দীপিকা, কার দেহরক্ষী কত পারিশ্রমিক পান? ছবি: সংগৃহীত।
বলিউড তারকাদের দেহরক্ষীরা নাকি কোটি কোটি টাকা পারিশ্রমিক পান! এই বিষয়টি নিয়ে কিছু দিন আগে মুখ খুলেছিলেন শাহরুখ খানের প্রাক্তন দেহরক্ষী ইয়াসিন খান। তার পর থেকে আলোচনায় উঠে এসেছে বলিউডের অন্য তারকাদের দেহরক্ষীদের কথাও। কোন তারকার দেহরক্ষী কত টাকা পারিশ্রমিক পান?
সিদ্ধার্থ মলহোত্রের নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে কাজ করতেন জ়িশান কুরেশি। তিনি জানান, আগে কয়েকটি প্রভাবশালী সংস্থা ছিল বলিউডে, যেগুলি তারকাদের জন্য নিরাপত্তারক্ষী নিযুক্ত করতেন। এরা মাসিক বেতন দিত। এক একটি সংস্থায় ৫০-৬০ জন করে নিরাপত্তারক্ষী থাকতেন। প্রতিদিন তারকাদের ১০-১২ ঘণ্টা করে দেখভাল করতে হত এই নিরাপত্তারক্ষীদের। তবে তাঁরা শুধুই বেতন পেতেন। যাতায়াত ভা়ড়া বা অন্যান্য সুবিধা পেতেন না তাঁরা। কিন্তু এখন পদ্ধতি বদলে গিয়েছে। কোনও সংস্থার মাধ্যমে নয়। সরাসরি তারকাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিযুক্ত হচ্ছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। এতে তাঁদের পারিশ্রমিক বেড়েছে।
দীপিকার সঙ্গে তাঁর দেহরক্ষী জালাউদ্দীন। ছবি: সংগৃহীত
দীপিকা পাড়ুকোনের দেহরক্ষী জালাউদ্দীন শেখ বছরে ১.২ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পান। বহু দিন ধরে তিনি দীপিকার সঙ্গে কাজ করছেন। প্রায়ই ‘পিকু’ অভিনেত্রীর সঙ্গে ছবি ভাগ করে নেন তিনি।
অনুষ্কা শর্মার দেহরক্ষী প্রকাশ সিংহ তথা সোনু। বিরাট কোহলির সঙ্গে বিয়ে হওয়ার আগে থেকেই তিনি অনুষ্কার দেহরক্ষী। এখনও বিরাট ও অনুষ্কার সঙ্গে দেশ-বিদেশে যান তিনি।
সলমনের সঙ্গে শেরা। ছবি: সংগৃহীত
দেহরক্ষীদের প্রসঙ্গ এলে প্রথমেই উঠে আসে সলমন খানের দেহরক্ষী শেরার নাম। শেরার নিরাপত্তারক্ষীদের একটি সংস্থা রয়েছে, যার নাম ‘টাইগার সিকিউরিটি’। ১৯৯৫ সাল থেকে এই সংস্থা চালাচ্ছেন তিনি। সলমনের সঙ্গে রয়েছেন ১৯৯৭ সাল থেকে। ভাইজানের সঙ্গে প্রায় প্রতিটি জায়গায় তিনি যান। শেরাও কোটি কোটি টাকা পারিশ্রমিক পান বলে জানা যায়।
বড় মাপের তারকাদের দেহরক্ষীদের পারিশ্রমিক বেশি। এক দেহরক্ষী জানান, “আমরা ৫০ পয়সা পেলে বড় তারকাদের দেহরক্ষীরা ১ টাকা পান। বড় তারকাদের সঙ্গে কাজ করলে তো বেশি পারিশ্রমিক হবেই।” আলিয়া ভট্টের বর্তমান দেহরক্ষী তথা শাহরুখের প্রাক্তন দেহরক্ষী ইয়াসিনের দাবি, তাঁরা কেউই মাসে কোটি টাকায় পারিশ্রমিক পান না। তিনি বলেন, “মোটেই ২-২.৫ কোটি টাকা আয় করেন না কেউ। কেউ যদি বড় তারকার দেহরক্ষী হন, তা হলে তাঁদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক থাকে। এ ছাড়া, যখন কোনও ছবি তৈরি হয়, তখনই প্রযোজকেরা সিদ্ধান্ত নেন দেহরক্ষীরা কত পারিশ্রমিক পাবেন।”
শাহরুখ ও তাঁর দেহরক্ষী। ছবি: সংগৃহীত
জ়িশান কুরেশিও জানান, সমাজমাধ্যমে সব কিছুই বড় করে দেখানো হয়। তাঁর কথায়, “আমির খানের কর্মীরা মাসে ২৫ হাজার টাকা বেতন পান। ওঁর দেহরক্ষীরা তিনটি ভিন্ন সময়ে (শিফ্ট) কাজ করেন। এক একজন চার ঘণ্টা করে থাকেন। আমিরের মোট ১২ জন লোক আছে। আর ওঁর সঙ্গে সব সময়ে ৪ জন করে থাকেন।”
শাহরুখ, সলমন, হৃতিক রোশন ও অক্ষয় কুমারের স্থায়ী দেহরক্ষী আছেন বহু বছর ধরে। এঁদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক রয়েছে বলে জানা যায়। ছবির শুটিংয়ের ক্ষেত্রে সমস্ত খরচ বহন করেন। কোনও ছবির প্রচারে বা শুটিংয়ে যদি তারকার সঙ্গে দেহরক্ষীকে যেতে হয়, তা হলে তাঁকেও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। ২৫ হাজার থেকে ১ লক্ষের মধ্যে এই পারিশ্রমিক ঘোরাফেরা করে।
এমন বহু দেহরক্ষী রয়েছেন, যাঁরা মাসিক বেতন নেন না। সেই জায়গায় কোনও অনুষ্ঠানে বা তারকার সঙ্গে যেতে হলে, দৈনিক পারিশ্রমিক নিতেই পছন্দ করেন তাঁরা। এক দেহরক্ষীর কথায়, “একটি অনুষ্ঠানে গিয়েই ১-১.৫ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়। সেই জায়গায় কেউ কেন মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা নেবেন?”
কয়েক জন দেহরক্ষীকে ব্যক্তিগত ভাবে সাহায্যও করেন তারকারা। কখনও দেহরক্ষীদের চিকিৎসার খরচ অথবা ছেলেমেয়েদের স্কুলের খরচও বহন করেন তারকারা। জ়িশান কুরেশি একসময় তাপসী পন্নুর দেহরক্ষী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে জ়িশান বলেন, “তাপসীর সঙ্গে কাজ করেছি। তিনি আমার চিকিৎসার খরচ, বাড়ি ভাড়ার খরচও বহন করেছিলেন। প্রত্যেক তারকার সঙ্গেই আমার অভিজ্ঞতা ভাল।”