(বাঁ দিকে) রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তৃণমূলত্যাগী মৌসম নুর। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
মালতিপুরের সভায় উপস্থিত জনগণকে নববর্ষের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তৃতা শেষ করেন মমতা। বলেন, ‘‘নববর্ষে আপনাদের আম, আমসত্ত্বের উপহার যেন এ বার তৃণমূল পায়।’’ সভা শেষে মঞ্চেই স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে গানের তালে তালে পা মেলান মমতা। জেলার প্রতি কর্মসূচির শেষেই তাঁকে এই রূপে দেখা যাচ্ছে।
মমতা বলেন, ‘‘গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আঘাতের প্রতিবাদে আমরা দিল্লি যাব। ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আমরা সব রকম সাহায্য করব। এসআইআর নিয়ে আমি মামলা করেছিলাম বলেই ২২ লক্ষ মানুষের নাম উঠেছে। নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম। আমরা সকলের ভোটাধিকার চাই।’’
মালতিপুরের সভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘তৃণমূলকে ভোটটা দেবেন। অন্য দলকে ভোট দিলে আমি আপনাদের সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখব না। উন্নয়ন চলবে। তবে আমি খুব সেন্টিমেন্টাল। আমি অসম্মানিত বোধ করব। আর সম্পর্ক রাখব না।’’ কংগ্রেস বা সিপিএমকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা। বলেছেন, ‘‘ওদের ভোট দিয়ে কী হবে? একটা আসন নিয়ে ওরা তো সরকার গড়তে পারবে না।’’
মমতা বলেন, ‘‘মিথ্যাচারই বিজেপির আচার। ‘আমার পাড়া আমার সমাধান’-এর কাজ চলছিল। যাঁরা করছিলেন, সকলকে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এত হিংসা। ভোটের পর ওদের বলতে হবে, দেখ কেমন লাগে! এ রাজ্যের ৪৮৩ জনকে বাইরে পাঠানো হয়েছে। কোনও অফিসার নেই মানুষের কাজ করার জন্য। এই অত্যাচার, স্বৈরাচার কোনও দিন দেখা যায়নি। বিজেপি ধিক!’’
মালদহ থেকে মমতা বলেন, ‘‘লোকসভার পর বিধানসভাতেও কি এখানকার মানুষ কংগ্রেস আর বিজেপিকে ভোট দেবে? আমরা কি খাবি খাব? আপনাদের জন্য লড়াইটা তাহলে কে করবে? বাইরের রাজ্যে বাঙালিদের উপর এত অত্যাচার হচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকেরা বিপন্ন। আমরাই তো লড়াই করছি। ভোটটা এ বার তাই আমাদের দেবেন।’’
কিছু দিন আগে তৃণমূল ছেড়েছেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ মৌসম নুর। মালদহের মালতিপুরে সেই মৌসমের আসনে দাঁড়িয়েই তাঁকে কটাক্ষ করেন মমতা। বলেন, ‘‘মালদহের কোনও প্রতিনিধি লোকসভায় ছিল না বলে আমরা এই জেলার প্রতিনিধিকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলাম। অনেক দিন ছিলেন। ভোটের আগে তিনি অন্য দলে গিয়েছেন। তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু পলাতকদের মানুষ ক্ষমা করবে না। উনি তো ভোটে লড়ে সাংসদ হতে পারেননি। বিধায়কদের ভোটে জিতেছিলেন। আমার ভোটও পেয়েছিলেন। নিজে জীবনে রাজ্যসভায় যেতে পারিনি। এত সুযোগ পাওয়ার পরেও দলের বিরোধিতা ভোটের সময়! ভোট যেন না পায়।’’
মমতা বলেন, ‘‘আপনারা তৃণমূলকে ভোট দিলে ঠকবেন না। আগেও বলেছি। লক্ষ্মীর ভান্ডার ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম, এখনও বাড়়িয়ে ১৫০০ করে দেওয়া হয়েছে। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড থেকে স্বাস্থ্যসাথী, যা বলেছিল করেছি। সারা জীবন লক্ষ্মীর ভান্ডার পাবেন। কারও কাছে হাত পাততে হবে না। যুবসাথী সকলে পাবেন। তাঁদের জীবিকার সন্ধানও আমরাই দেব।’’ কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়েও সরব হয়েছেন মমতা।
নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে মমতা বলেন, ‘‘জানি মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আছে। অনেকের নাম কেটেছে। অনেককে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। অনেক অত্যাচার করা হয়েছে। কিন্তু মালদহে আমরা কাজ করেছি। চাঁচলে আমরা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল করেছি।’’
মমতা বলেন, ‘‘মালতিপুরের জন্য অনেক কাজ করা হয়েছে। কর্মীরাই দলের সম্পদ। তাঁরা দলকে আগলে রাখেন। তাঁদের সকলকে অভিনন্দন জানাই। নবীন ও প্রবীণদের আমার অভিনন্দন, প্রণাম জানাই।’’
এসআইআর-এর ফলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে গত বুধবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদহের মোথাবাড়ি, কালিয়াচকের মতো কিছু জায়গা। কালিয়াচকে এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকদের ঘেরাও করে রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেই ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তদন্ত শুরুও করে দিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। মমতা দাবি করেছেন, এই ঘটনায় দায়ী ‘বহিরাগতেরা’। আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম-কে নাম না-করে ‘বিজেপির কোকিল’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। দাবি, তারাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।
মালতিপুর কেন্দ্রের প্রার্থী আব্দুর রহিম বক্সী এবং রতুয়া কেন্দ্রের প্রার্থী সমর মুখোপাধ্যায়ের সমর্থনে এখানে মমতার জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। গাজলে রয়েছে তৃতীয় কর্মসূচি।
বিধানসভা নির্বাচনে মালদহে প্রচারে জোর দিচ্ছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবারও এই জেলায় সভা করেছিলেন। শনিবার সেখানে তাঁর পর পর তিনটি জনসভা রয়েছে। প্রথমটি ছিল মানিকচকে। তার পরেই মালতিপুরের সামসি কলেজ মাঠে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি।