West Bengal Elections 2026

অশান্ত বহরমপুর, দলীয় কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর, হামলার অভিযোগ তুলে থানায় অধীর, কমিশনে নালিশ কংগ্রেসের

অভিযোগ, শনিবার রাতে সাইদাবাদ এলাকায় তাণ্ডব চালায় তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী। ওই এলাকার কংগ্রেস কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে ওই এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন অধীর চৌধুরী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০১:১২
অধীর চৌধুরী।

অধীর চৌধুরী। — ফাইল চিত্র।

বিক্ষিপ্ত অশান্তি বাদে প্রথম দফার ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ভোট মিটলেও মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে নতুন করে অশান্তির ছবি দেখা গেল। ওই বিধানসভা কেন্দ্রের সাইদাবাদ এলাকার ১ নম্বর বুথের কাছে কয়েক জন কংগ্রেস কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল। অভিযোগের তির তৃণমূলআশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছোন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। শুধু তা-ই নয়, ঘটনার অভিযোগ জানাতে রাতেই ছোটেন বহরমপুর থানাতেও। প্রশ্ন তোলেন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও।

Advertisement

অভিযোগ, শনিবার রাতে সাইদাবাদ এলাকায় তাণ্ডব চালায় তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী। ওই এলাকার কংগ্রেস কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বিশেষত, এলাকার কংগ্রেস নেতা কৃষ্ণ ঘোষ এবং তাঁর বাড়ি সংলগ্ন জায়গায় ইটবৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ। খবর পেয়ে ওই এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন অধীর। তার পরে থানায় যান। সেখান থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহত কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন অধীর।

আহতদের পরিবারের এক সদস্য জানান, দুষ্কৃতীরা তাঁর বোনের গায়ে হাত দেয়। জামাও ছিঁড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এলাকার আরও অনেক মেয়ের গায়ে হাত দেয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুষ্কৃতীরা এমন ভাবে তাঁর জেঠুকে মেরেছেন, যে তাঁর মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে। হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার চলছে। দুষ্কৃতীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে জেলায়। কংগ্রেসের তরফে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবালকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে ‘পাপাই ঘোষ’ নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, পাপাই ও তাঁর অনুগামীরা দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় সন্ত্রাস চালাচ্ছেন। ভোটের আগে থেকেই এলাকায় সম্প্রীতি নষ্ট এবং ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে। কংগ্রেসের পোলিং এজেন্টও আক্রান্ত হয়েছে। চিঠিতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের দাবি, রবিবার সকালের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে সমস্ত কিছুর দায় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ওপর বর্তাবে।

যদিও তৃণমূলের তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। শনিবার রাতের ঘটনাকে পারিবারিক বিবাদ বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে দাবি করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

Advertisement
আরও পড়ুন