নিউ টাউনের হোটেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছবি: সংগৃহীত।
তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ৩৫ পাতার ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করলেন শাহ।
বিজেপির ‘চার্জশিট’ প্রকাশ কর্মসূচিতে (বাঁ দিক থেকে) রাজ্য বিজেপির মিডিয়া বিভাগের প্রধান বিমলশঙ্কর নন্দ, দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। শনিবার নিউ টাউনে। —নিজস্ব চিত্র।
শাহ বলেন, ‘‘আদিবাসী, মহিলা রাষ্ট্রপতিকে কী ভাবে আপনারা অপমান করতে পারেন? দেশের প্রধানমন্ত্রীকে কী ভাবে অপমান করতে পারেন?’’
বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাঙালি হেনস্থা প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘বাংলাদেশ থেকে যাঁরা ঢোকেন, তাঁরাও বাংলা বলেন। এ রাজ্যের কাউকে চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু আমাদের দৃঢ় সঙ্কল্প, অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে দেশ থেকে বার করব।’’
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে শাহকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘কাটমানি, সিন্ডিকেট, দুর্নীতির কারণে এ রাজ্যে শিল্প অন্ধকারে। তাই এখানে চাকরি নেই। কম রোজগার, কম বেতনের চাকরির কারণও সেই অনুপ্রবেশ।’’
শাহ বলেন, ‘‘মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে। কে অপরাধ করছে সেটা দেখা হয় না। আমাদের শাসন আছে, এমন সব রাজ্যেই এটা আমরা করে দেখিয়েছি। মহিলারা যাতে নিজেদের কথা বলতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করবে বিজেপি সরকার।’’
পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনের আধিকারিকদের বদলি প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘সারা দেশেই ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন অফিসারদের বদলি করে। এটা নতুন কিছু নয়। এখানে সব আধিকারিক সরকারের হয়ে কাজ করেন। তাই এখানে বেশি পরিবর্তন হচ্ছে। অফিসারদের পরিবর্তন হয়েছে বলেই এ বার রামনবমীতে এই রাজ্যে হিংসা কম হয়েছে।’’
শাহ বলেন, ‘‘১৫ বছরে কাটমানির সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল সরকার। আমি বিশ্বাস করি, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে। তাই আমাদের ভোট দেবেন। তৃণমূল সরকারকে সমূলে উৎখাত করুন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আজকের বাংলা কবিগুরুর বাংলা আর নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাঙালি অস্মিতাকে পাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’
অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকছে, মমতাজির সরকার কি ঘুমোচ্ছে? প্রশ্ন তুলবেন, বিএসএফ কী করছে? বিএসএফ তখনই কিছু করতে পারবে, যখন আপনি সীমান্তে বেড়া লাগাতে দেবেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার ১৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি এ রাজ্যের বিজেপি সরকার কেন্দ্রকে দেবে।’’
কেন শুধু এই রাজ্যেই এসআইআর-এর জন্য সুপ্রিম কোর্টকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগ করতে হল? প্রশ্ন তুলেছেন শাহ। দাবি, এখানকার জেলাশাসকেরা নির্ভয়ে কাজ করছিলেন না। তাঁর কথায়, ‘‘মমতা যা খুশি অভিযোগ আনতে পারেন। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের আমরা বার করবই।’’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ভিক্টিম কার্ড’-এর রাজনীতি করেন বলে অভিযোগ করেছেন শাহ। দাবি ভোট এলেই মমতা পা ভেঙে ফেলেন, অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনও না কোনও অসুস্থতা দেখিয়ে জনগণের সহানুভূতি চান। এ বার তা হবে না।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গে এক সরকার আনার কথা বলেছেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘অনেক বছর পর বাংলা বিহার ওড়িশায় একই দলের সরকার হতে চলেছে।’’
অমিত শাহ বলেন, ‘‘এই ভোট প্রাণনাশের ভয় থেকে মুক্তির ভোট, স্বাধীনতা চলে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট, জনবিন্যাস পরিবর্তনের ভয় থেকে মুক্তির ভোট, সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট, রোজগার চলে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট। একগুচ্ছ ভরসার পক্ষে দাঁড়ানোর ভোট।’’
‘চার্জশিট’ প্রকাশ করতে গিয়ে রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকার কথা আলাদা করে উল্লেখ করলেন শাহ। বললেন, ‘‘বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গোটা পশ্চিমবঙ্গ সফর করে বাংলার বেহাল দশার কথা জনতার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।’’ আলাদা করে কেবল শুভেন্দুর ভূমিকা উল্লেখ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে চলেছে বলে দাবি করলেন অমিত শাহ।
অমিত শাহ বলেন, ‘‘অসমে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে। এখন একটাই রাস্তা বাকি অনুপ্রবেশের। তাই পশ্চিমবঙ্গের ভোট গোটা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সুরক্ষা জড়িত এর সঙ্গে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তৃণমূলের যে অরাজকতা এবং অপশাসন, তার কী সমাধান, তা-ও বলব। আগে চার্জশিট প্রকাশ করা হল। এর পরে আমরা জানাব যে, আমরা এর অবসানের জন্য কী করব।’’
শাহের কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনগণের চার্জশিট প্রকাশ’। ‘চার্জশিট’ আনুষ্ঠানিক ভাবে উন্মোচন করলেন শাহ।
নিউ টাউনের যে হোটেলে শাহ রাতে ছিলেন, শনিবার বেলা ১২টা থেকে সেখানেই সাংবাদিক বৈঠক শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাতে কিছুটা দেরি হচ্ছে।
রাতে কলকাতায় অবতরণের সময় অমিত শাহের বিমান ঝড়বৃষ্টির মুখে পড়ে। প্রায় ৫৫ মিনিট তা আকাশে চক্কর কেটেছে। রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ বিমানবন্দরে নামেন শাহ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতায় পৌঁছেছেন। ঝটিতি সফরের শেষে শনিবার দুপুরেই তিনি ফিরে যাবেন।