Updates Of Jeet

‘ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার বাংলায় নতুন সকাল আনবে,’ দেবের পরে কি জিৎ আসছেন রাজনীতিতে?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্ব পদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন জিৎ। তার পরেও কি একই ভাবে সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা দিয়েছিলেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ১৫:৪৩
জিৎ কি দেবের জায়গায় আসছেন?

জিৎ কি দেবের জায়গায় আসছেন? ছবি: ফেসবুক।

শনিবার তিনি আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছিলেন, ২০১১-য় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও ছিলেন জিৎ। রবিবার তিনিই সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলার গৌরব, অস্মিতা, সংস্কৃতি এবং শিক্ষার ঐতিহ্যকে যে ভাবে বিশ্বের চোখে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত বেদনার।

Advertisement

জিৎ নিজেকে বরাবর ‘অরাজনৈতিক’ দাবি করেন। রবিবার তাঁর ভাগ করে নেওয়া এই বার্তা কতটা অরাজনৈতিক? প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বাংলা বিনোদনদুনিয়ায়। একই সঙ্গে এমন গুঞ্জনও উঠেছে, দেবের পর রাজনীতিতে কি জিৎ আসছেন? দেবের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর আনন্দবাজার ডট কম-কে অভিনেতা-প্রযোজক জানিয়েছেন, আগামী দিনে তিনি অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান। রাজনীতির সঙ্গে আর বেশি জড়াবেন না। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই কি রাজনীতির আঙিনায় জিতের পা রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে?

জিৎ যথারীতি নীরব। তবে তাঁর বার্তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পদ্ম শিবিরের প্রশংসা। জিৎ শুরুতেই যেমন লিখেছেন, “এই বিজয় ভারতীয় জনতা পার্টির জন্য এক অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে এসেছে। এটা শুধু একটি রাজনৈতিক জয় নয়। মানুষের প্রতি এক বড় অঙ্গীকার।” তার পরেই তাঁর বার্তায় যেন অনুযোগের সুর। কারও নাম বা পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ জিৎ জানাননি। কিন্তু তাঁর লেখা অনুযায়ী, “দীর্ঘ সময় ধরে বাংলার গৌরব, অস্মিতা, সংস্কৃতি এবং শিক্ষার ঐতিহ্যকে যে ভাবে বিশ্বের চোখে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত বেদনার।”

জিতের এই বক্তব্যও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, ২০১১-য় নতুন সরকার আসার পরেও কি তিনি এরকমই বার্তা ভাগ করে নিয়েছিলেন?

জিৎ তাঁর বার্তায় আরও লিখেছেন, “আজ আমি আশা করি, ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার বাংলার জন্য এক নতুন সকাল, এক নতুন আলোর দিশা নিয়ে আসবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘মোদী গ্যারন্টি’— সেই কথার উপর আজ কোটি কোটি মানুষের আশা ও বিশ্বাস দাঁড়িয়ে আছে।” জিতের তাই আরও আশা, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ আবার ‘সোনার বাংলা’ হয়ে উঠবে। তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করবে। শেষে অভিনেতা ‘জয় হিন্দ’ লিখতেও ভোলেননি। জিতের পুরো বক্তব্যকে এর পর আর কিছুতেই ‘অরাজনৈতিক’ বলে উড়িয়ে দিতে পারছে না টলিউড।

পাশাপাশি আরও একটি দিক নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। জিতের আগামী ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ চলতি মাসে মুক্তি পাওয়ার কথা। ছবির কেন্দ্রে বিপ্লবী অনন্ত সিংহের জীবন। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিৎ স্বয়ং। এই ফাঁকে দেশাত্মবোধক বার্তা দিয়ে তিনি নিজের ছবির প্রচার সেরে নিচ্ছেন না তো? জিতের রাজনীতিতে আসা তাই সময়ের উপরেই ছেড়ে দিয়েছে বাংলা বিনোদনদুনিয়া।

Advertisement
আরও পড়ুন