BJP Candidate Kalita Maji

গৃহপরিচারিকা থেকে বিধায়ক! দ্বিতীয় বারে আউশগ্রামবাসীর মন জিতলেন বিজেপির কলিতা

ভোটে হারলেও দল ছাড়েননি মহিলা। গত পাঁচ বছর দলের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছেন। সেই আস্থার জোরেই বিজেপি আবার তাঁকে টিকিট দেয়। এ বার কলিতাও সেই পরিশ্রমের প্রতিদান পেলেন বলে মনে করছে বিজেপি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১৯:৫০
Kalita Maji

জয়ের হাসি। —নিজস্ব চিত্র।

স্বামী কলের মিস্ত্রি। দুই সন্তানকে নিয়ে চার জনের টানাটানির সংসার। বাড়তি কিছু রোজগারের জন্য গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন গুসকরার কলিতা মাজি। এ বার ভোটে জিতে পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনীতিতে নয়া আখ্যান লিখলেন তিনি। বাড়ি বাড়ি কাজ করে মাসে আড়াই হাজার টাকা উপার্জনকারী কলিতা যাচ্ছেন বিধানসভায়।

Advertisement

সংসার চালাতে হিমশিম খেলেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা কলিতাকে টেনে এনেছিল রাজনীতিতে। বছর সাতেক রাজনীতি করার পরে ২০২১ সালে তাঁকে প্রথম বার বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করে বিজেপি। সে বার কলিতার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূলের অভেদানন্দ থান্ডার। ১১ হাজার ৮১৫ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন কলিতা।

ভোটে হারলেও দল ছাড়েননি এই মহিলা। গত পাঁচ বছর দলের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছেন। সেই আস্থার জোরেই বিজেপি আবার তাঁকে টিকিট দেয়। এ বার কলিতাও সেই পরিশ্রমের প্রতিদান পেলেন বলে মনে করছে বিজেপি।

তৃণমূল প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহারকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটে পরাজিত করেছেন কলিতা। বিজেপি প্রার্থীর মন্তব্য, ‘‘মানুষ যে ভাবে আমাকে আশীর্বাদ করেছেন, তা সত্যিই অভাবনীয়। ২০১৪ সাল থেকে বুথকর্মী হিসাবে কাজ করেছি। রাজ্যে যে অত্যাচার, নারী নির্যাতন এবং অসম্মানের ঘটনা ঘটেছে, এ বার সে সবের অবসান ঘটাতে চাই। কোথাও যেন অশান্তি না হয় এবং অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।” তিনি আরও জানান, নিজের সংসারের কাজ সামলে বাড়ি বাড়ি কাজ করেও প্রতিদিন তিনি দলের কাজ করেছেন। মানুষও তাঁকে ভালবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। জনপ্রতিনিধি হয়ে সকলের ভালবাসার ঋণশোধ করতে চান।

কৃষ্ণা পাত্র নামে এক মহিলার বাড়িতে কাজ করতেন কলিতা। ওই গৃহকর্ত্রীর কথায়, ‘‘কলি অত্যন্ত দায়িত্বশীল মেয়ে। ও আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। সব কাজ নিজের হাতে করত। বিপদে-আপদে সব সময় পাশে থেকেছে। আমার স্বামীকে নিজের বাবার মতো দেখত। ওর রাজনৈতিক জয় আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের।”

কলিতার জয় নিয়ে বিজেপি বলছে, বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই উত্থান তাদের রাজনীতির প্রতীক স্বরূপ। নিচুতলার মানুষের স্বপ্নপূরণ, পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয় হল।

Advertisement
আরও পড়ুন