West Bengal Elections 2026

গণনা-পর্ব নিয়ে প্রস্তুতি দু’পক্ষেই, চলছে তরজাও

তৃণমূল সূত্রে খবর, দলের ‘কাউন্টিং এজেন্ট’ ও তাঁদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা নেতাদের গণনা নিয়ে কী করণীয়, তা আজ ভার্চুয়াল বৈঠকে স্পষ্ট করে দেবেন মমতা। বৈঠকে থাকার কথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ০৮:৪২

—প্রতীকী চিত্র।

ভোটগ্রহণ-পর্ব মিটতেই রাজ্য রাজনীতির দুই প্রধান শিবির তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে এ বার গণনা-পর্ব নিয়ে চাপান-উতোর সপ্তমে উঠেছে। ইভিএম বদল বা গণনা-কেন্দ্রে কারচুপির আশঙ্কায় বার বার দলের নেতা-কর্মী ও প্রার্থীদের ‘পাহারা’র নির্দেশ দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বিষয়টি নিয়ে আজ, শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠকও করতে পারেন মমতা। একই ভাবে আজই বৈঠক করতে পারে বিজেপি-ও। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুক্রবার সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

তৃণমূল সূত্রে খবর, দলের ‘কাউন্টিং এজেন্ট’ ও তাঁদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা নেতাদের গণনা নিয়ে কী করণীয়, তা আজ ভার্চুয়াল বৈঠকে স্পষ্ট করে দেবেন মমতা। বৈঠকে থাকার কথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। প্রাথমিক ভাবে যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তাতে রাজ্যের সব আসনে গণনা সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্য একই সময় প্রার্থী, জেলা নেতৃত্বের মতো পৌঁছবে কলকাতাতেও। উল্টো দিকে, পশ্চিমবঙ্গের সাংগঠনিক ও নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা সুনীল বনসল ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এ দিন শিলিগুড়ি ও মালদহ বিভাগের নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। রাজ্য দফতরে এ দিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়, শশী অগ্নিহোত্রীর উপস্থিতিতে দলের কলকাতা বিভাগের নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে।

সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রংরুমে রাতে ঘণ্টা চারেক ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে ছিলেন মমতা। ওই গণনাকেন্দ্রে এ দিন গিয়েছিলেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী, বিরোধী নেতা শুভেন্দুও। তার আগেই ওই রাতে স্ট্রংরুমে মমতার উল্টো দিকের চেয়ারে বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীল দাসের সিসিটিভি ফুটেজের ছবি দিয়ে শুভেন্দু বলেছেন, ‘মাননীয়াকে কোনও রকম বাড়তি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।’ মমতার স্ট্রংরুমে উপস্থিতি নিয়ে এ দিন বিরোধী নেতার আরও অভিযোগ, “এক জন প্রার্থীকে ইভিএমের এত কাছে চার ঘণ্টা থাকতে দেওয়া উচিত হয়নি। আমি আরও বা ডিইও-র বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ জানাচ্ছি না, হয়তো ওঁরা পদের সম্মানের জন্য এটা করেছেন। কিন্তু এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ হয়েছে। নিয়ম হচ্ছে, সিসিটিভি-র সামনে প্রত্যেক দলের চার জন থাকতে পারেন। আমাদের আছে, ওঁরও আছে।” বিরোধী নেতা গণনাকেন্দ্র পরিদর্শনের পরে অরফ্যানগঞ্জে নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রং রুমে ইভিএম কারচুপির সম্ভাবনার অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। এই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি যাতে স্ট্রংরুম ‘পাহারা’ দিতে পারে, সে জন্য বিভিন্ন দলকে ১০টি করে পাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই পাস ব্যবহার করে এক বারে দু’জন করে স্ট্রংরুমের ভিডিয়ো-র উপরে নজরদারি চালাতে পারবেন। সকালে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে গিয়ে সেই পাসগুলি দলের কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছেন শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা। তিনি বলেছেন, “আমরা ইভিএম কারচুপির যে অভিযোগ তুলেছি, তা ন্যায্য।”

সন্ধ্যায় রাজ্যের নানা প্রান্তে স্ট্রংরুমে সিসিটিভি-নজরদারিতে ‘বার বার অত্যন্ত সন্দেহজনক ব্যাঘাত ঘটার’ অভিযোগ তুলে কমিশনে গিয়েছিল শশী, কলকাতা বন্দরের প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম-সহ তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল। রাজ্যের প্রতিটি স্ট্রংরুমে সিসিটিভি খারাপ হওয়া বা বন্ধ থাকার বিষয়ে রিপোর্ট তৈরি, নজরদারি ব্যাহত হওয়ার সময়ের বিস্তারিত ‘লগ’ এবং এডিট না-করা সিসিটিভি রেকর্ডিং সরবরাহের মতো নানা দাবি তুলেছেন ফিরহাদেরা।

এই আবহে তৃণমূল ও বিজেপি, দু’পক্ষকেই নিশানা করেছে সিপিএম। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “এটা ভোট, না কি স্ট্রংরুম দখলের লড়াই? ইভিএম, ব্যালট বাক্স, স্ট্রংরুম দখলের মতো মনোভাব বিজেপি ও তৃণমূলের। তৃণমূলনেত্রী বসে আছেন, যাতে দখল না-হয়। কারণ উনি জানেন, দখল করা যায়। সেটাই বিজেপি করতে যাচ্ছে বলে লড়াই? পঞ্চায়েত ভোটের সময়েও এমন দখল হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর মুখ্যমন্ত্রী দেননি।”

আরও পড়ুন