মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
‘‘বিজেপি মনে রেখো, বদলা গণতন্ত্রের মাধ্যমে নেব। যতই মেশিন বদলাও, কিছু হবে না। মা-বোনেদের স্বার্থে, মাছ খাওয়ার স্বার্থে মানুষ বিজেপি-কে ভোট দেবেন না। ’’
‘‘আপনাদের দিয়ে লাইন দেয়। খেলা হবে। ২০২৪-এর তালিকায় কেন এখানে ভোট হবে না? তিন মাস আগে নোংরা খেলা খেলতে নেমেছে। খেলা হবে। জীবন রক্ষা করার জন্য সকাল সকাল ভোট দিন। তৃণমূলকে ভোট দিন।’’
‘‘অশান্তির মধ্যে যাবেন না। এলাকা থেকে ৪০ জন ছেলেকে তুলে নেবে। যেটা মালদহে করেছে। যারা দোষ করেছে, তাদের গ্রেফতার করোনি। নির্দোষদের গ্রেফতার করছ কেন? ইডি,সিবিআই, এনআইএ, বিএসএফ, বর্ডার কার হাতে? মোটাভাইয়ের হাতে! তুমি তৃণমূলকে চোর বলো। বর্ডার থেকে টাকা কোথায় যায় মোটাভাই? তুমি তখন মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে বসে থাকো!’’
‘‘বাংলায় কথা বললেই অনুপ্রবেশকারী। তোমরা কারা? ভোটের সময় আমেরিকা থেকে আসে। অন্য জায়গা থেকে আসে। বুথ দখল করে, গুন্ডামি করে।’’
‘‘এরা ধর্ম মানে না। নিজের ধর্ম প্রচার করে। বকধার্মিক। মাংস খেতে দেবে না বলছে। মা কালীর ভোগ যখন আমার বাড়ি আসে, দেখি মাছ, মাংস থাকে। তারাপীঠে ভোগ দিয়ে দেখেছি, মাছের মাথা ছিল।’’
‘‘রাস্তায় লড়াই করব। মানুষকে বোঝাব। ফর্ম ভরব। নিশ্চিন্তে থাকুন। আমার প্রতি বিশ্বাস আছে? তৃণমূলই ভরসা। আমরা থাকতে কারও গায়ে হাত পড়বে না। মা শীতলার ঝাড়ু রয়েছে। জগন্নাথ ধামের ঝাড়ু আমার টাকা দিয়ে কিনে দিয়েছি। বাড়িতে ঝাড়ু রয়েছে তো? কেউ আটকালে রাস্তা পরিষ্কার করুন। গণতন্ত্রের রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।’’
‘‘বলে মাছ খাবে না? নিজেরা ছানা খাবে, গরিব মানুষ মাছ খায়, সেটা সয় না। বাংলায় কথা বললে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশে মারে। রাজস্থানে পরশু মালদহের একটি ছেলেকে খুন করা হয়েছে। ভোটের জন্য যে পরিযায়ী শ্রমিকেরা আসতে চাইছিল, তাঁদের আসতে দেওয়া হচ্ছে না। ট্রেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। উত্তরপ্রদেশে বাস আটকে দেওয়া হচ্ছে। যেমন করে হোক, আসুন। কোভিডের সময়ে যেমন এসেছেন, রমজান, দুর্গাপুজোয় যেমন আসেন, সেই ভাবে চলে আসুন। আপনার অধিকার কাউকে দেবেন না।’’
‘‘ভোটের সময় কংগ্রেস, বিজেপি ক্যাশ দেয়। তার পরে গ্যাস, মানে ভাঁওতা। আপনাদের নাম কেটেছে বলে সহমর্মিতা জানাচ্ছি। পার্টি অফিস থেকে ফর্ম চেয়ে আবেদন করুন। মিটিং মিছিল পরে করবেন। আগে নাম তুলুন। বাংলাকে বাঁচাতে হবে। এটাই আমার প্রায়োরিটি। ’’
‘‘এ বারের ভোট অন্যকে দেবেন না। লোকসভায় কংগ্রেস এবং বিজেপি ভাগাভাগি করে জিতেছে। এরা বাংলায় বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করে চলে। পরিষ্কার বলছি, এই ভুল করবেন না। ওরা ডিটেনশন ক্যাম্প করবে। এনআরসি করবে। মানুষকে বিপাকে ফেলবে। তৃণমূল সরকার থাকলে একটি মানুষকেও অত্যাচার করা হবে না। শিবিরে পাঠানো হবে না।’’
‘‘ট্রেন, বাসে করে যাতে গুন্ডা না ঢোকে, দেখবেন। বাইরে থেকে কারা আসছে, কোন হোটেলে থাকছে, দেখবেন। টাকা আমদানি হচ্ছে বাইরে থেকে। কেন্দ্রীয় সরকার এর সঙ্গে যুক্ত। এজেন্সিকে দিয়ে এ সব করছে। আমি ভয় পাইনি। আপনারাও পাবেন না। বাংলায় জিতে বাংলাকে টার্গেট করেছে। আগামী দিন তৈরি থাকুন মোটাভাই। আমরা দিল্লিকে টার্গেট করছি। বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ। হঠাৎ করে আচমকা দেখবেন, নিজেরাই নিজেদের পতন ঘটাবেন। অপেক্ষা করব সেই দিনের জন্য।’’
