অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
মেদিনীপুরের মাটি গদ্দারদের, মীর জাফরদের সমর্থন করে না। পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের জনসভায় দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার এ ভাবেই নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্ব মেদিনীপুর অধিকারী পরিবারের ‘গড়’ বলে পরিচিত। সেখানেই দাঁড়িয়েই অভিষেক একের পর এক তোপ দাগলেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগদান করা শুভেন্দুকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের সভায় তৃণমূল সাংসদ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রসঙ্গে কটাক্ষ করলেন বিজেপি-কে।
বৃহস্পতিবার ভগবানপুরে ওই বিধানসভা এবং পটাশপুর বিধানসভার প্রার্থীর হয়ে প্রচার করেন অভিষেক। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ভগবানপুরে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ মাইতি। অন্য দিকে, পটাশপুরে জয়ী হন তৃণমূলের প্রার্থী উত্তম বারিক। ওই বছর পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ন’টিতে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। সেই ভগবানগোলায় দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘আজ এখানকার মানুষের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস দেখলাম, তা থেকে স্পষ্ট যে মেদিনীপুরের মাটি গদ্দার, বিশ্বাসঘাতক বা মীর জাফরদের সমর্থন করে না। এই মাটি নিজের মেরুদণ্ড বিক্রি করে না।’’ এর পরে অভিষেক আরও বলেন, ‘‘এই মাটি সতীশ সামন্ত, সুশীল ধারা, বীরেন্দ্রনাথ শাসমল, ক্ষুদিরাম বোস, মাতঙ্গিনী হাজরার মাটি। ১৯৪২ সালে এই মাটি পৃথক তাম্রলিপ্ত সরকার গঠন করে সারা দেশের সামনে উদাহরণ গড়েছিল।’’
অভিষেক এখানেই থামেননি। আরও সুর চড়িয়ে তিনি জানান, তাঁর সরকারের উন্নয়নের রেকর্ড তিনি দিতে রাজি। কিন্তু বিজেপি কি তা করবে, প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপির কি ক্ষমতা আছে? ভগবানপুরের বিধায়ক কে? কাঁথির সাংসদ কে? তাঁদের রিপোর্ট কার্ড পেশ করতে বলুন।’’ প্রসঙ্গত, কাঁথির সাংসদ হলেন সৌমেন্দু অধিকারী। অভিষেকের প্রশ্ন, ভগবানগোলা এবং কাঁথি কি এ বার দিল্লি থেকে পরিচালিত হবে?
বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরেও সভা করেন অভিষেক। তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার কথা জানিয়েছে। তাঁর দাবি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন জনজাতিরাই। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপি বলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হবে। আপনি নিজের ধর্ম কী ভাবে পালন করবেন, তা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে। আপনারা (জনজাতি) সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’’ তার পরেই অভিষেক কটাক্ষ করে জনানা, যে মাটির জন্য বাংলার বিপ্লবীরা প্রাণ দিয়েছেন, নবজাগরণের পথ দেখিয়েছিলেন, বশ্যতা স্বীকার করেনি, দিল্লি থেকে সেই মাটিকে পরিচালনা করতে চায় বিজেপি।
বিজেপি ইস্তাহারে জানিয়েছে, ক্ষমতায় কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেবে তারা। এই নিয়ে অভিষেক প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘‘আপনাদের দাবিকে আমরা মর্যাদা দিই। দু’মাস আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চিঠি দিয়েছে। দু’মাস হয়ে গেলেও নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের সরকার কিছু করেনি। এতদিন কেন কিছু করেননি? দু’মাস আগেই কুড়মালি ভাষাকে কেন স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি?’’
ঝাড়গ্রাম জেলার অন্তর্গত গোপীবল্লভপুর আসন ২০১১ সাল থেকেই তৃণমূলের দখলে। তৃণমূলের একটি সূত্র বলছে, এ বার সেখানে তৃণমূলের কুড়মি ভোটবাক্সে প্রভাব পড়তে পারে। সেখানে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন রাজেশ মাহাতো। এই নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘তৃণমূল যখন ১০ বছর আগে বলতো, এই অজিত মাহাতো, রাজেশ মাহাতোরা কুড়মি সমাজের আবেগ নিয়ে খেলছেন, মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন, আপনাদের অনেকেই বিশ্বাস করেননি। আজ প্রতিষ্ঠিত, দিল্লিতে কুড়মি সমাজের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ চাওয়ার নাম করে অজিত মাহাতো, রাজেশ মাহাতো চুক্তি করে চলে এসেছেন। অজিত মাহাতো নিজের ছেলেকে দাঁড় করিয়েছেন পুরুলিয়ায় আর রাজেশ মাহাতো এই আসনে (গোপীবল্লভপুর) লড়ছেন।’’ উল্লেখ্য, পুরুলিয়ার জয়পুর আসন থেকে বিজেপি-র প্রার্থী হয়েছেন অজিতের পুত্র বিশ্বজিৎ মাহাতো।