নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে যজ্ঞে ঘৃতাহুতি দিলেন মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। —নিজস্ব ছবি।
ধর্মকে আফিমের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন কার্ল মার্ক্স। সে আফিম নেশার আফিম না কি বেদনানাশক আফিম, তা নিয়ে মার্ক্সবাদী মহলে বিতর্কও রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএম) পুজোআচ্চা নিয়ে তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। নাস্তিকতার কড়া অবস্থান থেকে সরে এসে বর্তমানে সিপিএম নেতাদের পুজোর উদ্বোধনে বা পুজোকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা যায় তুলনামূলক বেশি। উত্তরপাড়ায় ভোটপ্রচারের বেরিয়ে বামেদের প্রার্থী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কেও দেখা গেল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। যজ্ঞে ঘৃতাহুতিও দেন সিপিএম নেত্রী।
রবিবার ভোটপ্রচারে বেরিয়ে মিনাক্ষী তাঁর কমরেডদের নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন উত্তরপাড়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। যুব গোষ্ঠীর মাঠে মারোয়াড়িদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন তিনি। সৌজন্য বিনিময় করেন সকলের সঙ্গে। অনুষ্ঠান কমিটির পক্ষ থেকে সিপিএম প্রার্থীকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়। পরে যজ্ঞে ঘৃতাহুতিও দেন মিনাক্ষী। তাঁকে আশীর্বাদ করেন পুরোহিত। এ নিয়ে যদি প্রশ্ন ওঠে? প্রশ্ন শুনেই মিনাক্ষীর তাৎক্ষণিক জবাব, ‘‘যার যেটা রুচি, সে সেটা করবে। আমাদের পার্টি এই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে শেখায়নি।’’ শনিবারের প্রচারের সময়েও ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছিলেন উত্তরপাড়ার সিপিএম প্রার্থী।
শুধু মিনাক্ষী-ই নন, সিপিএমের আর এক তরুণ মুখ, পানিহাটি বিধানসভার প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তও পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেছেন। পানিহাটির মহোৎসবতলা ঘাটে শ্রীচৈতন্যদেবের মন্দিরে পুজো দেন তিনি।
অতীতে দেখা গিয়েছে শ্রীদীপ ভট্টাচার্য নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে নামসংকীর্তনে যোগ দিয়েছেন। রাজ্যে যে কোনও ভোটের সময় বর্তমানে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের পুরনো একটি ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, সেলিমের কপালে রসকলি। ছবিটি সাত বছর আগে রায়গঞ্জ লোকসভা নির্বাচনের সময়কার। ভোটপ্রচারে বেরিয়ে বাম প্রার্থী সেলিমকে রায়গঞ্জে সংকীর্তনের আসরে দেখা গিয়েছিল। সে নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষের জবাবে সিপিএম নেতা জানিয়েছিলেন, অযথা বিতর্কের চেষ্টা হয়েছে। তিনি ভোটপ্রচার করছিলেন। সেই সময় কীর্তনের আসর থেকে এক অত্যুৎসাহী বেরিয়ে এসে তাঁর কপালে চন্দনের তিলক কেটে দিয়েছিলেন। সেলিমের সেই ছবি এই বিধানসভা ভোটের মুখেও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। ক্যাপশনে লেখা, ‘হরিনামে মত্ত কমিউনিস্ট সেলিম।’
ধর্মাচরণ নিয়ে রাজ্য সিপিএমে বিতর্ক কম নেই। প্রয়াত মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর তারাপীঠের মন্দিরে পুজো দেওয়া নিয়ে দলে বিতর্ক হয়েছিল। সিপিএমে থাকাকালীন রেজ্জাক মোল্লার হজযাত্রা নিয়েও কম হইচই হয়নি। প্রয়াত মন্ত্রীর মন্তব্য ছিল, ‘আগে মহম্মদ, পরে মার্ক্স।’