West Bengal Elections 2026

মোদীর মনের কথায় রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্র

সম্প্রতি ন্যাশনাল আর্কাইভস অব ইন্ডিয়ার বিশেষ পোর্টালে প্রায় কুড়িটি দস্তাবেজের তথ্যভান্ডার জনতার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে আজ সুভাষচন্দ্র বসুর প্রসঙ্গও টানেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৪৩
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।

আগামী বুধবার পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। তার আগে আজ মাসের শেষ রবিবারের ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উল্লেখ করলেন সুভাষচন্দ্র বসুর নামও। রাজনীতিকদের মতে, শেষ পর্বের ভোটের আগে বাংলার দুই মনীষীর কথা তুলে বাঙালি আবেগকেই ছোঁয়ার চেষ্টা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের ১৩৩তম পর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রসঙ্গে মোদী বলেন, ‘‘দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নববর্ষ-সহ নানা উৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ৯ মে, পঁচিশে বৈশাখ। ওই দিন আমরা গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী পালন করতে চলেছি। এক বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন গুরুদেব। তিনি এক জন মহান সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ হওয়ার সঙ্গে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।’’ রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথকে জুড়ে মোদী বলেন, ‘‘গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন শিল্প গড়ার পক্ষপাতী ছিলেন, যা নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সৃষ্টির সঙ্গে গ্রামের উন্নতি করতে সক্ষম। আজও রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রভাব দেখা যায় সারা বিশ্ব জুড়ে।’’ শান্তিনিকেতন নিজের ভ্রমণের স্মৃতি রোমন্থন করে মোদী বলেছেন, ‘‘আমার শান্তিনিকেতন ভ্রমণের স্মৃতি অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। এই সেই প্রতিষ্ঠান, যাকে রবীন্দ্রনাথ সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে লালনপালন করেছেন। তাঁর প্রতি আমার আবারওবিনীত শ্রদ্ধাঞ্জলি।’’

সম্প্রতি ন্যাশনাল আর্কাইভস অব ইন্ডিয়ার বিশেষ পোর্টালে প্রায় কুড়িটি দস্তাবেজের তথ্যভান্ডার জনতার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে আজ সুভাষচন্দ্র বসুর প্রসঙ্গও টানেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা নেতাজি সুভাষচন্দ্রের অনুরাগী, তাঁদের জন্য ওই তথ্যভান্ডারে নেতাজির জীবন, আজাদ হিন্দ ফৌজ ও তাঁর বক্তৃতার একাধিক নথি রয়েছে।’’ রাজনীতিকদের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দুই মনীষীর নাম উল্লেখ বাঙালি অস্মিতাকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মোদী। চলতি নির্বাচনে বিজেপিকে বাঙালি-বিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই অপবাদ কাটাতে রবীন্দ্রনাথ-সুভাষচন্দ্রকেই অবলম্বন করলেন মোদী।

আরও পড়ুন