Anshula Kapoor Marriage

শ্রীদেবীকে বিয়ে করতেই ভেঙেছিল বাবার সঙ্গে সম্পর্ক! বিচ্ছেদ ভুলে অংশুলার বিশেষ দিনে বনিকে জড়িয়ে অর্জুন-জাহ্নবী-খুশি

১৯৮৩ সালে মোনা শৌরী কপূরের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন প্রযোজক বনি। তাঁদের দুই সন্তান— অর্জুন কপূর ও অংশুলা। এর পরে ১৯৯৬ সালে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখেই শ্রীদেবীকে বিয়ে করেন বনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ২১:১০
(বাঁ দিক থেকে) জাহ্নবী কপূর, অর্জুন কপূর, অংশুলা কপূর, বনি কপূর, খুশি কপূর।

(বাঁ দিক থেকে) জাহ্নবী কপূর, অর্জুন কপূর, অংশুলা কপূর, বনি কপূর, খুশি কপূর। ছবি: সংগৃহীত।

৬ জুলাই বিয়ে করছেন প্রযোজক বনি কপূরের মেয়ে অংশুলা কপূর। ধুমধাম করে মেহন্দি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল রবিবার। গত মাসের শেষের দিকেই শুরু হয়েছিল প্রাক্‌বিবাহ অনুষ্ঠান। চিত্রনাট্যকার রোহন ঠক্করের সঙ্গে অংশুলার বিয়েতে হাজির গোটা কপূর পরিবার। বনির দুই পক্ষের চার সন্তান একসঙ্গে উপস্থিত অনুষ্ঠানে। রয়েছেন বনির দুই ভাই অনিল কপূর, সঞ্জয় কপূর ও তাঁদের গোটা পরিবারও। সমাজমাধ্যম ভরেছে কপূরের পরিবারের ছবিতে। এক ফ্রেমে চার সন্তানকে নিয়ে বনিকে দেখা গিয়েছে হাসিমুখে। তবে এত দিন তাঁদের সম্পর্ক এত সহজ, সাবলীল ছিল না।

Advertisement

১৯৮৩ সালে মোনা শৌরী কপূরের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন প্রযোজক বনি। তাঁদের দুই সন্তান, অর্জুন কপূর ও অংশুলা। কাজের সূত্রে আলাপ বনির আলাপ হয় শ্রীদেবীর সঙ্গে। প্রথম থেকেই শ্রীদেবীতে মুগ্ধ ছিলেন বনি। পরিচিতি ধীরে ধীরে প্রেমে পরিণতি পায়। ১৯৯৬ সালে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখেই শ্রীদেবীকে বিয়ে করেন বনি, যা মোটেই মেনে নিতে পারেননি তাঁর প্রথম পক্ষের সন্তানেরা। সেই সময়ে প্রবল মানসিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন অর্জুন-অংশুলা। অর্জুন নিজেই সে কথা একাধিক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন। শ্রীদেবীর মৃত্যুর পরে সেই নিয়ে মুখ খোলেন অংশুলাও।

