West Bengal Election 2026

খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ, ইডি! গাড়িতে বসে আবার লাইভে সোনা পাপ্পু, পাল্টা আঙুল ‘শুভেন্দু-রাকেশ যোগ’ নিয়ে

পাপ্পু দাবি করেছেন, তাঁর বাড়িতে অভিযানের সময় ইডির অবাঙালি অফিসারেরা কুকথা বলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘অবাঙালি অফিসারেরা বাঙালিদের বিষয়ে কুকথা বলেছেন।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫৮
সোনা পাপ্পু।

সোনা পাপ্পু। ছবি: ফেসবুক থেকে।

তাঁকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। বাড়িতে তল্লাশি চালালেও তাঁর সন্ধান পায়নি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সক্রিয় অপরাধীর তালিকায় তাঁর নাম নেই বলে কমিশনের হাতে সাসপেন্ড হয়েছেন কসবা থানার ওসি। এর মধ্যে মঙ্গলবার আবার লাইভে এলেন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। লাইভে এসে আগের বারের মতোই দাবি করলেন যে, তিনি বাধ্য হয়েই সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছেন। তার পরেই আঙুল তুললেন সদ্য জামিন পাওয়া বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহের দিকে। তাঁর দাবি, রাকেশের বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে, তবু তাঁকে ‘দুষ্কৃতী’ বলা হয়নি। ওই বিজেপি নেতার সঙ্গে শুভেন্দুর ‘যোগ’ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, তাঁর বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযানের সময়ে তাঁর স্ত্রী এবং বৃদ্ধ বাবাকে ‘অত্যাচার’ করা হয়েছে।

Advertisement

একটি গাড়ির ভিতরে বসে পাপ্পু বলেন, ‘‘আবার লাইভে আসতে বাধ্য হলাম। ব্রেকিং নিউজ় এ বার আমি দিতে চাই। দুষ্কৃতী রাকেশ সিংহ, তোলাবাজ রাকেশ সিংহ, অজস্র কেসের আসামি, রেপ কেসের আসামি, এনডিপিএস রাকেশ সিংহ বন্দর এলাকায় বিজেপির প্রার্থী হয়েছে।’’ প্রসঙ্গত, কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রে এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিজেপি। সোমবার রাকেশের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। তার পরেই জল্পনা তৈরি হয়েছে, বন্দর এলাকায় বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন রাকেশ। সেই জল্পনার সূত্র ধরেই পাপ্পু দাবি করে বলেন, ‘‘গদি মিডিয়া কোথায় গেল? তারা বলছে না কেন, যে দুষ্কৃতী রাকেশ বিজেপির প্রার্থী হয়েছে! আমার বেলায় দেখাতে থাকে আমি দুষ্কৃতী, তোলাবাজ।’’ পাপ্পুর দাবি, কোনও থানায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘‘যদি কোনও থানায় আমার নামে একটা তোলাবাজির কেস থাকে, আমি ফাঁসিবরণ করব।’’

পাপ্পুর দাবি, রাকেশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির মামলা থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে নেই। তিনি বলেন, ‘‘রাকেশের নামে চাঁদু খাঁ নামে এক প্রবীণ তোলাবাজির মামলা করেছেন। ৪ কোটি টাকা-সহ তাঁর জমি হরণ করে মারধর করা হয়েছে। সেই রাকেশ এখন বিজেপির প্রার্থী।’’ পাপ্পুর দাবি, তাঁর বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থা এসে অভিযান চালালেও রাকেশের বাড়িতে তা করা হয় না। পাপ্পু দাবি করে বলেন, ‘‘এজেন্সি কিনে বসে আছে?’’ এর পরেই শুভেন্দুর সঙ্গে রাকেশের যোগ রয়েছে বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, ‘‘শুভেন্দুর সঙ্গে রাকেশ সিংহের তোলাবাজির হিস্‌সা সমান সমান। তাই শুভেন্দু রাকেশকে বন্দর এলাকায় টিকিট দিয়েছে! বিজেপির ওয়াশিং মেশিনে ঢুকলে সতী। দুষ্কৃতী না।’’

এর পরেই পাপ্পু দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী, বৃদ্ধ বাবাকে ইডির অভিযানের সময়ে ‘অত্যাচার’ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমার বাড়ি ইডি, এজেন্সি দিয়ে অত্যাচার করা হয়েছে। আমার স্ত্রীকে ১৪ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে টর্চার করেছে।’’ পাপ্পুর আরও দাবি, তাঁর বাবার বয়স ৮০ বছর। তিনি ডায়াবেটিসের রোগী। তার পরেও তাঁকে ১৪ ঘণ্টা ধরে জল দেওয়া হয়নি। শৌচালয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। এখানেই থামেননি পাপ্পু। তাঁর দাবি, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে ইডি। তিনি লাইভে বলেন, ‘‘আমার ঘরে তল্লাশি করে কিছু পায়নি। শেষে নিজেদের অস্ত্র রেখে আমার বিরুদ্ধে গড়িয়াহাট থানায় কেস দিয়েছে। ভিডিয়ো ফুটেজ দেখান। রেড করতে এসে ভিডিয়ো করা উচিত আপনাদের।’’

পাপ্পু দাবি করেছেন, অভিযানের সময় ইডির অবাঙালি অফিসারেরা কুকথা বলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘অবাঙালি অফিসারেরা বাঙালিদের বিষয়ে কুকথা বলেছেন। বাবা কেঁদে জানিয়েছে, বাঙালি বলে অত্যাচার করা হয়েছে। বাঙালিরা ছোটজাত নয়!’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘যতই করো আমার উপর হামলা, আবার জিতবে বাংলা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ, মা মাটি মানুষ জিন্দাবাদ!’’ এখানেই থামেননি তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মনোবল ভাঙতে পারবে না। কোনও অফারে যাই না। মা-মাটি-মানুষ জিন্দাবাদ। ৪ তারিখের (৪ মে) পরে আবার লাইভে আসব।’’ প্রসঙ্গত, ওই দিন বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল।

রবীন্দ্র সরোবরে গন্ডগোলের ঘটনায় নাম জড়ায় পাপ্পুর। এই ঘটনায় এখনও তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি। তাঁর বাড়িতে বুধবার তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা উদ্ধার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ ছাড়াও সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে একটি দামি গাড়ি এবং বেশ কিছু সম্পত্তির নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, সোনা পাপ্পুর নামে বেশ কয়েকটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তোলাবাজি, হুমকি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইডি সূত্রে খবর, কসবা, বালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন সোনা পাপ্পু।

Advertisement
আরও পড়ুন