ইমপা-র সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত সম্বর্ধনা জানাবেন বিজেপি-র জয়ী তারকা প্রার্থীদের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
২২ মে ইমপা-র অফিসে সমস্ত সদস্যকে নিয়ে সাধারণ বৈঠক বসবে। আলোচনায় জায়গা করে নেবে সংগঠনের সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগের প্রসঙ্গও। খবর, এ দিনের বৈঠকে সংবর্ধনা জানানো হবে বিজেপির জয়ী তারকা প্রার্থীদের।
সবিস্তার জানতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল পিয়ার সঙ্গে। তিনি খবরের সত্যতায় সিলমোহর দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে গিয়েছে অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী এবং শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের কাছে। বিধানসভা নির্বাচন রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী। বাংলার শাসনভার এখন বিজেপি-র হাতে। রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই একদল বিক্ষুব্ধ প্রযোজকের অভিযোগ, ইমপা তৃণমূল কংগ্রেসের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। সেই ভাবমূর্তি বদলাতেই কি এই আয়োজন? পিয়া বলেছেন, “তৃণমূল সরকারেরও আগে বাম আমল মসনদে ছিলেন। সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেই আমলেও টলিউডের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বাম সরকারের দ্বারস্থ হয়েছেন। আমরা কোনও দিন সংগঠনের গায়ে রাজনৈতিক রং লাগাতে দিইনি। আগামী দিনেও দেব না।” তিনি এ-ও জানান, সংগঠন যাঁদের সংবর্ধনা জানানোর কথা ভাবছেন, তাঁরা প্রত্যেকে টলিউডের অংশ।
পিয়াকে ইতিমধ্যেই রুদ্রনীল জানিয়েছেন, তিনি ওই দিন সময় পেলে অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন। বর্তমানে বিক্ষুব্ধ প্রযোজকেরা পিয়ার পদত্যাগ চেয়ে সরব। তাঁরা সংগঠনের অফিসে উপস্থিত হয়ে নানা দাবিদাওয়া পেশ করছেন। গঙ্গাজল ছিটিয়ে অফিস শুদ্ধিকরণ করেছেন। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও তুলেছেন। সে কথা পিয়া জানিয়েছেন রুদ্রনীলকে। অভিনেতা-রাজনীতিবিদ সংগঠনের সভাপতিকে আশ্বস্ত করেছেন, তিনি সমস্ত অভাব-অভিযোগ শুনবেন। জানিয়েছেন, টলিউডে অভিনেতাদের গায়ে আর রাজনীতির রং লাগতে দেবেন না।
শর্বরী মুখোপাধ্যায়, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পল। ছবি: ফেসবুক।
আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন রূপা, অগ্নিমিত্রা, পাপিয়া, হিরণ, শর্বরী। তাঁরা কী বলছেন? এই আমন্ত্রণ কি তাঁরা গ্রহণ করবেন?
রূপা, অগ্নিমিত্রাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। শর্বরী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারবেন না তিনি। পাপিয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাবেন, জানিয়েছেন সে কথা। বলেছেন, “ইমপা সংগঠনটি বহু বছরের। এখনও তার অস্তিত্ব আছে। যে সংগঠনের এখনও অস্তিত্ব আছে, সেই সংগঠন আমন্ত্রণ জানালে অবশ্যই উপস্থিত থাকব।” রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই ইমপা-কে ঘিরে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। সেই দিকটাও কি দেখবে রাজ্য সরকার? পাপিয়া ঘটনার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর কথায়, “আমরা গুন্ডামি পছন্দ করি না। আমরা তৃণমূল সরকার নই। আমরা বঙ্গ সরকার। তাই নির্বাচনে জিতে ফেরার পর থেকে দলীয় নেতৃত্ব সবাইকে সংযত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।” তিনি আশ্বাস দেন, ইমপা-তে সেই নির্দেশ মানা না হলে অবশ্যই বিষয়টি দেখা হবে। একই সঙ্গে পাপিয়া এ-ও জানান, পিয়ার বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ উঠেছে, সে সব প্রমাণিত হলে পিয়াকে পদত্যাগ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন হিরণ। তাঁর সাফ জবাব, “এক, আমি প্রযোজক নই, অভিনেতা। যত দূর জানি, সংগঠনটি প্রযোজকদের। ফলে, ওই সংগঠনের সঙ্গে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনও কালেই সম্পর্ক ছিল না। দুই, আমার অভিনয়জীবনেও পিয়া সেনগুপ্তের কোনও অবদান নেই।” তিনি তাই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না। সংগঠনকে রাজনীতিমুক্ত করার আবেদন নিয়ে একদল বিক্ষুব্ধ প্রযোজক পিয়ার পদত্যাগ চেয়েছেন। তাঁরাই সংগঠনের অফিসের বাইরে বিজেপির পতাকা ঝুলিয়েছেন। সংগঠনকে কি সত্যিই রাজনীতিমুক্ত রাখা সম্ভব? হিরণ মনে করেন, “শুধু ইমপা নয়, সমস্ত সংগঠন, অফিস, বিনোদনদুনিয়া, এমনকি সংবাদমাধ্যমেরও রাজনীতিমুক্ত থাকা উচিত।”