—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সিমেস্টারে পড়ার জন্য সময় ছ’মাস। কিন্তু নির্বাচনী আবহে সেই সময় কমে তিন থেকে চার মাস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলেই মনে করছেন শিক্ষকেরা। তাই অনলাইন ক্লাস ও ভিডিয়ো লিঙ্কেরমাধ্যমে পড়ানোর কথা ভাবছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। কিন্তু সেখানেও রয়েছে প্রশ্ন— অনলাইনে পড়াবেন কে? কারণ, ইতিমধ্যেই শিক্ষকদের আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রশিক্ষণের ডিউটি আসতে শুরু করেছে। নতুন পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ সিমেস্টার নিয়ে উচ্চমাধ্যমিকের মূল্যায়ন। ফলে, গত বারের মতো এ বারও উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সিমেস্টারের পাঠ্যক্রম আদৌ শেষ হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, ভোটের প্রস্তুতি হিসাবে স্কুলগুলিতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে শুরু করেছে। পূর্বঅভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, ভোটের ফল বেরোনোর পরেও যাতে কোথাও কোনও অশান্তি না হয়, সেজন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকে যায়। ফলে, যে সব স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা থাকবেন, সেখানেএপ্রিল থেকে মে মাসের মাঝামাঝির আগে স্কুল তার ক্লাসঘরগুলিফিরে পাবে না। আবার গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, মে মাসপড়তে না পড়তেই গরমের ছুটিপড়ে যায়। তা হলে এপ্রিল ও মেজুড়ে তৃতীয় সিমেস্টারের ক্লাস কখন হবে?
শিক্ষকদের একাংশের মতে, অনলাইন ক্লাসে প্রথম দিকে যত পড়ুয়া যোগ দেয়, পরেরদিকে আস্তে আস্তে সেই সংখ্যা কমতে থাকে। নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত সমস্যা থেকে শুরু করে আরও নানাকারণে অনলাইন ক্লাসে ক্রমশ পড়ুয়ার সংখ্যা কমে। সেই সঙ্গে শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ডিউটি করতে যাওয়া শিক্ষকেরা এখনও সকলে ফেরেননি। তার পরে ফের ভোটের কাজে যাবেন শিক্ষকেরা। সব মিলিয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার শিক্ষক আদৌ পাওয়া যাবে কিনা, সেই আশঙ্কা থাকছে।
রাজ্যের শিক্ষা দফতরের অবশ্য দাবি, এই অসুবিধা দূর করতে এ বারবিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দিয়ে ইউটিউবে ভিডিয়ো ক্লাসের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাদফতরের তরফে জানানো হয়েছে, সর্বশিক্ষা মিশনের সহযোগিতায়বাংলা শিক্ষা অনলাইন ক্লাসরুমে বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞদেরদিয়ে কয়েকশো ভিডিয়ো ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছে। সেইসঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নিজস্ব পরিকাঠামোয় তৈরি করা বিভিন্ন বিষয়ের উপরেকয়েকশো ইউটিউব ভিডিয়ো রয়েছে। ভোটের আবহে ক্লাসে পঠনপাঠন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের এই ভিডিয়ো লিঙ্ক পড়ুয়াদের দিতে বলেছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।
যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলেন, ‘‘ভোটের আবহেতৃতীয় সিমেস্টার কী ভাবে শেষহবে, তা নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। তাই ভোটের আবহে স্কুলের ক্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হলে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকেই এই ইউটিউব ভিডিয়োর লিঙ্ক পড়ুয়াদের পাঠিয়ে দেব।’’
যদিও ইউটিউব ভিডিয়ো বা অনলাইন ক্লাস নয়, শিক্ষকদের একাংশের মতে, ক্লাসঘরে পড়ানোর কোনও বিকল্প নেই। ‘কলেজিয়াম অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস’-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, ‘‘সব স্কুলেই একাদশের দ্বিতীয়সিমেস্টার শেষ। সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা নিয়ে, নম্বর আপলোড করতে কেন এত সময় লাগবে? অনায়াসেই এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তৃতীয় সিমেস্টারের ক্লাস শুরু করা যায়। অথচ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ জানিয়েছে, এপ্রিলের চতুর্থসপ্তাহে তৃতীয় সিমেস্টারের ক্লাস শুরু হবে।’’ এ বিষয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকার বলেন, ‘‘চেষ্টা করছি যদি তৃতীয় সিমেস্টারের ক্লাস এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করা যায়। শীঘ্রই এই নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হবে।’’