‘‘কাউকে বলে, উচ্চ জায়গায় নিয়ে যাব। কাউকে বলে, না করলে ইডি, সিবিআই করব। এখন থেকে ইডি-তে ডাকছে কেন? এদের বলছে, জিতে গেলে, যদি আমাদের আসন কম থাকে, তোমাদের ভোট দিতে হবে। ঘেঁচু দেবে। বাংলাকে চেনো না। চিনতে গেলে তপস্যা করতে হবে।’’
‘‘নির্বাচনে অনেক টাকা আসে। সরকারের নাম করে অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইতে পারে। দেবেন না। লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা নিয়ে নেবে। নাম কাটবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে গ্রামে গ্রামে ভোট আটকানোর চেষ্টা করবে। ইভিএম কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি করে। তা খারাপ হলে ভোট করতে দেবেন না। বলবেন, নতুন আনুন। গণনার চার দিন যদি লোডশেডিং করে, মা-বোনেরা রাত জেগে পাহারা দিন। নেতারা নয়, তৃণমূলের কর্মীরাই সম্পদ। রাত জেগে কাজ করতে হবে।’’
ইডি আর সিবিআই, মোটাভাই। তাঁর কাজ কী? সব মানুষের নাম কাটো। বাংলাকে বিক্রি করো। অফিসারদের মধ্যে ঝগড়া লাগাও। দাঙ্গা করে যারা ক্ষমতায় আসে , তারা কি মানুষের দুঃখ বোঝে? গণতন্ত্রে বদলা নিতে হবে? শুধু দেয় ভাঁওতা। শয়তান সরকার।’’
‘‘কংগ্রেসকে অনেক বার বলেছি, চলো কমিশনে গিয়ে প্রতিবাদ করি। সে দিন তো যাওনি। আজ প্রার্থী দিয়ে জিতবে! মানুষের বিপদে সঙ্গে থাকবে না!’’
‘‘জাজেদের কাছে নিজেরা যাবেন না। দুটো কমিউনাল পার্টি এসে জাজেদের ঘেরাও করে পালিয়ে গেল। মাঝখান থেকে স্থানীয় ছেলেমেয়েরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। এনআইএ-র নাম করে ৪০-৫০ জনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।’’
‘‘প্রতিবাদও করা যাবে না। প্রতিরোধও করা যাবে না। কমিশনের সামনে ডেপুটেশন দিতে পারবে না। সব কণ্ঠরোধ করেছে। মানুষের কণ্ঠরোধ করা যায় না। ভোটাধিকার সংবিধানের অধিকার। আপনাদেরও কাজ করতে হবে। ট্রাইবুনালে নাম পাঠাবেন। দরখাস্ত পাঠাবেন। বাকি আইনজীবী দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। বাচ্চুদা সিনিয়র আইনজীবী। তাঁকে বলেছি। ওদের পরিকল্পনায় নেই, এমন কিছু নেই। এদের মতো নোংরা নেই। ছি-ছি বিজেপি!’’
‘‘যার নাম কেটেছে, ট্রাইবুনালে নিয়ে যান। ৫৮ লক্ষ আগে কেটেছে। ৬০ লক্ষ জেনুইন ভোটার। রাস্তায় ধর্না দিয়েছি। সুপ্রিম কোর্টে বিচার চাইতে যাই। ২২ লক্ষ নাম উঠেছে ৬০ লক্ষের মধ্যে। বাকিরা আবেদন করুন।’’
‘‘এই সরকার দিল্লিতে আর নেই দরকার। আগে পরিবর্তন করতে হবে। যাঁদের নাম কেটেছে, দলীয় নেতাদের অনুরোধ করব, শুধু প্রচার করলে হবে না। এটাও বড় কাজ। দিল্লি থেকে লোকেরা দেখে দেখে সংখ্যালঘু, তফসিলি, জনজাতিদের ভোট বাদ দিয়েছে। বিজেপি কোনও ধর্মে বিশ্বাস করে না। ওদের ধর্ম একটাই, মানুষ মারার ধর্ম। অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি, এখানে দাঁড়িয়ে সভা করে যাঁদের নাম কেটেছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন। আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফোন করে নির্দেশ দেন, মালদহ, মুর্শিদাবাদে ভোট কাটুন। আমার কেন্দ্রেও ভোট কেটে দিয়েছে ৪০ হাজার। সব অফিসারকে বদলে দিয়েছে। ৫ রাজ্যে ভোট হচ্ছে। ৫০০ অফিসার বদলেছে। বাংলাতেই বদলেছে ৪০০ জনকে।’’
