অমিতাভ কি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন? ছবি: সংগৃহীত।
তিনি বলিউডের শাহেনশাহ। তাঁকে দেখার জন্য সারা বিশ্বের মানুষ অপেক্ষা করে থাকেন। কিন্তু অমিতাভ বচ্চন নাকি নিজেও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। কাজ না পাওয়ার ভয় নাকি তাঁরও আছে। সম্প্রতি নিজের ব্লগে এমনই উল্লেখ করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা।
ভবিষ্যতে যদি সুযোগ না পান, এই ভয় থেকেই নাকি একসঙ্গে ১০-১৫টি ছবিতে কাজ করতেন অমিতাভ। ব্যস্ততায় ভরা থাকত সারা দিন। সকালে হয়তো একটি ছবির শুটিং করতেন। তার পরে দুপুরে অন্য ছবির সেটে পৌঁছে যেতেন। রাতে আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের কাজ শুরু করতেন অন্য কোনও ছবিতে। একসময়ে নাকি অভিনেতারা এ ভাবেই পরিশ্রম করতেন। আর তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন অমিতাভ।
সম্প্রতি নিজের ব্লগে অমিতাভ জানান, এখনকার মতো কোনও চরিত্রে অভিনয়ের আগে দীর্ঘ প্রস্তুতির সুযোগ তাঁদের প্রজন্মের অভিনেতাদের ছিল না। বৃহস্পতিবার রাতে একগুচ্ছ ছবি ভাগ করে নিয়ে অমিতাভ লেখেন, “প্রস্তুতি বিষয়টাই আমাদের প্রজন্মের কাছে অচেনা ছিল। এখন অবশ্য কাজ শুরুর আগে প্রস্তুতি নেওয়া অভিনয়জগতের অত্যন্ত পরিচিত একটি পদ্ধতি। আমার কাছে এই ধারণা তখন সম্পূর্ণ নতুন ছিল। এখন দেখি, শিল্পীরা একটি চরিত্রে ঢুকে পড়ার জন্য কতটা পরিশ্রম করেন। চেহারায় বদল আনেন, চরিত্রের আদবকায়দা আত্মস্থ করেন তাঁরা।”
বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের নিষ্ঠার প্রশংসাও করেছেন অমিতাভ। তাঁর মতে, একটি চরিত্রকে গভীর ভাবে বোঝার জন্য যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তা সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ব্লগে আরও লেখেন, “এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি প্রক্রিয়া। যাঁরা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু আমাদের সময়ে একই সঙ্গে ১০ থেকে ১৫টি ছবিতে কাজ করতাম। কখনও কখনও একই দিনে দু’তিনটি ছবির শুটিংও থাকত। তখন একটি চরিত্রের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়া অসম্ভব ছিল।”
অমিতাভের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে সেই সময়ের শুটিংয়ের ধরনও। আগে থেকে কোনও প্রস্তুতি থাকত না। এমনকি, অনেক ক্ষেত্রেই অভিনেতারা সেটে পৌঁছনোর পরেই জানতে পারতেন, ঠিক কোন দৃশ্যের শুটিং হবে। পরিচালক বা সহকারী পরিচালক সেই মুহূর্তেই দৃশ্যটি বুঝিয়ে দিতেন। তার পরেই শুরু হয়ে যেত ক্যামেরার সামনে অভিনয়।