কর্ণ জোহর। ছবি: ফেসবুক।
কোনও মন্তব্যে কখনও রাখঢাক করেননি তিনি। স্পষ্ট কথা বলতে দ্বিধা করেন না। প্রযোজক-পরিচালক কর্ণ জোহর এ বার মুখ খুললেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি চাঁচাছোলা, “এই প্রজন্ম অসৎ। সারা ক্ষণ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে!”
কর্ণ যদিও কারও নাম নেননি। তিনি সরাসরি তোপ দেগেছেন এই প্রজন্মের অভিনেতাদের উদ্দেশে। ঝুলিতে ৩১ বছরের অভিজ্ঞতা। নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থাও রয়েছে। বহু তারকা তাঁর ছবিতে অভিনয় করেই কেরিয়ার শুরু করেছেন, খ্যাতনামী হয়েছেন। শাহরুখ খান, রানি মুখোপাধ্যায়, কাজল, আলিয়া ভট্ট, বরুণ ধবন, সিদ্ধার্থ মলহোত্র এবং আরও অনেকেই সেই প্রযোজনা সংস্থার পরিচিত মুখ। সারা আলি খান, শনায়া কপূর, রোহিত শরাফের মতো একাধিক নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রী কর্ণের সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ।
নতুন অভিনেতাদের মধ্যে থেকে প্রতিভার সন্ধান, তাঁদের পর্দায় তুলে ধরা— দীর্ঘ দিন ধরে এই কাজটিই করে আসছেন কর্ণ। এই ধরনের কাজ কতটা উপভোগ্য? জানতে চাইতেই ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন, “এই প্রজন্মের অভিনেতাদের ধৈর্য নেই, স্থিরতাও নেই। আমি ওঁদের পিছনে দুটো বছর খরচ করতে রাজি। ওঁরা নন। ফলে, একটি প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েই তাঁরা চুক্তি ভেঙে চলে যান অন্যত্র। প্রলোভনের ফাঁদে পা দেন। যেখানে যান, সেখানেও কিছু দিনের মধ্যেই মোহভঙ্গ হয়। তখন তাঁরা ফিরে আসতে চান পুরনো জায়গায়।” তিনি আরও জানান, সিনেমা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ৯০ শতাংশই অহঙ্কারি, নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এঁদের সামলানো সহজ কাজ নয়। তাই ‘ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট’কে কেউ যদি ব্যবসার সুযোগ হিসাবে দেখেন, তা হলে তাঁকে কর্ণ ওই পথে না হাঁটারই পরামর্শ দেবেন।
বর্তমান বিনোদনদুনিয়ার প্রতি তিনি যে বিরক্ত — তা কর্ণের কথায় স্পষ্ট। তার পরেও কী করে তিনি এত বছর কাটিয়ে ফেললেন? জবাব দিতে গিয়ে পুরনো মেজাজে ফিরে গিয়েছেন প্রযোজক-পরিচালক। রসিকতার ঢঙে বলেছেন, “আমি তো অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। পেশাজীবনের সাফল্য আর ব্যর্থতা যদি আনন্দ আর দুঃখের কারণ হত, তা হলে আইসিইউ-তে ভর্তি থাকতে হত আমায়।” উল্লেখ্য সদ্য তাঁর প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি ভেঙে অন্য ‘ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন জাহ্নবী কপূর। এই আবহেই কর্ণের এমন মন্তব্য আলোচনার সৃষ্টি করেছে।