রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। — ফাইল চিত্র।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে হাজারের বেশি ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি বোমাবাজি এবং গুলি চালনার ঘটনার পরে সোমবারই এই পদক্ষেপ করেছে কমিশন। প্রসঙ্গত, প্রথম দফার ভোটের আগে এমনই একটি তালিকা নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছিল। তাতে বেআইনি কাজ না করলে আগ বাড়িয়ে অতিসক্রিয় হতে নিষেধ করা হয়েছিল।
ডিজিকে নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এক জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান গুলিতে আহত হয়েছেন সম্প্রতি। ফলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে অশান্তি পাকানোর আরও চেষ্টা হবে। আদালতের অন্তর্বর্তী রায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় অপরাধী বা অপরাধ করতে পারে এমন ব্যক্তিদের নিরস্ত করতে বাধা তৈরি করবে না। ফলে সেই মতো প্রায় এক হাজার সন্দেহভাজনের নাম রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্টেরা অপরাধ করতে পারে দ্বিতীয় দফার ভোটের সময়ে। ফলে রাজ্য পুলিশ চাইলে তাদের আগে থাকতেই নিরস্ত করতে পারে। ভোটের আগে প্রচার যে সময়ে প্রচার হচ্ছে না তখন কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। নির্দিষ্ট ধারায় কুখ্যাত অপরাধী বা অপরাধ করতে পারে এমন ব্যক্তিদের ধরতে হবে। ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন, প্রভাবিত করা, নগদ অর্থ বিলি বা পেশিশক্তির প্রদর্শনেও করতে হবে কড়া পদক্ষেপ।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির কাছে পৌঁছে কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা প্রভাবহীন ভোট করানোর ব্যাপারে সতর্ক করেছেন বলে খবর। ডিজিকে পাঠানো তালিকায় জাহাঙ্গিরের নামও রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজা গাজী-সহ আরও বহু তৃণমূল নেতার নাম।
প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফার আগেও ক্রমশ বাড়ছে গ্রেফতারির সংখ্যা। সোমবার সন্ধ্যা ছ’টায় শেষ হয়েছে রাজনৈতিক প্রচারের যাবতীয় কর্মসূচি। তার পর থেকে ভোটের দিন সকাল সাতটা (ভোট শুরু) পর্যন্ত থাকবে নীরব সময় (সাইলেন্স পিরিয়ড)। কমিশন সূত্রের তথ্য— গত ৩৬ ঘণ্টায় আসন্ন দফার ভোটের জন্য নির্ধারিত ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে গ্রেফতারির সংখ্যা ১৫৪৩ ছাড়িয়েছে।