WB Assembly Elections 2026

আরজি করে নিহত চিকিৎসকের মা-বাবা বিজেপির সদস্য হয়েছেন, প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব: শুভেন্দু

নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক ময়দানে আনা হলে তা নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকেই। বিশেষ করে সহানুভূতির বিষয়টি ভোটের ফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের একাংশের মত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ২১:৩২
The parents of the young doctor killed in RG Kar Hospital have become BJP members, but the central leadership will decide to field a candidate, says Suvendu Adhikari

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আরজি কর হাসপাতালে নিহত চিকিৎসক-পড়ুয়ার মা-বাবা বিজেপির সদস্য হয়েছেন। তবে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সোমবার এমনটাই বললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‘‘নির্যাতিতার মা-বাবা ইতিমধ্যেই বিজেপির সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন।’’ ভবিষ্যতে তাঁদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও, এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বিরোধী দলনেতা।

Advertisement

শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ওই পরিবারের কেউ প্রার্থী হবেন কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই সংক্রান্ত বিষয়ে আমি, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার— তিন জনই নিজেদের মতামত দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছি।’’ তবে সেই মতামত প্রকাশ্যে আনা উচিত নয় বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, “এই বিষয়গুলি সংবাদমাধ্যমে বলা ঠিক নয়। দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনাই এখানে প্রাধান্য পাবে।” তিনি আরও দাবি করেন, প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক করতে বিজেপি প্রায় পাঁচ হাজার কর্মীর মতামত নিয়েছে। সেই মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি হবে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে দলের তরফে কোথাও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি বলেও জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “আমরা কেউই এই বিষয়ে কোথাও কিছু বলিনি, এমনকি, সামাজিক মাধ্যমেও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।”

রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আরজি করে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক ময়দানে আনা হলে তা নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে সহানুভূতির বিষয়টি ভোটের ফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের একাংশের মত। দিন দুয়েক আগেই নির্যাতিতার মা জানিয়েছিলেন, তিনি পানিহাটি বিধানসভায় প্রার্থী হবেন। সেই থেকেই জল্পনার সূত্রপাত। তবে বিজেপির তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু ঘোষণা না হওয়ায়, সবটাই এখনও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালে কর্মরত এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। সেই ঘটনায় উত্তাল হয় রাজ্য রাজনীতি। সেই আন্দোলনের ঢেউ অনেকটাই স্তিমিত এখন। সেই আবহে পানিহাটি বিধানসভায় ওই নির্যাতিতা তথা নিহত চিকিৎসকের মা প্রার্থী হন কি না, সে দিকেই নজর বাংলার রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

Advertisement
আরও পড়ুন