টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী বিজেপির পাপিয়া অধিকারী, পরাজিত অরূপ বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত।
টালিগঞ্জ আর অরূপ বিশ্বাস সমার্থক প্রায়। দীর্ঘ ২০ বছর পরে সেই টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ঘটল পালাবদল। ভোটে বিজয়ী পাপিয়া অধিকারী।
২০০৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জিতে বিধায়ক পদ পেয়েছিলেন অরূপ। ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফল সে সব হিসেবনিকেশ বদলে দিল। শুরুতে পাপিয়ার থেকে কিছুটা এগিয়েছিলেন অরূপ। কিন্তু পঞ্চম রাউন্ডের গণনার পর থেকে উল্টে যায় হিসাব। টালিগঞ্জ ফিল্ম পাড়ার নক্ষত্রদের ‘সবচেয়ে কাছের’ নেতা ভোটের অঙ্কে পিছোতে শুরু করেন।
পঞ্চম রাউন্ডের গণনায় অরূপকে ছাপিয়ে পাপিয়া এগিয়ে যান ৬২৪ ভোটে। অরূপের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ২৩১৩৭। পাপিয়া পেয়েছিলেন ২৩৭৬১ ভোট। অন্তিম পর্যায়ের গণনায় ৬০১৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী পাপিয়া। তাঁর মোট প্রাপ্ত ভোট ৮৮৪০৭। অরূপের প্রাপ্ত ভোট ৮২৩৯৪।
নির্বাচনী প্রচারের সময়ে বেশ কয়েক বার বিতর্কে জড়িয়েছেন পাপিয়া। ৪ এপ্রিল ২০২৬-এ মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সময়ে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হন এবং নিরাপত্তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তার পরে প্রচারের সময়ে পাপিয়া জাতীয় পতাকা দিয়ে ঘাম মুছছিলেন, যা নিয়ে তৃণমূল নেতা কোহিনূর মজুমদার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন।
আগে, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে উলুবেড়িয়া দক্ষিণ কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ছিলেন পাপিয়া। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পুলক রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। সেই বছরে ৭৩,৪৪২টি ভোট পেয়ে পরাজয় হয় পাপিয়ার।
অন্য দিকে, ২০২৫ সালের শেষ থেকেই সময়টা ভাল যাচ্ছে না অরূপের। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক, বিদ্যুৎ এবং আবাসনমন্ত্রী ছিলেন তিনি। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসে মেসি-কাণ্ডের পরে ইস্তফা দেন অরূপ।
টালিগঞ্জ স্টুডিয়োপাড়ায় এত দিন একচ্ছত্র প্রতিপত্তি ছিল অরূপ এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের। ফেডারেশনের সভাপতি পদে স্বরূপের কথাতেই সব কিছু হত। পালাবদলের পরে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর কী হবে? এই নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকেই।
টালিগঞ্জের ফিল্ম-পাড়ায় কাজ করা নিয়ে রাজনৈতিক ‘দাদাগিরি’-র অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে বহু দিন ধরেই উঠেছে। ফেডারেশনের অনুমতি ছাড়া শুটিং করলে, নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে পরিচালক-প্রযোজকদের। কে কাজ করতে পারেন, কে পারবেন না— এমন বহু বিষয় নিয়ে অভিযোগের তালিকা রীতিমতো লম্বা। টালিগঞ্জের পালাবদলে কি সে অভিযোগেও পরিবর্তন আসবে পালাবদলের পরে, প্রশ্ন বহু জনের। এর মাঝে বিজেপির জয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নায়ক জিৎ। অভিনেতা যশ দাশগুপ্তও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সমাজমাধ্যমে।