Mohit Chauhan birthday

মোহিত আসলে নিজেকে বেচতে পারে না, ওর অনন্য কণ্ঠকে সেই ভাবে ব্যবহারই করা হয়নি: জিৎ

জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সুরে মোহিত গেয়েছিলেন, ‘মন হারিয়ে বেঘোরে’। পর্দায় দেখা গিয়েছিল দেব ও শ্রাবন্তীকে। জনপ্রিয় হয় সেই গান। গায়কের ৬০ বছরের জন্মদিনে লিখলেন সুরকার।

Advertisement
জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৬
মোহিতের জন্মদিনে লিখলেন জিৎ।

মোহিতের জন্মদিনে লিখলেন জিৎ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মোহিতের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি তো আছেই। তবে ও আমার বহু বছরের বন্ধু। গভীর বন্ধুত্ব ওর সঙ্গে। ১৯৯৭ সাল থেকে আমরা পরস্পরের বন্ধু। মোহিতের গলায় ‘ডুবা ডুবা রহতা হুঁ’ সকলেরই শোনা। সেই গান আমার সামনেই রেকর্ড করা হয়েছিল। ওদের ব্যান্ড ‘সিল্ক রুট’ তৈরি হল যে সময়, তখন থেকেই আমাদের বন্ধুত্ব।

Advertisement

সেই বন্ধুত্ব থেকেই একদিন আমরা কাজ করি। আমার সঙ্গেই ওর প্রথম বাংলা গানে কাজ। আসলে মোহিতের কণ্ঠ সকলের থেকে আলাদা। এমন কণ্ঠ আর দুটো খুঁজে পাওয়া যাবে না। বহু বড় বড় শিল্পীরও নকল করে গান গাওয়া হয়। তাঁদের গায়কি ও কণ্ঠ নকল করে অনেকেই গান। কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিন জনের কণ্ঠের আর কোনও বিকল্প নেই। তাঁদের মধ্যে মোহিত রয়েছেন। বাকি দু’জন হলেন কেকে ও শান। ওঁদের কণ্ঠের সঙ্গে কারও কণ্ঠের মিল নেই।

মোহিত খুব রোম্যান্টিক গায়ক। যে কোনও গান যত্ন করে গাইতে পারে ও। আর সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ হিসাবেও ও বড় ভাল। কত মানুষের উপকার করেছে। ও দিল্লির ছেলে। মুম্বইয়েও বেশ কয়েক বছর থেকেছে। তবে ও ভালবাসে পাহাড়ে থাকতে। ওর চালচলনে ‘ভোলেবাবা’র মতো ব্যাপার আছে। ওকে আমরা মজা করে তাই ‘বাবা’ বলেই ডাকি।

বলিউডে তো কত জনপ্রিয় গান রয়েছে ওর কণ্ঠে। কিন্তু তা-ও আমার মনে হয়, ওর অনেক কিছু পাওয়া এখনও বাকি রয়ে গিয়েছে। ওর কণ্ঠে আরও গান হোক, এটাই চাই। ওর কণ্ঠকে ভাল করে এখনও ব্যবহার করা হয়নি। ওর অনুরাগীর সংখ্যা কিন্তু কম নয়। বহু ভক্ত ওর। আমার কাছেই কত লোকের অনুরোধ এসেছে, ‘মোহিত চৌহানকে দিয়ে আরও গান গাওয়াতে হবে।’ আমারও মনে হয়, ওকে আরও গান গাইতে হবে।

আসলে মোহিত নিজেকে সেই ভাবে বেচতে পারেনি। কেকে-ও এমন ছিল। খুব লাজুক ওরা। হিসাব করে চলতে পারে না মোহিত। ওরা শুধুই গাইতে ভালবাসে। তাই ওদের কণ্ঠ কিন্তু মানুষের মনে রয়ে গিয়েছে। আমি সুযোগ পেলে আরও কাজ করতে চাই। শুধু ছবি নয়, ছবির বাইরের গানেও ও কিন্তু অসাধারণ। আমার মনে হয়, সেই গানেও ওর আরও মন দেওয়া উচিত।

মোহিতের সঙ্গে গান নিয়ে কত মজার ঘটনাও রয়েছে। ও কিন্তু রাতে গান গাইতে খুব ভালবাসে। মুম্বইয়ে রাতে গানের রেকর্ডিং থাকলে খুব আনন্দ করে সেটা আমরা করি। বাংলা ভাষা শেখানো নিয়েও বেশ কিছু মজার স্মৃতি আছে।‘সেদিন দেখা হয়েছিল’ ছবিতে আমার সুরে ‘মন হারিয়ে বেঘোরে’ গানটা ওর কণ্ঠে আজও শ্রোতারা মনে রেখেছেন। ‘মন হারিয়ে বেঘোরে’ গানে একটি অংশ ছিল ‘গালে চোখে ঠোঁটে তোর আমি, চুমু এঁকেছি সবচেয়ে দামি’। মোহিত কিছুতেই ‘চুমু’ আর ‘সবচেয়ে’ উচ্চারণ করতে পারছিল না। তা নিয়ে আমরা বিস্তর হাসিঠাট্টা করেছিলাম। তার পরে শেষে যখন ও গাইল, সেটা অসাধারণ। তবে আমার কাছে ওর গাওয়া সেরা দুটো গান ‘ডুবা ডুবা’ ও ‘রকস্টার’ ছবির গান ‘তুম হো’।

(সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুলিখিত)

Advertisement
আরও পড়ুন