ভূতনাথের ছবি নিয়ে প্রচার। — নিজস্ব চিত্র।
ছিলেন এসএফআই নেতা। বিজেপিতে এসে কংগ্রেসের প্রয়াত বিধায়কের ছবি নিয়ে ভোট-প্রচারে বেরিয়ে বিতর্কে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফা। ভাতার থেকে দু’বার বিধায়ক হয়েছিলেন ভোলানাথ সেন। ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রীও। ভাতারের ‘রূপকার’ হিসাবে দলমত নির্বিশেষে মানেন তাঁকে। সৌমেনের এই প্রচার নিয়ে বিঁধেছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। বিজেপির অন্দরেও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রার্থী হওয়ার পরে ভাতার জুড়ে একাধিক জায়গায় ভোলানাথের ছবি নিয়ে প্রচারে নেমেছেন সৌমেন। তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিজেপির বর্ধমান-দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, “ভাতার থেকে জিতে প্রয়াত ভোলানাথ সেন কংগ্রেসের মন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি ভাতারের মানুষের কাছে স্মরণীয়। তাঁকে রাজনৈতিক বেড়াজালের মধ্যে আটকে রাখা ঠিক নয়।”
সৌমেনের প্রচারে ব্যবহৃত প্রয়াত কংগ্রেস নেতার ছবির সঙ্গে লেখা রয়েছে, ‘ভাতারের রূপকার লহ প্রণাম’। সঙ্গে রয়েছে বিজেপির প্রতীক ও প্রার্থীর ছবি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। জেলার কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, “ভোলানাথ সেন কংগ্রেস ঘরানার মানুষ। গান্ধীবাদী ওই নেতার ছবির উপরে প্রতীক দিয়ে বিজেপি শুধু অন্যায়ই করেনি, প্রয়াত মানুষটিকে অপমান করা হয়েছে।”
সত্তরের দশকে কলকাতা থেকে ভাতারে এসে দাঁড়িয়েছিলেন ভোলানাথ সেন। তাঁর হাত ধরেই এই এলাকায় তৈরি হয়েছিল দমকল কেন্দ্র, গ্রামীণ হাসপাতাল, স্টেডিয়াম। গোটা বিধানসভা এলাকায় পিচের রাস্তা তৈরি হয়েছিল। গড়ে উঠেছিল সেচ ব্যবস্থা। তবে ১৯৮২ সালে এই ভাতারেই হারতে হয়েছিল তাঁকে। অনেকেই এর জন্য কংগ্রেসের কোন্দলকে দায়ী করেছিলেন তখন।
বিজেপির দাবি, বর্তমানে তৃণমূল নেতাদের অনেকেই সে সময়ে কংগ্রেসের যুব নেতা ছিলেন। ১৯৮১ সালে নিত্যানন্দপুরে ধর্মরাজ পুজোর দিন ভোলানাথ সেনকে প্রকাশ্যে অসম্মানিত হতে হয়েছিল তাঁদের হাতে। তার পর থেকে ভাতারে আর উন্নয়ন হয়নি, দাবি তাঁদের। বিজেপি প্রার্থীর বক্তব্য, “ভাতার ও ভোলানাথ সেন এক সঙ্গে উচ্চারিত হয় আজও। দু’টি নাম সমার্থক। ভাতার বললেই অবধারিত ভাবে ভোলানাথ সেনের নাম উঠে আসে। এ রকম এক জন মানুষের কথাই তো প্রচারে তুলে ধরা উচিত। উনি যে পথে ভাতারের উন্নয়ন করতে চেয়েছিলেন, সেই পথেই ভাতারের উন্নতি করতে চাই। তৃণমূলকে হারাতে পারলে ভোলানাথ সেনের অপমানের যোগ্য জবাব দেওয়া যাবে।”
এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোনারের পাল্টা দাবি, “এক জন আপাদমস্তক ধর্মনিরপেক্ষ মানুষকে সাম্প্রদায়িক বানিয়ে দিল বিজেপি। এর জবাব ভাতারের মানুষ দেবেন।” সৌমেনের প্রতিক্রিয়া, ‘‘যাঁরা ভোলানাথ সেনকে অপমান করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে এক জন বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শান্তনু প্রার্থী হয়েছেন। তাই তাঁকে পরাজিত করে ভোলানাথ সেনের অপমানের জবাব দিতে চাই।’’ মানগোবিন্দের প্রতিক্রিয়া, ‘‘ভিত্তিহীন কথাবার্তা। ভোলানাথ সেন আমাদের কাছে সব সময়েই সম্মানীয়। প্রত্যেক বছর জন্মদিনে ভাতার বাজারে তাঁর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাই।’’