SIR in West Bengal

শমসেরগঞ্জে ৯১ হাজার নাম বাদ, মেটিয়াবুরুজ়ে বাতিল ৭৮ হাজার! ভবানীপুর, নন্দীগ্রামে কত, সবচেয়ে কম বাদ কোথায়

চূড়ান্ত তালিকায় বিবেচনাধীন ছিল এবং পরে বাদ পড়েছে, এমন নামের হিসাব প্রকাশ করেছে কমিশন। আগেই জানা গিয়েছিল, সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:০৪
বিবেচনাধীন তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় ট্রাইবুনালের লাইনে ভোটারেরা। নদিয়ার রানাঘাটে।

বিবেচনাধীন তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় ট্রাইবুনালের লাইনে ভোটারেরা। নদিয়ার রানাঘাটে। ছবি: পিটিআই।

বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ধরে বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের হিসাব প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জ কেন্দ্রে। ওই কেন্দ্রে শুধু বিবেচনাধীন তালিকা থেকেই বাদ গিয়েছে ৭৪ হাজার ৭৭৫ জনের নাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম চূড়ান্ত তালিকার সঙ্গে এই বিবেচনাধীন তালিকার হিসাব মেলালে শমসেরগঞ্জে মোট বাদ পড়া নামের সংখ্যা ৯১ হাজার ৭১২ জন!

Advertisement

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কমিশন পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর প্রথম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল। তার পর ধাপে ধাপে প্রকাশিত হয়েছে একাধিক অতিরিক্ত তালিকা। প্রথম তালিকায় বিবেচনাধীন ছিল এবং পরে বাদ পড়েছে, এমন নামের হিসাবও প্রকাশ করল কমিশন। আগেই জানা গিয়েছিল, সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে। বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক হিসাব ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের ক্ষেত্রেও শীর্ষে সেই মুর্শিদাবাদ। প্রথম দশে ওই জেলার সাতটি কেন্দ্র রয়েছে। শমসেরগঞ্জের পর লালগোলায় বাদ পড়েছে ৫৫,৪২০টি নাম (মোট বাদ ৬৮,৪৭৫ জন)। এ ছাড়া ভগবানগোলায় ৪৭,৪৯৩, রঘুনাথগঞ্জে ৪৬,১০০, ফরাক্কায় ৩৮,২২২, সুতিতে ৩৭,৯৬৫ এবং জঙ্গিপুরে ৩৬,৫৮১টি নাম বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর ফলে ভগবানগোলায় ৫৭ হাজার, রঘুনাথগঞ্জে ৬১ হাজার, ফরাক্কায় ৫৪ হাজার, সুতিতে ৫৪ হাজার এবং জঙ্গিপুরে ৪৯ হাজার নাম মোট বাদ গিয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মেটিয়াবুরুজে বিবেচনাধীন তালিকা থেকে ৩৯,৫৭৯টি নাম বাদ গিয়েছে। এর ফলে সেখানে মোট বাদ পড়েছে ৭৮,৫২৮ জনের নাম। মালদহের মোথাবাড়িতে ৩৭,২৫৫টি এবং রতুয়ায় ৩৫,৫৭৩টি নাম বাদ গিয়েছে বিবেচনাধীন তালিকা থেকে। এই দুই কেন্দ্রে মোট বাদ পড়েছে যথাক্রমে ৪৭ হাজার এবং ৫৬ হাজার নাম।

পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়ার মতো জেলাগুলিতে বিধানসভা কেন্দ্রের বিচারে বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা সবচেয়ে কম। পুরুলিয়ার মানবাজার বাদের তালিকার একেবারে শেষে রয়েছে। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে সেখানে বাদ গিয়েছে মাত্র ৭১টি নাম। মোট বাদ পড়েছে ১৫,৯১০ জনের নাম।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও বিবেচনাধীন অনেক নাম বাদ গিয়েছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ৩,৮৯৩ জনের নাম মমতার কেন্দ্র থেকে বাদ পড়েছে বিবেচনার পর। মোট বাদ পড়া নামের সংখ্যা ৫১ হাজার ৫ জন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্র নন্দীগ্রামে বিবেচনাধীন ৩,৪৬১ জনের নাম বাদ গিয়েছে। সেখানে মোট বাদ পড়েছে ১৪,৪৬২ জনের নাম।

এসআইআর-এর তথ্যগত অসঙ্গতির নিষ্পত্তি নিয়ে রাজ্য সরকার এবং কমিশনের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্টকে দায়িত্ব দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিষ্পত্তির কাজে নিয়োগ করেন। তাঁরাই বিবেচনাধীন তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছেন। এর বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল। আদালত জানিয়েছে, নাম বাদ পড়ার পর কেউ চাইলে ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু সেখানে সমস্যার কতটা সমাধান হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় অনেকে। এই পরিস্থিতিতে এত নাম বাদ দিয়ে কী ভাবে ভোট হবে, প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক দলগুলি। মমতা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আবার আদালতে যাবেন।

Advertisement
আরও পড়ুন