পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ইস্তাহার প্রকাশের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
সুনির্দিষ্ট ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় যোগ্যদের মেধার ভিত্তিতে স্থায়ী চাকরি নিশ্চিত করা হবে।
যে সব জমির কাজ আটকে আছে, ৪৫ দিনের মধ্যেই ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তা ছেড়ে দেবে। মাফিয়ারাজের মোকাবিলার রোড ম্যাপ সরকারে এলে প্রথম ছ’দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।
রাজ্যে বন্দেমাতরম মিউজিয়াম গঠন করার কথাও জানালেন অমিত শাহ।
উত্তরবঙ্গে এমস, আইআইটি, আইআইএম এবং ফ্যাশন ডিজ়াইনিংয়ের প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে আলাদা আলাদা জেলায়।
মহিলাদের সুরক্ষায় বিশেষ স্কোয়াড গঠন করা হবে। আলু চাষিদের জন্যেও বিশেষ ব্যবস্থা করার আশ্বাস রয়েছে বিজেপির ইস্তাহারে।
সকল রাজনৈতিক হিংসার তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দিয়ে কমিটি গড়ে দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করা হবে।
নতুন রোজগারের পথ খুলবে বিজেপি। তাতে বেকারত্ব ঘুচবে। বেকারদের মাসে তিন হাজার টাকা করে অর্থসাহায্য করা হবে।
বাংলায় সকল নাগরিকের জন্য এক আইন নিশ্চিত করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য সীমানা সুরক্ষিত করার পাশাপাশি গরু পাচার একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সকল সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিএ সুনিশ্চিত করা হবে। ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে।
অনুপ্রবেশে ‘জ়িরো টলারেন্স’। আমরা ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট নীতির মাধ্যমে বেছে বেছে অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে বার করব। দেশকে সুরক্ষিত করব।
শাহ বলেন, ‘‘বাঙালি নববর্ষের দিন সঙ্কল্পের সঙ্গে আমাদের প্রচারের যাত্রা শুরু হবে। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের দুঃস্বপ্ন ঘুচবে। আগামী পাঁচ বছরে বিজেপি সরকার এ রাজ্যের বিকাশের রাস্তা খুলবে। মমতা দিদি ভয়, ভ্রষ্টাচার প্রতিস্থাপিত করেছেন। এটা আইনের শাসনের ভরসা। রোজগারের ভরসা। সোনার বাংলা তৈরি করব আমরা। আমার বিশ্বাস, বাংলার জনতা আমাদের এখানে পাঁচ বছরের জন্য সরকার তৈরির সুযোগ দেবেন। আমরা সেই ভরসার ভিত্তিতে রাজ্যের পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করব।’’
তাপসের ভাষণের পর বিজেপির ইস্তাহার প্রকাশ করতে ওঠেন অমিত শাহ। সঙ্কল্পপত্রের প্রতিশ্রুতিগুলি পাঠ করবেন তিনি। জানালেন, এই ইস্তাহার পশ্চিমবঙ্গের ভীত মহিলা, যুবদের আস্থা জোগাবে। নরেন্দ্র মোদীর বিকশিত ভারতের ‘রোড ম্যাপ’ রাজ্যের জনগণের সামনে রাখবে।
নিউ টাউনে বিজেপির ইস্তাহার প্রকাশের অনুষ্ঠান। —নিজস্ব চিত্র।
তৃণমূলের নাম না করে কটাক্ষ করেছেন তাপস। অভিযোগ, কোনও দিন ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতি পালন করেনি শাসকদল। বরং রাজ্য জুড়ে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা হয়েছে।
ইস্তাহার তৈরির জন্য বিজেপি যে কমিটি গড়েছিল, তার সভাপতিত্ব করেছেন তাপস রায়। তিনি বলেন, ‘‘এটা ঠান্ডা ঘরে বসে তৈরি করা কোনও সঙ্কল্পপত্র নয়। এক কোটিরও বেশি মানুষের সঙ্গে আমরা যুক্ত হয়েছি। ১০৪৩টি পরামর্শ বাক্স রেখেছিলাম। ধনী থেকে দরিদ্র, শিক্ষক, চিকিৎসক, রিক্সাচালক— সব পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তার পর ইস্তাহার তৈরি হয়েছে। এটা ভরসাপত্র।’’
নিউ টাউনের হোটেল থেকে বিজেপির ইস্তাহার প্রকাশের অনুষ্ঠান শুরু হল। সূচনায় ভাষণ দিচ্ছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তার পর বলতে ওঠেন তাপস রায়।
বিমানবন্দর থেকে সোজা নিউ টাউনের হোটেলে যাবেন শাহ। দলীয় সূত্রের খবর, সেখানে প্রথমে মধ্যাহ্নভোজন সারবেন। তার পর সাংবাদিক বৈঠক করে প্রকাশ করবেন বিজেপির ইস্তাহার।
শুক্রবার বেলায় কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে অমিত শাহের বিমান। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদারেরা।
শুক্রবার নিউ টাউনের একটি হোটেল থেকে ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশ করবেন তিনি। তার পর প্রচারের উদ্দেশ্যে জেলা সফরে যাওয়ার কথা। শাহ যাবেন ডেবরা এবং খড়্গপুরে। শনিবার পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় তাঁর সভা রয়েছে। সাংগঠনিক বৈঠকও করবেন বলে বিজেপি সূত্রে খবর। তিনি জানিয়েছিলেন, ভোটের প্রচারে ১৫ দিন এ রাজ্যে থাকবেন।
ভোটের মুখে ফের রাজ্য সফরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ‘অপশাসন’-এর চার্জশিট প্রকাশ করতে এসেছিলেন। এক বার এসেছিলেন ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার রোড শো-তেও। এ বার এলেন দলের নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশ করতে।