্র প্রচার করার ফলে নিজের কেন্দ্রে সে ভাবে সময় দিতে পারেননি তিনি। এ বার বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী করেছে শুভেন্দু অধিকারীকে। তাই ভবানীপুরের লড়াই নিয়ে কোনও খামতি রাখতে চায় না তৃণমূল। ভোটের চূড়ান্ত লগ্নে এসে আর কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না মমতাও। সোমবারের এই ঝটিকা সফর এবং বাসিন্দাদের অভাব-অভিযোগ শোনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যেও বাড়তি উন্মাদনা লক্ষ করা গিয়েছে।