(বাঁ দিকে) সুতপা শিকদার, (ডান ডিকে) ইরফান খান। ছবি: সংগৃহীত।
দিল্লির ‘ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা’-য় প্রথম আলাপ দু’জনের। সেখান থেকেই প্রেম। তার পর বিয়ে। ইরফান খানের বাঙালি স্ত্রী সুতপা শিকদার বলেছেন, ‘‘আমাদের মধ্যে যখন আলাপ হয়, তখন ও অর্ধেক জিনিসই জানত না, যা আমি জানতাম।’’ তবে সেইসঙ্গে সুতপা এও বলেছেন, ‘‘আবার এমন অনেক কিছু আমিও জানতাম না, যা ও জানত। সেই অর্থে আমরা প্রথম থেকেই সমান ছিলাম।’’ তাঁদের ভালবাসার কথা কমবেশি অনেকেরই জানা। তবে যেটা জানা ছিল না, সেটাই প্রকাশ্যে আনলেন তাঁদের ছেলে বাবিল খান।
২০২০ সালে ২৯ এপ্রিল প্রয়াত হন ইরফান। বয়স তখন মাত্র ৫৩। যদিও তার বছর খানেক ধরে ক্যানসার বাসা বাঁধে শরীরে। কিন্তু ২০২০–তে বাড়াবাড়ি হয়। দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ভেঙে গিয়েছিল তাঁর চেহারা। ঔজ্জ্বল্য কমছিল। কিন্তু তিনি তাঁর স্বামীর দায়িত্বে ছিলেন অবিচল। ছেলে বাবিল সমাজমাধ্যমে বাবা ও মায়ের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে ইরফানকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে, তিনি বেশ অসুস্থ। কিন্তু তার মধ্যেই সুতপার পায়ের দিকে খেয়াল রেখেছেন।
সুতপার পায়ের যত্ন নিচ্ছেন ইরফান। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
বাবিল লেখেন, ‘‘ছবিটা যে সময়ের, তখন বাবা ভীষণ অসুস্থ। প্রতিনিয়ত মা ছোটাছুটি করছে। যার ফলে মায়ের পায়ে কড়া পড়ে যাচ্ছে, এক ধরনের ঘা হচ্ছে। কিন্তু বাবা সেই সময়েও মাথায় মোবাইল বেঁধে সেটার টর্চের আলোয় মায়ের পায়ের পরিচর্যা করছে। একেই বলে ভালবাসার ছোঁয়া।’’
সুতপা একাধিক বার স্বীকার করেছেন, তারকা ইরফানকে নিয়ে তাঁর কোনও মুগ্ধতাই ছিল না। এক দিকে, যখন ইরফান হলিউড থেকে বলিউডে একের পর এক কাজ করে চলেছেন, তখন স্ত্রী সুতপা থেকেছেন প্রচারের আলোর বাইরে। এই ধরনের সম্পর্কে দু’তরফের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে পেরেছিলেন। কারণ, তাঁরা একে অপরকে শ্রদ্ধ করতেন।