West Bengal Assembly polls Phase 2

‘ভূতের নাচন’ ঠেকাতে এলাকা চিহ্নিত করে ঘুরলেন মিনাক্ষী, উত্তর দমদম জুড়ে ছুটলেন দীপ্সিতা, নেই ভোট লুটের চেনা অভিযোগ

পঞ্চায়েত, পুরসভা তো বটেই, গত দেড় দশকে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ তুলত বামেরা। দ্বিতীয় দফার ভোটে বামেদের দুই তরুণ প্রার্থী মিনাক্ষী এবং দীপ্সিতা কেউই সেই চেনা অভিযোগ করলেন না। দু’জনেরই দাবি, অনেক কিছুর চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫৭
Minakshi Mukherjee and Dipsita Dhar toured various booths throughout the day on Wednesday

(বাঁ দিকে) মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দীপ্সিতা ধর (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

এক জন মানচিত্র করে নিয়েছিলেন নির্দিষ্ট এলাকার। অন্য জন তেমন পথে যাননি। বরং তাঁর কৌশল ছিল, যেমন পরিস্থিতি, তেমন পদক্ষেপ। গঙ্গার দু’পারের দুই তরুণ বামপ্রার্থী এই কৌশলেই ভোট করলেন বুধবার। প্রথম জন উত্তরপাড়ার সিপিএম প্রার্থী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। দ্বিতীয় জন উত্তর দমদমের দীপ্সিতা ধর।

Advertisement

পঞ্চায়েত, পুরসভা তো বটেই, গত দেড় দশকে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ তুলত বামেরা। দ্বিতীয় দফার ভোটে বামেদের দুই তরুণ প্রার্থী মিনাক্ষী এবং দীপ্সিতা কেউই সেই চেনা অভিযোগ করলেন না। দু’জনেরই দাবি, অনেক কিছুর চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। অন্য ভোটে যে ধরনের অশান্তি, হিংসার ঘটনা ঘটে, এ বার তার এক আনাও দেখা যায়নি। ভোটের পরে মিনাক্ষী, দীপ্সিতার কথায় স্পষ্ট, মানুষ নিজের ভোট নিজে দিয়েছেন।

হুগলির উত্তরপাড়া বিধানসভা এলাকায় গত বেশ কয়েকটি ভোটেই বামেদের অভিযোগ ছিল, কোন্নগর পুরসভার ১০টি ওয়ার্ড, নবগ্রাম এবং কানাইপুর পঞ্চায়েত এলাকায় বুথের মধ্যে ‘ভূতের নাচন’ হয়। বুধবার সকাল থেকে প্রায় বিকেল পর্যন্ত অধিকাংশ সময়টাই মিনাক্ষী ব্যয় করলেন কোন্নগর, নবগ্রাম এবং কানাইপুরে। কোতরং এলাকায় সিপিএমের সংগঠন মোটের উপর মজবুত। সেখানে গিয়ে সময় নষ্ট করেননি মিনাক্ষী। বিকেলের পর ভোটের শেষবেলায় উত্তরপাড়া শহর এবং মাখলায় যান সিপিএমের প্রার্থী।

হুগলির এই বিধানসভায় মিনাক্ষী একমাত্র প্রার্থী, যিনি গত তিন মাস ধরে প্রচার করছেন। ভোট ঘোষণার অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল মিনাক্ষীকে সেখানে প্রার্থী করছে সিপিএম। মিনাক্ষীর লড়াই তৃণমূল প্রার্থী তথা শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। বুথে বুথে ঘোরার সময়ে একটি ভোটকেন্দ্রে শীর্ষণ্য এবং মিনাক্ষীর দেখাও হয়েছিল বুধবার। রাজনৈতিক বৈরিতা থাকলেও পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময়ে তা কোনও অন্তরায় হয়নি।

দীপ্সিতা উত্তর দমদমের কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি। নিমতা থেকে নিউ ব্যারাকপুর, বিরাটি— সর্বত্র গিয়েছেন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। তবে সকালের দিকে স্থানীয় আলিপুরের কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পেয়ে বার কয়েক ছুটতে হয়েছিল তাঁকে।

মিনাক্ষীর পরনে ছিল লাল সালোয়ার-কুর্তা এবং সাদা ওড়না। দীপ্সিতা অবশ্য সেজেছিলেন কালো শাড়িতে। ডান হাতের কব্জিতে ঘড়ি আর মাথার উপর তুলে রাখা রোদ চশমা ভোটের দিনও বজায় রেখেছিলেন।

গত লোকসভা ভোটে শ্রীরামপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দীপ্সিতা। উত্তরপাড়া বিধানসভা সেই লোকসভারই অন্তর্গত। দু’বছর আগে লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়া বিধানসভায় সিপিএমের ভোট ছিল ৫০ হাজার। দীপ্সিতার তৈরি করা ভোটের ভিতেই সেখানে লড়ছেন মিনাক্ষী। আবার দীপ্সিতাকে দল পাঠিয়েছে উত্তর দমদমে। যেখানে তৃণমূলের প্রার্থী রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ২০১৬ সালে উত্তর দমদমেই চন্দ্রিমাকে হারিয়ে জিতেছিলেন সিপিএমের তন্ময় ভট্টাচার্য। ২০২১ সালে সেই তন্ময়কেই হারান চন্দ্রিমা। এ বার মহিলা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মহিলা প্রার্থী করেছিল সিপিএম।

মোটের উপর ভোটে খুশি সিপিএমের দুই তরুণ প্রার্থীই। ভোটের খুশি কি জয়ের হাসিতে পরিণত হবে? জবাব মিলবে আগামী সোমবার।

Advertisement
আরও পড়ুন