অর্জুনের তখন মাত্র ১১ বছর বয়স, যখন তাঁর বাবা দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। যার ফলে বেড়ে ওঠার সময়ে বাবার সঙ্গে বিশেষ ভাল সম্পর্ক ছিল না অভিনেতার। তার থেকেও বেশি আলোচনায় ছিল শ্রীদেবী ও অর্জুনের ঠান্ডা সম্পর্ক। অভিনয়জগতে অর্জুন পা রাখার পরেও, দীর্ঘদিন বনির সঙ্গে কেবল শ্রীদেবী ও তাঁদের দুই কন্যা জাহ্নবী কপূর, খুশি কপূরকেই দেখা যেত। বনি অবশ্য জানিয়েছিলেন, শ্রীদেবী নিয়মিত অর্জুন ও অংশুলার খোঁজ নিতেন। কিন্তু, তখন জাহ্নবী-খুশির সঙ্গেও যে অর্জুন-অংশুলার তেমন ভাল সম্পর্ক ছিল না, তা ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সবাই জানেন। ২০১৬ সাল নাগাদ, পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে অর্জুনকে খুড়তুতো দিদি সোনমের সঙ্গে আড্ডা দিতে দেখা গেলেও জাহ্নবী-খুশির ধারেকাছে দেখা যায়নি তাঁকে। সৎবোনেদের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক? প্রশ্ন করা হলে অকপটে অভিনেতা বলেছিলেন, “সত্যি বলতে আমাদের দেখাও হয় না, একসঙ্গে সময়ও কাটাই না। ফলে সম্পর্ক নেই বললেই চলে।” বাবার দ্বিতীয় বিয়ে গভীর প্রভাব ফেলে অর্জুনের মনে। অভিনেতা জানিয়েছিলেন, ছোটবেলাতেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে কোনও দিন বিয়ে করবেন না। পরে অবশ্য বোঝেন যে, গোটা জীবন একা কাটানো যায় না। তিনি বলেন, “আমি নিজের জীবনে দেখেছি, সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে যায়। অনেক সময় মানুষ নিজের সন্তানদের ভাল ভবিষ্যতের কথা ভেবে, বিষাক্ত সম্পর্কের মধ্যেই সব কষ্ট সহ্য করে বেঁচে থাকে। বাইরে থেকে একটি পরিবারকে নিখুঁত মনে হতে পারে, কিন্তু ভেতরে এমন কিছু ভাঙন থাকতে পারে যা এতই গভীর যে, সেই মানসিক দূরত্ব আর কোনও দিন পূরণ করা সম্ভব হয় না।”

অংশুলার মেহন্দি অনুষ্ঠানে ভাইবোনেরা।

অংশুলার মেহন্দি অনুষ্ঠানে ভাইবোনেরা। ছবি: সংগৃহীত।

বনির দ্বিতীয় বিয়ের সময়ে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন অংশুলা। তিনি জানিয়েছিলেন, সেই সময়ে বিবাহবিচ্ছেদ, দ্বিতীয় বিয়ে— কোনও কিছুই ভাল চোখে দেখত না সমাজ। তিনি বলেন, “কিছু পরিবার ছিল, যারা আমাদের সঙ্গে আর মিশতে চাইত না। তাঁদের বাচ্চাদের আমাদের বাড়িতে আসতে দিতেন না। আমার প্রতি সহপাঠীদের আচরণ বদলে যায় রাতারাতি। প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তাম তখন, কঠিন সময় ছিল।” একই সঙ্গে তিনি জানান, সেই সময়ে আরও কষ্টের ছিল বাবাকে বাড়িতে না পাওয়া। বাস্তবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল তাঁকেও। তবে একইসঙ্গে তিনি ধন্যবাদ জানান তাঁর খুড়তুতো দিদি রিয়া কপূর ও দাদা হর্ষবর্ধন কপূরকে। কাকা অনিল কপূরের সন্তানেরা পাশে ছিলেন অংশুলা ও অর্জুনের।

২০১২ সালে মৃত্যু হয় অর্জুন-অংশুলার মায়ের। ২০১৮ সালে দুবাইয়ের এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে গিয়ে মৃত্যু হয় শ্রীদেবীর। অভিনেত্রীর মৃত্যুর পরে ধীরে ধীরে বাবার সঙ্গে সম্পর্ক সহজ হয় অর্জুন ও অংশুলার। এমনকি কাছাকাছি আসেন বনির চার সন্তান। এখন তাঁদের সুখের সংসার। একে অন্যের আপদে-বিপদে পাশে থাকেন অর্জুন-অংশুলা-জাহ্নবী-খুশি। বড় দাদা হিসাবে তিন বোনকে আগলে রাখেন অর্জুন। অংশুলার বিয়েতেও গোটা পরিবারকে দেখা যাচ্ছে একসঙ্গে মেতে উঠতে।

Advertisement
আরও পড়ুন