রাহুল গান্ধী। — ফাইল চিত্র।
রাহুলের দাবি, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জন্য রাস্তা খুলে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার কখনই আসা উচিত নয়। কিন্তু আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী সঠিক ভাবে কাজ করলে, রাজ্যের জন্য কাজ করলে, দুর্নীতি না করলে বিজেপি আসার সম্ভাবনা তৈরি হত না।’’
রাহুল বলেন, ‘‘মমতাজি ২০২১ সালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ৫ লক্ষ লোককে চাকরি দেবেন। মমতাজি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন? নরেন্দ্র মোদীও একই কথা বলেছিলেন। ২ কোটি বেকারকে চাকরি দেব। ওই একই কথা পশ্চিমবঙ্গে বলেছেন মমতাজি। আর আজ পশ্চিমবঙ্গে ৮৪ লক্ষ যুবক বেকার ভাতায় আবেদন করেছেন। চাকরি চাইছেন? ৫ লক্ষ লোককে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী। আর নরেন্দ্র মোদী দেশে ওই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মোদীর আদানি আছে তো, আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী সারদা দুর্নীতি করেছেন। ১৭ লক্ষ লোকের টাকা চুরি করেছে।’’
রাহুল বলেন, ‘‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় হাতিয়ার হল, আদানি। নরেন্দ্র মোদী আদানিকে পুরো দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে। বিমানবন্দর, বন্দর, পরিকাঠামো, সিমেন্ট, সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প— সব বিক্রি করছে। সংস্থার প্রকৃত নাম হল মোদানি। ওই সংস্থার আর্থিক নথি ট্রাম্পের হাতে। তাই মোদীকে ধরে রাখেন। সে কারণে ট্রাম্প যা চান, মোদী তাই করেন।’’
মেটিয়াবুরুজের সভাতেও রাহুল টেনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মোদীর ‘বন্ধুত্ব’র প্রসঙ্গে। তাঁর দাবি, ‘মোদীজিকে চালান ট্রাম্প। মোদীজি নিজেকে দেশভক্ত বলেন। ৫৬ ইঞ্চি বুকের কথা। যদি ৫৬ ইঞ্চির চওড়া বুক থাকে তো লোকসভা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন কেন? আমি এপস্টিনের কথা বলেছিলাম, আর লোকসভা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যে দিন নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ করার হবে, সে দিন দু’সেকেন্ডে সেই কাজ করব। নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে প্রকাশ্যে মজা করেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী একটা শব্দও উচ্চারণ করতে পারেন না। কারণ? এপস্টিন ফাইল। পুরো দেশ জানে, নরেন্দ্র মোদীর সত্যি এপস্টিন ফাইলে বন্দি আছে। আর চাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রয়েছে।’’
রাহুল বলেন, ‘‘আমি এবং কংগ্রেস কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীরে গেছে। চার হাজার কিলোমিটার দিনরাত হেঁটেছি। একটাই বার্তা ছিল, ঘৃণার বাজারে ভালবাসার দোকান খোলার। হিংসার ভারত চাই না। ভালবাসা, একতার ভারত চাই। সেই কারণে আমরা ২৪ ঘণ্টা লড়ব।’’
রাহুল বলেন, ‘‘আমার সরকারি বাংলা কেড়ে নিয়েছে। ওরা মমতাজির ঘর কি কেড়েছে? মমতাজির বিরুদ্ধে কি কেস করেছে? মমতাজির জেরা হয়েছে? মমতাজির লোকসভা বা বিধানসভার সদস্যপদ কেড়েছে? কেন? কারণ ওরা জানে ওদের আসল শত্রু মমতাজি নন। আসল শত্রু কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধী।’’
রাহুল বলেন, ‘‘জামিন নিয়ে বাইরে আছি। তাই বলতে পারছি। নয়তো জেলে থাকতাম।’’
মেটিয়াবুরুজের সভায় একযোগে বিজেপি এবং আরএসএস-কে নিশানা করেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা বিজেপি এবং রাহুলের বিরুদ্ধে লড়াই করেন, তাঁদের আক্রমণ করে। পুরো দেশ জানে আমি সব সময় বিজেপি এবং আরএসএসের বিচারধারার বিরুদ্ধে লড়ছি। আর ২৪ ঘণ্টা নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি আমাকে আক্রমণ করে চলেছে। আমার উপর ৩৬ মামলা আছে। আমার সরকারি বাংলো কেড়ে নিয়েছে। আমার সংসদপদ কেড়ে নিয়েছে। ৫৫ ঘণ্টা আমায় জেরা করেছে ইডি। কিন্তু আমি নরেন্দ্র মোদীকে ভয় পাই না। আমি গ্যারান্টি নিয়ে বলছি, যদি ভয় পান তো নরেন্দ্র মোদী।’’
মেটিয়াবুরুজের সভা থেকে বিজেপি-কে আক্রমণ শানালেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, ‘‘এসআইআর করেছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটচুরি করে জেতার চেষ্টা করছে বিজেপি। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, ছত্তীসগঢ়ে এই ভাবেই ভোটচুরি করে জিতেছে বিজেপি। এখানেও সেই চেষ্টা করছে তারা।’’
মেটিয়াবুরুজের সভায় বক্তৃতা শুরু করলেন রাহুল গান্ধী।
মেটিয়াবুরুজের জনসভায় পৌঁছোলেন রাহুল। উত্তরীয় এবং মালা দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা সম্বর্ধনা জানালেন তাঁকে।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আবার ভোটপ্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার তাঁর পর পর তিনটি সভা ছিল। প্রথম সভা করেন শ্রীরামপুরে। সেখান থেকে কলকাতার শহিদ মিনারে পাদদেশে সভা করেন কংগ্রেস নেতা। সেই সভার পরই তিনি পৌঁছে যান মেটিয়াবুরুজ। এখানেই তাঁর শেষ সভা।