—প্রতীকী চিত্র।
গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুও হয়েছে অনেকের। অভিযোগও উঠেছে যে বেআইনি বাজি কারখানার আড়ালে বিস্ফোরক মজুত ও বোমা তৈরি হয়। এ বার ভোটের আগে থানাগুলিকে রাজ্য পুলিশের নির্বাচনী সেলের নির্দেশ, কোথায় কোথায় বেআইনি বাজি কারখানা চলছে, সে ব্যাপারে রিপোর্ট দিতে হবে। ওই কারখানায় তল্লাশি হয়েছে কি না, কত বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত হয়েছে, কারখানা ‘সিল’ করা হয়েছে কি না, তা-ও রিপোর্টে জানাতে বলা হয়েছে।
পুুলিশের খবর, বেআইনি কারখানা ছাড়াও বেআইনি অস্ত্র কারখানা ও অস্ত্রের ভাঁড়ার আছে কি না, তা-ও জানাতে বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রেও বাজেয়াপ্ত হওয়া অস্ত্র ও গুলির হিসাব দিতে বলা হয়েছে। আজ, শুক্রবারের মধ্যেই কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের থানাগুলিকে ওই রিপোর্ট জমা দিতে হবে বলে সূত্রের খবর। কোথাও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে কিছুদিন তৎপরতা থাকে। তারপর ফের পুরনো অবস্থা ফিরে আসে। ওই বেআইনি কারখানাগুলির পিছনে রাজ্যের শাসক দলের নেতাদের একাংশ মদত দেয় বলেও বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেছে। এ বার ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন ওই কারখানাগুলির উপরে নজর দিয়েছে। তাই রাজ্য পুলিশের নির্বাচনী সেল এই রিপোর্ট তলব করেছে বলে পুলিশকর্তাদের একাংশের দাবি। পুলিশের একাংশ মনে করছে, থানাগুলি সত্যি অভিযান করেছে কি না, তা রিপোর্টে স্পষ্ট হবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করতে পারে কমিশন।
সূত্রের খবর, ‘দাগি’ অপরাধীদেরও নজরবন্দি করার ক্ষেত্রে কড়া মনোভাব নিয়েছে কমিশন। কোন থানা এলাকায় কতজন এমন অপরাধী আছে, তা খুঁজে বের করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সেই তথ্য চাওয়া হয়েছে। কতগুলি পরোয়ানা এখনও কার্যকর হয়নি, তাও জানাতে বলা হয়েছে। পুলিশের একাংশ মনে করছে, অন্যান্য বছর কমিশন ‘দাগি’ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করতে বললেও এ বার যেন তেড়েফুঁড়ে লেগেছে। আগে থেকেই এ ব্যাপারে কড়া হওয়ায় ভোটের সময় দুষ্কৃতীদৌরাত্ম্যে লাগাম টানা যেতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে লোকসভার ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে দুষ্কৃতীদের ‘বোতলবন্দি’ করতে নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন।