মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। —ফাইল চিত্র।
দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে পশ্চিমবঙ্গে। প্রথম দফার ভোট হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় হবে ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফা ভোটগ্রহণ হবে ১৫২টি আসনে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ১৪২ আসনে। গণনা হবে আগামী ৪ মে।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্য এবং এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্টও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ বাদে বাকি সর্বত্র এক দফাতেই হবে ভোটগ্রহণ। অসম, কেরল এবং পুদুচেরিতে ভোটগ্রহণ হবে ৯ এপ্রিল। তামিলনাড়ুতে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। সব জায়গার গণনাই হবে ৪ মে।
পাশাপাশি কিছু জায়গায় উপনির্বাচনও রয়েছে। গুজরাত, গোয়া, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ডের একটি করে আসনে এবং কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রের দু’টি করে আসনে উপনির্বাচন রয়েছে। গোয়া, কর্নাটক, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরায় উপনির্বাচন হবে ৯ এপ্রিল। গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রে উপনির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল। আট আসনেও ভোটগণনা হবে ৪ মে।
ভুয়ো তথ্য এবং ডিপফেক ভিডিয়ো ছড়ানোর বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দিয়ে রাখল কমিশন। জ্ঞানেশ জানান, এ বিষয়ে নোডাল অফিসারেরা নজর রাখবেন। এই ধরনের ভুয়ো তথ্য বা ভিডিয়ো সমাজমাধ্যম থেকে মুছে ফেলা এবং এফআইআর রুজুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন তাঁরা।
রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞানেশ বলেন, “নির্বাচন আইন মেনে হয়। আদর্শ আচরণবিধি এখন থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর পরে এমন কোনও ঘটনা ঘটলে, কমিশন সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে।”
অতিরিক্ত ভোটার তালিকা কবে আসবে? সে বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞানেশ বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন বিচারকেরা। অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হলে সেই তালিকার নামগুলি বর্তমান ভোটারদের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।” তিনি আরও জানান, ‘বিবেচনাধীন’ থাকা নামগুলি খতিয়ে দেখছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। তাঁরা যে নামগুলিকে অনুমোদন দেবেন, সেগুলি চূড়ান্ত ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গে গত বিধানসভা ভোট আট দফায় ভোট হয়েছিল। এ বার দু’দফায় কেন? সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জ্ঞানেশ বলেন, “কমিশন মনে করছে দফা কমানো প্রয়োজন। সকলের পক্ষে সুবিধাজনক এমন একটি পর্যায়ে এটি নামিয়ে আনা দরকার।”
ভোট ঘোষণা হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই রাজ্য সরকার পুরোহিত এবং মোয়াজ্জিনদের ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করে। সে প্রসঙ্গে জ্ঞানেশ বলেন, “আদর্শ আচরণবিধি এখন থেকে কার্যকর হয়ে গেল। আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার আগে কোনও সরকার কোনও পদক্ষেপ করলে করতেই পারে। কিন্তু এখন থেকে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকবে।”
গুজরাত, গোয়া, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ডের একটি করে আসনে এবং কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রের দু’টি করে আসনে উপনির্বাচন রয়েছে। ওই আটটি আসনের উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে কমিশন। গোয়া, কর্নাটক, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরায় উপনির্বাচন হবে ৯ এপ্রিল। গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রে উপনির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল। আট আসনেরই ভোটগণনা হবে ৪ মে।
পুদুচেরিতে ভোটগ্রহণ হবে ৯ এপ্রিল। গণনা হবে ৪ মে।
তামিলনাড়ুতে এক দফাতেই ভোট হবে। ২৩ এপ্রিল ভোট হবে সেখানে। গণনা হবে ৪ মে।
পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোট হবে। ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। গণনা হবে ৪ মে। প্রথম দফায় ভোট হবে ১৫২টি আসনে। দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হবে ১৪২টি আসনে।
কেরলে ৯ এপ্রিল ভোট। কেরলেও এক দফাতেই হবে নির্বাচন। গণনা হবে ৪ মে।
অসমে ভোট হবে এক দফায়। ৯ এপ্রিল ভোট হবে অসমে। গণনা হবে ৪ মে।
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন জানায়, কোনও ভোটার মোবাইল নিয়ে বুথে প্রবেশ করতে পারবেন না।
পশ্চিমবঙ্গে নতুন ভোটার (১৮-১৯ বছর বয়সি) রয়েছেন ৫ লক্ষ ২৩ হাজার জন। ২০-২৯ বছর বয়লি ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৩১ লক্ষ জন।
এসআইআর প্রসঙ্গে জ্ঞানেশ জানান, এর লক্ষ্য ছিল যাতে কোনও বৈধ ভোটার বাদ না পড়েন। একই সঙ্গে যাতে কোনও অবৈধ ভোটার থেকে না যান, তা-ও নিশ্চিত করার জন্য এসআইআর করা হয়েছে।
পাঁচ রাজ্যে ভোটের জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটকর্মী নিয়োগ করছে কমিশন। নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে প্রায় সাড়ে আট লক্ষ। ভোটের জন্য প্রায় ৪৯ হাজার মাইক্রো অবজার্ভার, ১,৪৪৪ জন অবজ়ার্ভার, ৪০ হাজার গণনাকর্মী, ২১ হাজার সেক্টর অফিসার এবং গণনার জন্য ১৫ হাজার মাইক্রো অবজ়ার্ভার নিয়োগ করা হচ্ছে।
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আপাতত ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৩ কোটি ২৮ লক্ষ। মহিলা ভোটার রয়েছেন ৩ কোটি ১৬ লক্ষ। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১,১৫২ জন।
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ রাজ্য এবং এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। সব মিলিয়ে ৮২৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন হবে।
জ্ঞানেশ বলেন, “গত কয়েক দিনে কমিশন ভোটমুখী সব রাজ্য ঘুরে এসেছে। সব রাজ্যে ঘুরে বৈঠক করে এসেছে। নতুন ভোটারদের সঙ্গেও কথা বলেছে কমিশন।”