West Bengal Election 2026

আইএসএফের ‘বাড়াবাড়ি’ মানতে আপত্তি সিপিএমে

বামেদের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা চলাকালীন আইএসএফ ৩৩টি আসনের তালিকা ঘোষণা করেছে। তার মধ্যে ২৯টি বামেদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

সন্দীপন চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ০৫:৫৪

—প্রতীকী চিত্র।

ঘরের মধ্যে বিস্তর গঞ্জনা শুনেও বাইরের সমঝোতায় এগোনো হয়েছিল। কিন্তু সেই সমঝোতার পথেও এ বার সীমারেখা টেনে রাখতে চাইছে সিপিএম।

প্রথমে কংগ্রেস এবং তার পরে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) সঙ্গে আসনের বোঝাপড়া নিয়ে নানা রকমের ওজর-আপত্তি তুলেছে বামফ্রন্টের শরিকেরা। কংগ্রেস এই বিধানসভা ভোটে একা লড়ার রাস্তায় চলে গিয়েছে। আইএসএফের জন্য কেন বামফ্রন্টের দীর্ঘ দিনের রসায়নকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন বারবারই উঠেছে বাম শিবিরে। রাজ্যে গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বেশ কিছু জায়গায় আইএসএফের ‘পারফরম্যান্স’ যে হেতু বেশির ভাগ বাম শরিক দলের চেয়ে ভাল, তাই নওসাদ সিদ্দিকীর দলকে যথাসম্ভব গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন সিপিএম নেতৃত্ব। কিন্তু দফায় দফায় আলোচনার পরেও আইএসএফ তাদের তালিকায় এমন কিছু কেন্দ্র রেখে দিয়েছে, যা মেনে নিতে এখন সিপিএম-ও রাজি নয়! আইএসএফ-কে বোঝানোর সব রকম চেষ্টা চলছে। তবে তার পাশাপাশি যে কোনও পরিস্থিতির জন্যই সিপিএম নেতৃত্ব প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে সূত্রের খবর।

বামেদের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা চলাকালীন আইএসএফ ৩৩টি আসনের তালিকা ঘোষণা করেছে। তার মধ্যে ২৯টি বামেদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। বাকি চারটিতে বামেরা প্রার্থী ঘোষণা করে দিলেও সেখান থেকে প্রার্থী প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছেন নওশাদেরা। এই পদক্ষেপ একেবারে ভাল চোখে নেয়নি আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। নওসাদদের ঘোষিত ২৯-এর মধ্যে এমন কিছু আসন আছে, যা নিয়ে আইএসএফ এবং বাম শরিক দলের টানাপড়েন আছে। আবার সিপিএমের জেলা নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে রাজি নন, এমন আসনও সেই তালিকায় আছে। তার পরে আসন সংক্রান্ত দাবি জানিয়ে এবং আরও কয়েকটি কেন্দ্রে রদবদলের ইচ্ছা প্রকাশ করে আইএসএফ চিঠি দিয়েছে সিপিএম-কে। যা সিপিএমের অন্দরে উষ্মা আরও বাড়িয়েছে। জবাবি চিঠিতে মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছে সিপিএম-ও।

এমতাবস্থায় সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘‘বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট করার মনোভাব থেকেই আমরা এগিয়েছি। সব ক্ষেত্রে সকলে একমত না-ই হতে পারেন। কিন্তু আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক হয়নি, এমন কোনও আসনেই বামফ্রন্ট প্রার্থী ঘোষণা করেনি। সেখানে আলোচনা করে ঠিক হয়নি, সেই রকম আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা বলে চাপ সৃষ্টি করতে চাইলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।’’ পক্ষান্তরে, আইএসএফের যুক্তি, ৭৩ আসনের তালিকা নিয়ে শুরু করে তারা ৩৩-এ নেমেছে। শুরু থেকেই তারা যথেষ্ট ‘নমনীয়’। নওসাদের বক্তব্য, ‘‘বিজেপি ও তৃণমূলকে পরাস্ত করতে আসন নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ করেছি। আর প্রথমেই বলেছি, আমরা প্রার্থী দিলাম, তার উপরে অন্য কোনও বাম দলও প্রার্থী দিল, এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।’’

লোকসভা নির্বাচনের আগে এই রকম টানাপড়েন সামলাতে আসরে নামতে হয়েছিল সিপিএমের তৎকালীন সাংসদ ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি, যাদবপুরের মতো লোকসভা আসনে সিপিএমের পাশাপাশি আইএসএফের প্রার্থী ছিল। সূত্রের খবর, এ বারও বিকাশের (যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী) সহায়তা চেয়েছেন নওসাদ। সিপিএমের তরফে তাঁদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, বোঝাপড়ার বাইরে আসনের ঘোষণা করে দেওয়া উচিত হয়নি। সেই সঙ্গেই তৃণমূলত্যাগী আরাবুল ইসলাম এবং অন্য জেলায় অন্য দলের সঙ্গে সংস্রবে থাকা কয়েক জনকে প্রার্থী করলে তাতে বামেদের বিড়ম্বনা হবে। এর পরে আইএসএফ দু-এক দিনের মধ্যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

পরিস্থিতির নিরিখে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের মত, ‘‘পাঁচ বছর আগে বিজেপি ও তৃণমূলের বাইরে একমাত্র আইএসএফ একটি আসন জিততে পেরেছে এবং পাঁচ বছর তারা লড়াই চালিয়েছে, এ কথা অবশ্যই অনস্বীকার্য। কিন্তু এটাও ঠিক যে, আইএসএফের সাফল্যে বামেদের সমর্থন মিশে আছে। গ্রহণযোগ্য কোনও কারণ ছাড়া আসনের দাবি মেনে নেওয়া কঠিন।’’ সিপিএমের আলোচনায় এসেছে, আইএসএফের সঙ্গে জোটের পরে দলের নিজস্ব সংখ্যালঘু ভিত অনেকটা সরে গিয়েছে। তার উপরে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে প্রার্থী করার জন্য আইএসএফ বাড়তি আসন চাইলে মানা যাবে না। আর বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু জোর দিচ্ছেন ‘যুক্তিসঙ্গত নিষ্পত্তি’র উপরে।

আরও পড়ুন