West Bengal Election 2026

আসন পুনর্বিন্যাস ঘিরে ‘বাংলা বিভাজন’ তোপ

গত ৭ মার্চই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছিল, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলা নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা সংক্রান্ত জল্পনার সঙ্গে বাস্তবের কোনও সম্পর্ক নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১২
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

নরেন্দ্র মোদী সরকারের লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনার মধ্যেও বাংলা ভাগের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরে একের পর এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপি লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস করে বাংলাকে ভাগ করতে বিল আনছে।

গত ৭ মার্চই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছিল, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলা নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা সংক্রান্ত জল্পনার সঙ্গে বাস্তবের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু আজ দক্ষিণ দিনাজপুরে হরিরামপুরে তৃণমূলনেত্রীর দাবি, “বিজেপি এ বার লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস করে বাংলাকে ভাগ করতে বিল আনছে। বিহার এবং এ রাজ্যের কিছু এলাকা নিয়ে নতুন রাজ্য করতে চায় ওরা। কারণ, সোজা পথে জিততে পারছে না ওরা।” এর আগে মমতা ধর্মতলার ধর্না-মঞ্চ থেকে অভিযোগ তুলেছিলেন, বাংলা, বিহার ভাগ করে মোদী সরকার নাকি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করবে। পশ্চিমবঙ্গে মোদী সরকার নতুন রাজ্যপাল নিয়োগের পরে তা নিয়ে জল্পনা বাড়ে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই সেই সময়ে জানিয়ে দেন, “বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলা নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে জল্পনার সঙ্গে বাস্তবের সম্পর্ক নেই। এর মধ্যে কোনও সত্যতা নেই।”

২০২৯-এর আগামী লোকসভা নির্বাচন থেকেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে মোদী সরকার এখনই লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমস্ত রাজ্যেরই লোকসভা আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ করে বাড়ানো হবে। আজ রায়গঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় মমতা বলেন, “ওরা ‘সুনার বাংলা’ করবে। আপনাদের উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, শিলিগুড়ির সঙ্গে বিহারের চারটি জায়গাকে যুক্ত করে আলাদা রাজ্য তৈরি করতে এই ডিলিমিটেশন (আসন পুনর্বিন্যাস) বিল নিয়ে আসছে। বাংলা থেকে আপনাদের সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত। যাতে আপনারা বাংলা ভাষায় কথা বলতে না পারেন। মাছ, মাংস খেতে না পারেন। মনে রাখবেন ওটা ওদের পরিকল্পনা।” মালদহেও তিনি বলেন, “যদি ডিটেনশন ক্যাম্প না চান, এনআরসি না চান, ভাইবোনেরা জেনে রাখুন ডিলিমিটেশনের বিল নিয়ে আসছে পরবর্তী অধিবেশনে। আমাকে ডেরেক ও’ব্রায়েন বলল। এরা করতে পারে না এমন কোনও কাজ নেই।”

আরও পড়ুন