মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
‘বিবেচনাধীন’ ভোটার নিয়ে নিশানা মমতার। সভা থেকে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা কি জানেন মা-ভাই-বোনেরা, গতকাল রাতে সবার ভোট কেটে দিয়েছিল? কারও ছিল না। মানে, বাংলার যত লোক আছে, হঠাৎ হাপিস! ভ্যানিশ হয়ে গেল! তার পর বলছে ‘টেকনিক্যাল ফল্ট’! আমি আমার নামটা খুলে দেখছি, সেটাও অ্যাডজুডিকেশন! বুঝতে পারছেন অবস্থা? এরা করতে পারে না, এমন কোনও কাজ নাই। তাই তৈরি থাকুন।’’
‘‘এই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি তো ওরা পেয়েছিল। কী করেছে? যা করেছি তো আমরা করেছি। একটা কাজও করে না। নেই কাজ তো খৈ ভাজ।’’
মমতা বলেন, ‘‘রাজপ্রসাদ থেকে লাট্টু-চরকি ঘোরা। সব জায়গায় আসছে নোটের তাড়া। যদি এনআরসি না চান, ডিটেনশন না-চান, যদি লক্ষ্মীর ভান্ডার চান... এলাকায় শান্তি রাখতে চান, তা হলে মনে রাখবেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিকল্প নেই।’’
এসআইআর ইস্যতে বিজেপি এবং কমিশনকে এক পঙ্ক্তিতে ফেলে আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘যারা মানুষের উপর অত্যাচার করে তাদের জলে ডুবে মরা উচিত।’’ পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও কেন্দ্রকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘খাওয়া-দাওয়া তো বন্ধ। ও দিকে রেলের ভাড়া তো রোজই বাড়ে। আপনারা জানেন তো, আপনারা ছাড়া আমার আর কেউ নেই। আমার গভর্নমেন্টের সব অফিসারদের বদলি করে দিয়েছে। সব বিজেপি অফিসারদের নিয়ে এসেছে। কেন জানেন? আমাকে জব্দ করার জন্য। ওরা জানে না, আহত বাঘ আরও ভয়ঙ্কর। আগামী দিনে বোঝাব, দেখাব বাংলা দখল করে দিল্লি দখল করব।’’
‘‘বিহারে দুটো-চারটে জেলা এবং উত্তরবঙ্গের কয়েকটা জেলা নিয়ে আপনারা আলাদা রাজ্য করবেন? আবার বাংলাকে পদানত করবেন? কিছুতেই হতে দেব না।’’
বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘‘টাকা দিতে চাইলে বলবেন, ‘১৫ লাখ চাই’। ২ কোটি চাকরি বছরে ওরা দেবে বলেছিল। আমরা কিন্তু ২ কোটি চাকরি দিয়েছি। বেকারি কমিয়েছি গোটা রাজ্যে। তথ্য আছে।’’
আবার আলুচাষিদের আশ্বাস দিলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে আলু চাষের। আলুচাষিরা চিন্তা করবেন না। শস্যবিমা করা আছে। সবাই ক্ষতিপূরণ পাবেন। এটা আগে থেকে করা আছে।’’
তৃণমূলনেত্রী জানান, এ বার তিনি ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ প্রকল্প নিয়ে আসছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এর পরে আমরা যেটা করব, ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’। আপনাকে কষ্ট করে বাইরে যেতে হবে না। আপনার বাড়ির পাশে ক্যাম্প হবে। ডাক্তার থাকবেন।’’
মমতা বলেন, ‘‘আমি কথা দিলে কথা রাখি।’’ গত বিধানসভা ভোটে দেওয়া যাবতীয় প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘১০৫টা প্রকল্প আছে আমাদের।’’
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িকে পুরসভা করার প্রতিশ্রুতি দিলেন মমতা। উত্তরবঙ্গের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের কথা বলে মমতা বলেন, ‘‘আগে শিলিগুড়ি কী ছিল, আর এখন কী হয়েছে।’’ তিনি জলপাইগুড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভূয়সী প্রশাংসা করেন।
মমতা বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গ আগে অবহেলিত ছিল। এখন আমি প্রতি মাসে আসি। আমাকে দেখতে দেখতে হয়তো লোকজন বিরক্তই হয়ে যায়।’’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সভাটি রয়েছে জলপাইগুড়ির ঠাকুরনগরের জাবরাভিটা হাই স্কুল ময়দানে।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে তৃণমূল এ বার প্রার্থী করেছে রঞ্জনশীল শর্মাকে। ওই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়কে দ্বিতীয় বার টিকিট দিয়েছে বিজেপি। শিখা এবং রঞ্জনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল। শিখাকে ‘মা’ বলে ডাকেন রঞ্জন। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার লড়াইয়ে এ বার সেই ‘মা-ছেলে’।
জলপাইগুড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।
উত্তরবঙ্গ সফরে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার তিনটি জনসভা রয়েছে তাঁর। প্রথমটি ময়নাগুড়িতে, দ্বিতীয়টি জলপাইগুড়িরই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে এবং তৃতীয়টি রয়েছে দার্জিলিঙের নকশালবাড়িতে।