নওশাদ সিদ্দিকি। — ফাইল চিত্র।
সমঝোতা রক্ষা করার চেষ্টায় প্রার্থী ঘোযণায় ‘বিরতি’ নিল বামফ্রন্ট। আসন এবং প্রার্থী ঘিরে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) সঙ্গে যে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে, তার নিরসন ঘটানোর জন্য আরও একটু সময় নিতে চাইছেন সিপিএম নেতৃত্ব। আইএসএফ নতুন করে সিপিএম তথা বামফ্রন্টকে চিঠিও দিয়েছে। তার প্রেক্ষিতে শুক্রবার কয়েকটি আসনে বামেদের তরফে প্রার্থী ঘোষণার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এই অপেক্ষার সিদ্ধান্তে আবার ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বাম শরিকদের একাংশের মধ্যে!
বামফ্রন্ট প্রার্থী ঘোষণার পরেও তিনটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফ। উত্তর ২৪ পরগনার ৭টি আসনেও তারা প্রার্থী দিয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতার বাইরে বলেই বামেদের অভিযোগ। সেই সঙ্গেই ক্যানিং পূর্ব আসনে সদ্য তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আসা আরাবুল ইসলামকে আইএসএফ প্রার্থী করার তীব্র আপত্তি জানিয়েছে সিপিএম। আরাবুলের প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম প্রকাশ্যেই আপত্তি স্পষ্ট করে দেওয়ার পরে আইএসএফ চিঠি পাঠিয়েছে বাম নেতৃত্বকে। সূত্রের খবর, সেখানে আইএসএফের তরফে বলা হয়েছে, তারা কোন আসনে কাকে প্রার্থী করবে, তা তাদের দলের বিষয়। অন্য দলের দিক থেকে নানা মন্তব্য সেখানে অভিপ্রেত নয়। বামেদের প্রার্থী নিয়ে আইএসএফ যে কথা বলতে যাচ্ছে না, তা-ও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইএসএফের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকীও সেলিমের মন্তব্যের পাল্টা বলেছেন, বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ঐক্যের স্বার্থে আসন সমঝোতা করলেও তাঁরা কোনও দলের ‘লেজুড় বৃত্তি’ করছেন না! সূত্রের খবর, আইএসএফের চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রথম আলোচনায় বামেরা যে সব আসন তাদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল, তার ভিত্তিতেই প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে।
আইএসএফের চিঠি পাওয়ার পরে আলোচনার পথে জট কাটানোর আশায় আরও একটু অপেক্ষা করতে চেয়েছেন সিপিএম নেতৃত্ব। এরই মধ্যে বাম শরিক আরএসপি-র জন্য বাসন্তী, ভরতপুর ও ভগবানপুর আসন ছেড়ে দেওয়া হবে বলে ঠিক হয়েছিল সিপিএমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়। বাসন্তী ও ভরতপুরে সহযোগী অন্য দল প্রার্থী না-তুললে আরএসপি-কেই বামফ্রন্ট সমর্থন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই মতো ওই তিন কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এ দিন পাঠিয়ে দিয়েছেন আরএসপি-র রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়। কিন্তু তালিকা ঘোষণা না-হওয়ায় বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসুর কাছে তাঁরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে সূত্রের খবর। কারণ, দেরি হওয়ায় ভোটের প্রস্তুতি ও প্রচারে প্রভাব পড়ছে।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের বক্তব্য, ‘‘বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে যথাসম্ভব ঐক্যই আমাদের লক্ষ্য। সেই কারণেই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে বামফ্রন্টেরও নিজস্ব দায়বদ্ধতা আছে। তেমন হলে শনি বা রবিবার কয়েকটি আসনে বাম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দিতে হবে।’’