—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
গোলমাল হলে পুনর্নির্বাচন এবং কর্তব্যে গাফিলতিতে দোষী পুলিশ কর্মী-আধিকারিকদের শাস্তি— এই জোড়া বার্তার পাশাপাশি পুলিশ-পর্যবেক্ষকদের করণীয় স্থির করে দিল নির্বাচন কমিশন। একেবারে থানাস্তর পর্যন্ত পুলিশকর্মীদের ভূমিকা নজরে রেখেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে বোঝাপড়া নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই পর্যবেক্ষকদেরই। বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকে পুলিশ— সকলের ভূমিকার মূল্যায়নও করবেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যে মোট ১৮৮ জনের মধ্যে ৮৪ জন পুলিশ-পর্যবেক্ষকই মোতায়েন হয়েছেন এ রাজ্যে। ইতিমধ্যেই তাঁরা জেলায় জেলায় গিয়ে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ পর্যবেক্ষক (পুলিশ) এন কে মিশ্রের মাধ্যমে সেই পুলিশ-পর্যবেক্ষকদের জন্য ১০ দফা বিধি নির্দিষ্ট করে দিল কমিশন।
একেকটি বিধানসভা এলাকার মধ্যে থাকা থানাগুলি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে হচ্ছে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের। সেই স্তরে দুষ্কৃতী, আগের ভোটগুলিতে যারা গোলমাল পাকিয়েছিল তাদের চিহ্নিত করে পদক্ষেপ করাতে হবে পুলিশকে দিয়ে। বাকি থাকা জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানাগুলি কার্যকর করাতে হবে তাঁদের। প্রতিদিন সেই পদক্ষেপের রিপোর্ট পাঠাতে হবে কমিশনকে। প্রতিটি থানা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রথম দফার টহলের কাজ শেষ হয়ে থাকলে ফের টহলের ব্যবস্থা করতে হবে। সবক’টি উপদ্রুত-স্পর্শকাতর এবং সংবেদনশীল এলাকায় টহল দিতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশকে। এই পর্বে পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয় ঠিকঠাক থাকছে কি না, তা মূল্যায়ন করে পর্যবেক্ষকেরাই কমিশনকে জানাবেন। এই সূত্রেই পর্যবেক্ষকদের উপর দায়িত্ব—সব ওসি-আইসি-কে বুঝিয়ে দেওয়া, কর্তব্যে গাফিলতি হলে সাসপেন্ড, বদলির মতো কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। সে ক্ষেত্রে কমিশন তা সরাসরি, কোনও বিভাগীয় তদন্ত ছাড়াও করতে পারে তেমন পরিস্থিতিতে।
একই সঙ্গে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ভোটদানে বাধা, ভোটকেন্দ্রের মধ্যে গোলমাল, ভোটযন্ত্রকে প্রভাবিত করা, ভোটকেন্দ্রে ভোটার-ভোটকর্মীদের প্রভাবিত অথবা ভয় দেখানো হলে পুনর্নির্বাচন করানো হবে। কারণ, এ বার প্রথম ভোটকেন্দ্রের ভিতর এবং বাইরে সব দিকের ছবি ধরে রাখার প্রযুক্তিযুক্ত ক্যামেরা বসানো হবে। যার কন্ট্রোলরুম থাকবে জেলাশাসক, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) কার্যালয় এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে।
কমিশনের ব্যাখ্যা—অতীতের ভোটগুলিতে এলাকায় এলাকায় ভোটারদের ভোটদানে বাধা এবং ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা ধারাবাহিক ভাবে ঘটেছে। সেখানে স্থানীয় পুলিশও যথাযথ পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছিল বারে বারে। এমনকি, অভিযোগ ছিল—স্থানীয় পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করত শাসকদল বা প্রশাসনের নির্দেশে। ফলে গোলমাল, ভীতিপ্রদর্শন, ভোটদানে বাধা, অশান্তি-রক্তপাতের ঘটনা বারে বারে ঘটলেও, কেন্দ্রীয় বাহিনী বা পুলিশকে তৎপর হতে দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিরই বদল নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ-পর্যবেক্ষকদের উপরেই। সমান্তরালে পাঁচটি রাজ্যে মোট ৫৫৭ জন সাধারণ পর্যবেক্ষকের মধ্যে ২৯৪ জনই মোতায়েন হয়েছেন এ রাজ্যে। অর্থাৎ, যতগুলি বিধানসভা কেন্দ্র, ততজন সাধারণ পর্যবেক্ষক নজরদারির কাজ করবেন পুলিশ পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে মিলে। বাহিনী ব্যবহার থেকে ভোট- পরিকল্পনা—সবেতে থাকবেন তাঁরাও।
ওসি থেকে পুলিশ সুপার, বিডিও থেকে জেলাশাসক এমনকি, পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা—পুরোটার উপর নজর রাখবেন রাজ্যভিত্তিক বিশেষ পর্যবেক্ষকেরা।