TMC

তৃণমূলের বিপর্যয়ে কেউ তোপ দাগছেন অভিষেকের বিরুদ্ধে, কারও মুখে বিজেপির স্তুতি! সামলাতে বিবৃতি জারি দলের

বুধবার তৃণমূলের জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে কালীঘাটে বৈঠক করেন মমতা। তৃণমূল সূত্রে খবর, ওই বৈঠকে মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, অভিষেকের সমালোচনা করলে পার্টি বরদাস্ত করবে না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ২১:২৬
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তৃণমূল হারতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলতে শুরু করেছে দলেরই একাংশ। সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলে কিংবা সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করে যে যেমন পারছেন, তেমন মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ বিজেপির স্তুতিও গাইতে শুরু করেছেন। যা ক্রমশ সংক্রামক জায়গায় যাচ্ছে বলেই অভিমত সদ্যপ্রাক্তন শাসকদলের অনেক প্রবীণ নেতার। পরিস্থিতি যখন এমনই, তখন বিবৃতি জারি করে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করল তৃণমূল।

Advertisement

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যম বা সমাজমাধ্যমে অনেকে অনেক কিছু বলছেন, তা দলের অবস্থান নয়। সেগুলি সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত মত। দল আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু বললে, তা আনুষ্ঠানিক ভাবেই জানানো হবে।

তৃণমূলের তরুণ নেতা তথা অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কোহিনূর মজুমদার সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, তৃণমূলের এই হারের জন্য যদি একমাত্র কেউ দায়ী হয়ে থাকেন, তা হলে তিনি অভিষেক। তাঁর কর্পোরেট সংস্কৃতি, প্রবীণদের প্রতি অসম্মান, অযোগ্যদের নেতা করা নিয়ে সরাসরি ক্যামাক স্ট্রিটের দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি।

প্রাক্তন বিধায়ক তথা মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বলেছেন, দলটাকে তিলে তিলে শেষ করেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, মমতা সব জানতেন। কিন্তু কিচ্ছু করতে পারেননি। তাঁকে ধৃতরাষ্ট্র হয়ে থাকতে হয়েছে।

দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের (সমতল) কোর কমিটির অন্যতম সদস্য প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কন্যা পাপিয়া ঘোষ দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের দায়িত্ব সামলে আসছেন৷ একদা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৫ সালে কোর কমিটি গঠন করে রাজ্য তৃণমূল৷ পাপিয়ার অভিযোগ, গৌতম দেবই উত্তরবঙ্গে তৃণমূলকে লাটে তুলে দিয়েছেন।

আবার তৃণমূলের মুখপাত্র ঋজু দত্ত ভিডিয়োবার্তায় বলেছেন, গত দু’দিন ধরে তিনি তাঁর নিজের দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। কিন্তু বিজেপির নেতারা তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে সুরক্ষিত রেখেছেন। দলের নির্দেশে করা আক্রমণ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে ক্ষমাও চেয়েছেন ঋজু।

বুধবার তৃণমূলের জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে কালীঘাটে বৈঠক করেন মমতা। তৃণমূল সূত্রে খবর, ওই বৈঠকে মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, অভিষেকের সমালোচনা করলে পার্টি বরদাস্ত করবে না। শৃঙ্খলা রাখার বিষয়ে তিনি একটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিও গড়ে দিয়েছেন। যাতে রাখা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং ধনেখালির জয়ী প্রার্থী অসীমা পাত্রকে।

Advertisement
আরও পড়ুন