অমিত শাহ। — ফাইল চিত্র।
শ্যামপুরের সভা থেকেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু করার কথা বললেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘চার তারিখের পর এখানে চার বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হবে।’’
শাহ বলেন, ‘‘মোদীজি অযোধ্যায় রামমন্দির বানিয়েছেন। আর অন্য দিকে, হুমায়ুন কবীরকে দিয়ে এখানে মমতাদিদি বাবরি মসজিদ বানাতে চাইছেন। কান খুলে শুনে রাখুন, এক জনও বিজেপি কর্মী বেঁচে থাকলে পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ বানাতে দেবে না। এটা ভারতের ভূমি, এখানে কোনও বাবরি মসজিদের জায়গা নেই। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তৈরি হবে তো সেটা দুর্গামন্দির।’’
শাহ বলেন, ‘‘কৃষকেরা চিন্তা করবেন না। ১ মে-র পর তাঁদের থেকে ৩,১০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল দামে সব ধান কিনে নেওয়া হবে। প্রতি বছর কৃষকদের ৯ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। তা ছাড়া কাটমানি বন্ধ করে সেই টাকাও কৃষকদের খাতে দেওয়া হবে।’’
শাহ বলেন, ‘‘কিছু করতে গেলেই ভাইপো-ট্যাক্স দিতে হয়। সব জায়গায় সিন্ডিকেটরাজ চলছে। ৪ তারিখ আপনারা বিজেপির সরকার বানিয়ে দিন, সব সিন্ডিকেট বাংলার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’’
শ্যামপুরের সভায় শাহ বলেন, ‘‘আমি গুন্ডাদের ভয় দেখাই তো দিদি আমার উপর রেগে যান। কাল বলছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে আমি গুন্ডাদের ভয় দেখাচ্ছি।’’ তার পরেই শাহের প্রশ্ন, ‘‘তো বলুন কী করব? কোলাকুলি করব? দিদি, আপনার গুন্ডাদের গ্যারাজে ঢুকিয়ে দিন। মা-বোনদের গায়ে হাত লাগলে কাউকে ছাড়া হবে না।’’
শাহ বলেন, ‘‘৪ তারিখ বিজেপির সরকার তৈরি করুন। দিদিরা আপনাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে ঢুকবে। ৫ তারিখের পর মহিলারা রাতে নির্ভয়ে বার হতে পারবেন।’’
জয় শ্রীরাম, বন্দে মাতরম বলে বক্তৃতা শুরু করেন শাহ। তার পরেই তৃণমূলকে হারানোর ডাক। তিনি বলেন, ‘‘আমি শ্যামপুরের মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। হেলিকপ্টার থেকে দেখেছি সভাস্থল, রাস্তা— সব জায়গায় লোকভর্তি। এতেই বোঝা যাচ্ছে মমতাদিকে বাই বাই করার সময় এসে গিয়েছে।’’
শ্যামপুরের জনসভায় পৌঁছোলেন শাহ। মঞ্চে তাঁকে স্বাগত জানালেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
শনিবার রাজ্যে ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। রয়েছে জোড়া জনসভা এবং জোড়া রোড শো। প্রথমে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে একটি সভা করেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি চলে আসেন হাওড়ার শ্যামপুরে। দিনের শেষে দু’টি রোড শো-ও রয়েছে শাহের।