‘‘এসআইআরে অনেকের নাম কেটেছে। কার নাম কেটেছে হাত তুলবেন?’’ মমতা ছবি তোলার নির্দেশ দিলেন।
‘‘তা হলে ভোট দেবে কে? বিজেপির ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন? সব মানুষের ভোটাধিকার কেটে দেবেন? বিজেপির দালালি করতে গিয়ে গণতন্ত্রের পরিহাস হচ্ছে। হামটি ডামটি শয়তানের দল। অত্যাচারী সরকার। মানুষকে লাইন দেওয়ার সরকার। গণতান্ত্রিক অধিকার কাড়ার সরকার।’’
‘‘মালদহে গঙ্গায় ভাঙন বড় সমস্যা। রোখা খুব মুশকিল। আগুন আর জল, সামলানো মুশকিল। নদীর ভাঙন এক বার গড়ে, এক বার ভাঙে। পরিকল্পনা করছি। রিসার্চ টিম কাজ করছে। যতটা পেরেছি, করেছি। আরও করব।’’
‘‘কেন্দ্র ১০০ দিনের টাকা বন্ধ করেছে। ৪ বছর ধরে টাকা দিচ্ছে না। আমাদের বঞ্চনা করছে। বাংলাকে বিজেপি সরকার বঞ্চনা করতে চায়। গরিব লোকের বাড়ি তৈরির টাকা বন্ধ করেছে। জলসত্রে মানুষ জল খাবে, তা-ও বন্ধ করেছে। মহাত্মাশ্রী প্রকল্প করা হয়েছে। ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় রাস্তার মানোন্নয়ন করা হয়েছে। সকলের কাঁচা বাড়ি আগামী দিনে সরকার পাকা করে দেবে। সকলের বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে যাবে। দুয়ারে স্বাস্থ্য করব।’’
‘‘আপনার এলাকায় চিকিৎসক, নার্সেরা আসবেন। দুয়ারে স্বাস্থ্য করে দেব, যাতে কার কী রোগ হয়েছে জানতে পারেন, পরীক্ষা করাতে পারেন। লক্ষ্মীর ভান্ডার আজীবন চলবে। তফসিলি বন্ধু চলবে। জয় জোহার চলবে। কৃষক ভাতা চলবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পরিকল্পনা চলবে। এখান থেকে আম এখন বিদেশে যাচ্ছে। দিল্লি, কলকাতায় মেলা করে দিই।’’
‘‘মানিকচকে পানীয় জল দিয়েছে। সব সম্প্রদায়ের জন্য অনেক কাজ করা হয়েছে। পরিকাঠামোর কাজ করা হয়েছে। কত প্রকল্প আছে। সেগুলি আলাদা। তার জন্য আলাদা টাকা। গত ভোটে বলেছি, লক্ষ্মীর ভান্ডার করব। করেছিলাম। ৫০০ এবং ৭০০ দিয়ে শুরু হয়। এখন ১৫০০, ১৭০০ টাকা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্মার্ট কার্ড করেছি। বিনা পয়সায় খাদ্য পাবেন, বলেছি। হয়েছে। পরিবারের মহিলার হাতে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যসাথী দেওয়া হবে। হয়েছে। রেশন যাচ্ছে। দুয়ারে সরকার, আমার পাড়া আমার সমাধান পেয়েছেন তো! বুথে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে।’’
‘‘যখন আপনারা নিজেদের বাগানের আম পাঠান, সকলকে ভাগ করে দিই। যাদের টাকা নেই, তাদের দিই। বাড়িতে তিনটে আমগাছ পুঁতেছি। আম, তুলসী— সব গাছ ভালবাসি। গাছের মধ্যে প্রাণ আছে, বিশ্বাস আছে। ভালবাসা আছে।’’
‘‘আপনাদের জন্য সরকার সার্ভে করেছে। অ্যাকাডেমি হোক। আমি চাই, আপনারাও অ্যাকাডেমির মাধ্যমে শিক্ষা পান। এ মাটি গৌড়ের মাটি। গৌড়বঙ্গের রাজধানী ছিল মালদহ। সেই মালদহকে সম্মান করি। কত আম ফলেছে।’’
‘‘সাবিত্রী আজ অসুস্থ। আসতে পারেনি। ও ভুতনির চক নিয়ে অনেক বার কথা বলেছে। সে শয্যাশায়ী। তাই টিকিট দিতে পারিনি। নতুন প্রার্থী কবিতাকে টিকিট দিয়েছি। ও সাবিত্রীর সঙ্গে দেখা করেছে। সাবিত্রী বলেছে, আমার কথা দিদিক বোলো। এখানে আসব, ওকে ভুলে যাব কী করে?’’
‘‘মানিকচক আজ নির্বাচন বলে নয়, ভুতনির চকে এসেছি। যখন গঙ্গার গতি পরিবর্তন হয়, সব ভেসে যায়। আমি বারবার এসেছি। কেউ আসেনি। তখনই ঠিক করি, সেতু তৈরি করব। ভাঙন রোধে অনেক কাজ করেছি। ’’