—প্রতীকী চিত্র।
ভোটের লড়াইয়ে অবৈধ অর্থের জোগান ঠেকাতে এনবিএফসি-গুলিই (নন ব্যাঙ্কিং ফাইনান্সিয়াল কোম্পানি) কি নজরে—প্রশাসন এবং কমিশনের অন্দরের চর্চা, এ বার এই প্রশ্নে যেন একটু বাড়তি সতর্ক থাকতেই দেখা যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে।
সূত্রের দাবি, ব্যাঙ্কের মতো বড় পরিধির কার্যকলাপ না থাকলেও, রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমতিপ্রাপ্ত এনবিএফসি-গুলিও সীমিত পরিসরে আর্থিক কর্মকাণ্ডের অধিকারী। তেমনই প্রায় সাড়ে তিনশো এনবিএফসি-ই এখন কমিশন এবং রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের নজরে। অবৈধ ভাবে কোনও অর্থ ভোটের লড়াইয়ের অনুঘটক যাতে না হতে পারে, তা নিয়েই তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এমন প্রায় সাড়ে তিনশো এনবিএফসি-কে শো-কজ় করা হয়েছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের তরফে। তাদের গতিবিধি কোনও ভাবে কোনও রাজনৈতিক দলকে সুবিধা করে দিতে পারে কি না, তা বুঝতেই সম্ভবতএই পদক্ষেপ।
রাজ্য সফরে এসেই সুর বেঁধে দিয়েছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই সফরের প্রথম দিনেই রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কমিশনের কড়া বার্তার মুখে পড়েছিল। সূত্রের দাবি, টাকার লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক ব্যাঙ্কের ভূমিকা এবং তথ্য সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে পরিকাঠামোগত কিছু অসুবিধার কথা শুনেছিলেন কমিশন-কর্তা। যা তাঁদের আশ্বস্ত করতে পারেনি। একই সঙ্গে সে দিন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট(ইডি), সিবিআই, আবগারি, নার্কোটিক্স ইত্যাদি সংস্থাও অর্থ-মদ-মাদক-সহ বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত কাজকর্ম নিয়ে কমিশনের কড়া বার্তা শুনেছিল। ওই সফরের পরেই রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক এবং ‘স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটির’ (এসএলবিসি, বা রাজ্যস্থিত অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির মিলিত কমিটি) কর্তাদের ডেকে পাঠিয়েছিল দিল্লির নির্বাচন সদন। সেখানেও তাঁদের সঙ্গে এক দফা বৈঠক করেন কমিশন-কর্তারা। ঘটনাচক্রে, ওই বৈঠকের পরেই সম্প্রতি এমন কিছু এনবিএফসি-কে শো-কজ় করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত যা যা বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তার আর্থিক মূল্য ১১২ কোটি টাকারও বেশি। গত কয়েকদিনে এমন বাজেয়াপ্ত হওয়ার পরিমাণ আরও বেড়েছে।
কোম্পানি আইনের অধীনে এমন এনবিএফসি-গুলি নথিবদ্ধ থাকে। পুরোপুরি ব্যাঙ্কের ক্ষমতা না দিলেও, গাড়ি-ফোন ইত্যাদি কেনার জন্য ঋণ, পরিকাঠামো-মাইক্রোফাইনান্স, ব্যক্তিগত বা এমএসএমই (ক্ষুদ্র-ছোট ও মাঝারি শিল্প) ক্ষেত্রকে ঋণ দেওয়ার ক্ষমতাও রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক তাদের দিয়ে রেখেছে। বিশেষ কিছু গোত্রের এনবিএফসি অবশ্য আমানত জমা নিতেও পারে, তবে সেই সংখ্যাটা খুবই কম। তবে যেটুকু পরিসরেই এমন কোম্পানিগুলি কাজ করে থাকুক, সে সবের উপরে সম্পূর্ণ নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ থাকে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের। অভিজ্ঞ কর্তাদের একাংশের মতে, ছোট-খাটো যে অর্থলগ্নি (প্রধানত অবৈধ) সংস্থাগুলি এতদিন ধরেবিভিন্ন জায়গায় কাজ করছিল, সেগুলির প্রায় সবই এখন তেমন সক্রিয় নেই। নানা সময়ে সেই ধরনের সংস্থাগুলিতে ইডি-সিবিআইয়ের হানাও চলে থাকে। ফলে সেই স্তর থেকে ভোটের ময়দানে টাকার জোগান হওয়া এখন আর সম্ভব নয়। এই অবস্থায় এনবিএফসি-গুলি কোনও ভাবে যাতে রাজনৈতিক দিক থেকে প্রভাবিত না হয়, তা ঠেকানোই এখন রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের অন্যতম লক্ষ্য।