মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘প্রত্যেকে নিজের ভোট নিজে দেবেন। না হলে এনআরসি করবে। ডিটেনশন ক্যাম্পে ঠাঁই হবে। অধিকার কেড়ে নেবে। তাই বলি, জোড়াসাঁকোয় আমাদের প্রার্থীকে ভোট দিন।’’
‘‘আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিকেরা বিদেশে যেতেন। এখন কেউ যেতে পারে না। কারণ, উনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে চান না। যা যা বলেন, তা আগে থেকে বলে দেন। বলেন এই প্রশ্ন করবে, এই প্রশ্ন করবে না।’’
‘‘দখল করতে এসেছে! বাংলা দখল করতে এলে আমরা দিল্লি দখল করে নেব। হিম্মত থাকলে একা একা লড়ো। দেখি প্রধানমন্ত্রীর কত জোর।’’
‘‘চোখে দেখবে না, কানে শুনবে না, এমন পুতুল পাওয়া যায়। এখন ইডি, সিবিআই বিজেপির হাতের সেই পুতুল। তবে আমি বলি, বাংলা তোমায় দেব না। আমার সঙ্গে এসেছে লড়তে!’’
‘‘১০ টাকা বার করে বলছে, ‘হাম ঝালমুড়ি খাবে’! আমি অনেক প্রধানমন্ত্রী দেখেছি, অনেকের সঙ্গে কাজও করেছি। এমন মিথ্যাবাদী প্রধানমন্ত্রী এর আগে দেখিনি।’’
‘‘অনেক চেষ্টা করেছে। আমি বিজেপিকে বলেছি, আমাকে ধমকানোর চেষ্টা করবেন না। আমার কণ্ঠরোধ করার জন্য গলা কাটতে পারো। কিন্তু প্রতিবাদ করা যাব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘একজন হকারেরও কমিটমেন্ট থাকে, আপনাদের নেই।’’
‘‘এলআইসি, শেল বিক্রি করে দিয়েছে। রেল বিক্রি করে দিয়েছে। পুরো দেশ বিক্রি করে দিয়েছে বিজেপি! এখন ধমক দিচ্ছে একে গ্রেফতার করো, ওকে গ্রেফতার করো। ২ লক্ষ সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে এসেছে। মিলিটারির সঙ্গে বৈঠক করছে। সেনার গাড়ি আনছে। যুদ্ধের গাড়ি নিয়ে এসেছে। সারা দেশ থেকে বিএসএফ, আইটিবিটি, সিআরপিএফ এনেছে। রেল থেকেও লোক এনেছে। এত বড় সাহস হেমন্ত সোরেনের বৈঠক ছিল, কপ্টার উড়তে দেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ছিল বলে। গণতন্ত্রে ভোট তো উৎসব, আপনারা জবরদখলের চেষ্টা করছেন কেন? মানুষের উপর ছেড়ে দিন না!’’
‘‘জুলুম চলছে! জুলুম! এখন বলছে বাইক নিয়ে যাওয়া যাবে না। কী ভাবে মানুষজন যাতায়াত করবেন!’’
‘‘আপনাদের রোজগার না হলে আমাদের রোজগার কী ভাবে হবে। সরকারের টাকা কোথা থেকে আসবে। তাই নোটবন্দির সময়েও বিরোধিতা করেছি।’’
‘‘করোনার সময়ে সব দোকান বন্ধ ছিল। ভয়ে কেউ বেরোয়নি। আমি বড়বাজার এসে দোকান খুলিয়েছি। বলেছি, শ্রমিকদের কাজ দাও। দোকান খোলো। সকলকে বাঁচতে হবে। এখন এমন মানুষদের জন্যও আমরা সামাজিক প্রকল্প এনেছি।’’
জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সোমনাথ শ্যামের সমর্থনে সভা করেছেন উত্তর ২৪ পরগনায়। তার পর উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী বিজয় উপাধ্যায়ের সমর্থনে বড়বাজার সত্যনারায়ণ পার্কের কাছে জনসভা মমতার।
মঙ্গলবার তিনটি জনসভা করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম জনসভাটি করেছেন হলদিয়ায়। তার পরে ব্যারাকপুর, জগদ্দল হয়ে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় সভা করছেন মুখ্যমন্ত্রী।