মালদহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘লোকসভাটা বিজেপিকে দিয়েছেন। কংগ্রেসকে দিয়েছেন। বিধানসভাটা আমাদের দিন, এই আবেদন থাকবে আমার।’’
সভায় একাধিক বার নাম করে এবং নাম-না করে অমিত শাহকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘‘ওয়াকফ নিয়ে কেউ কেউ ভুল বোঝাচ্ছে। আমরাই ফাইট করেছিলাম। এখন ওটা ইমামদের হাতে। আমরা বিজেপির হাতে ছাড়িনি। কিন্তু এই মোটাভাই পারে না এমন কাজ নেই। ও ধ্বংস করতে জানে। ভীষণ হিংসুটে লোক, ও পারে না এমন কাজ নেই। তবে যতই চেষ্টা করো, জিতবে না ভাই।’’
‘‘লক্ষ্মীর ভান্ডার সারাজীবন থাকবে। তাই তৃণমূল সরকার দরকার। যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতে যাঁদের দেরি হচ্ছে, তাঁরাও পাবেন। তাঁদের কাজের ব্যবস্থাও আমরা করব।’’
অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্ত দিয়ে নেশাজাত দ্রব্য, টাকা ইত্যাদি ঢুকিয়ে রাজ্যকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মমতা বলেন, ‘‘আমি শুনেছি, বাইরের রাজ্য থেকে বাসে-ট্রেনে করে লোক ঢোকানো হচ্ছে। নাকা চেকিং কী হচ্ছে জানি না। বিজেপি করলে ছেড়েও দিচ্ছে।’’
মমতা বলেন, ‘‘লাস্ট ভোট না পড়া পর্যন্ত বুথে পাহারা দেবেন। জিতব আমরাই। তৃণমূল না থাকলে বাংলায় শান্তি থাকবে না। মাছ থাকবে না। মাংস থাকবে না। বাংলা থেকে ওদের বিদায় দিয়ে দিল্লি যাব।’’
কংগ্রেসকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘‘এখন তরমুজ-খোরমুজ আবার এক হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেস! লজ্জা করে না? যখন এসআইআরের বিরুদ্ধে লড়েছিলাম, দিল্লি যেতে বলেছিলাম। যায়নি।’’ তৃণমূলেনেত্রীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বামন-বিজেপি এবং কংগ্রেস এক হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ছে। পাশাপাশি কমিশনকে নিশানা করেন তিনি। মমতা বলেন, অন্য রাজ্যেও অফিসার চেঞ্জ হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাটা দেখুন।
গাজলে মমতা বলেন, ‘‘মুসলমানরা যদি সত্যিই খারাপ হয়, তাহলে ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী যখন সৌদি আরবে যান, সেখানে গলা তো জড়ান! তখন মনে থাকে না ওটা হিন্দু না মুসলিম? আমরা সকলে দুবাই গিয়েছে। ওরা আমাদের সকলকে ভালবাসে। কিন্তু মোদীবাবু যখন ওখানে একপাতে খান, তখন আপনার জাত যায় না? একদিকে মুখ আর একদিকে মুখোশ!’’
‘‘এসআইআরে মৃতদের আত্মা শান্তি পাবে যদি তৃণমূলকে ভোট দেন।’’ গাজলে বললেন মমতা। তাঁর দাবি, এসআইআর বিজেপির একটি ‘প্ল্যান’!
মমতা মিম-কে নিশানা করেছেন মালদহের গাজলে। তিনি বলেন, ‘‘এসআইআরের সময় ঘোড়ার ডিমগুলো কোথায় ছিল? যখন মানুষের নাম কাটছিল এসআইআরে, তখন কোথায় ছিল হায়দরাবাদের এই নেতারা?’’
গাজলে সৃষ্টিশ্রী ময়দানে সভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বিধানসভা ভোটে গাজলে তৃণমূলকে ১৭০০-র বেশি ভোটে হারিয়ে জয়লাভ করেছিল বিজেপি।
শনিবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম জনসভা করেন মালদহের মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রে। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী কবিতা মণ্ডল। তার পরে মালতীপুর এবং রাতুয়া বিধানসভার দুই প্রার্থী আব্দুর রহিম বক্সী এবং সমর মুখোপাধ্যায়ের সমর্থনে। তৃতীয় সভা গাজলে প্রসেনজিৎ দাসের সমর্থনে।