Relationship Between Anik And Shondhy Dutta

অনীক আমাকে দায়ী করবে বলে এই পদক্ষেপ করেনি, এটা সত্যি: পরিচালকের মৃত্যু প্রসঙ্গে সন্ধি দত্ত

“আমাদের ‘কমন বন্ধু’দের কাছে অনীক অনেক বার আমার কাছে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আমি ফিরব না বলেই ওর হাত ছেড়েছি!”

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ১৭:০৭
অনীক দত্ত এবং সন্ধি দত্ত।

অনীক দত্ত এবং সন্ধি দত্ত। ছবি: সংগৃহীত।

দেখতে দেখতে চার দিন পার। বুধবার দুপুরে প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্তের বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন পরিচালক অনীক দত্ত। শনিবার আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে কথা বললেন সন্ধি। তাঁর দাবি, “আমাকে দায়ী করবে বলে অনীক এই পদক্ষেপ করেনি। এটাই সত্যি।”

Advertisement

সমাজমাধ্যমে সদ্যপ্রয়াত পরিচালকের আত্মহত্যা প্রসঙ্গে নানা কাটাছেঁড়া। উঠে আসছে নানা প্রসঙ্গ। এমনও ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে যে, পরিচালক নাকি সন্ধির ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন। সাড়া না পেয়ে ছাদে উঠে যান। তার পরেই সেখান থেকে ঝাঁপ দেন তিনি। আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে এই খবর ভুয়ো বলে দাবি করেছেন তদন্তকারী আধিকারিক দেবাশিস দত্ত। তিনি সাফ বলেছেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি। অনীকবাবু কোথাও যাননি। তিনি সোজা ছাদে উঠে যান।” এ দিন একই কথা বললেন সন্ধিও। তাঁর বক্তব্য, “অনেক মাস হয়ে গিয়েছে, আমাদের মধ্যে কথা নেই। যোগাযোগ তো দূরের কথা। শেষ যে দিন এসেছিল, সে দিন বেশ কিছু সময় কাটিয়ে গিয়েছিল। আমার কাছে বসে কেক, চা খেল। নানা কথা বলল। তার পর চলে গেল।”

সন্ধি আরও জানান, তাঁদের এক কন্যাসন্তান ঐশী। তাঁর জন্য যেটুকু কথার প্রয়োজন, সেটুকুই যোগাযোগ ছিল অনীক ও সন্ধির। এর বেশি তিনি যোগাযোগ রাখতে চান না, সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন সদ্যপ্রয়াত পরিচালককে। যদিও শেষের দিকে নাকি তাঁর কাছে ফিরতে চেয়েছিলেন অনীক। সে প্রসঙ্গ তুলতেই সন্ধি অকপট, “আমাদের ‘কমন বন্ধু’দের কাছে অনীক অনেক বার আমার কাছে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আমি ফিরব না বলেই ওর হাত ছেড়েছি!”

এ দিকে সমাজমাধ্যমে নেটাগরিকদের একাংশ পরিচালকের মৃত্যুর জন্য দায়ী করতে ছাড়ছে না সন্ধি এবং ঐশীকেও। “সেই জন্যই আপাতত ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক থেকে দূরে। কিচ্ছু দেখছি না। এ সব দেখতে দেখতে ক্লান্ত লাগছে”, বললেন সন্ধি। শান্ত গলায় এ-ও যোগ করলেন, “আমাদের বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে একটি কথাও বলব না। এমনকি, কেন আমার বাড়ির ছাদ থেকে এ রকম ভয়ঙ্কর মৃত্যু বেছে নিল অনীক, সেটাও সম্ভবত আঁচ করতে পারছি। এ ব্যাপারেও কিছু বলব না। তবে অনীক আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে বলে, এ রকম কিছু করেনি। এটাই সত্যি।” পরিচালকের মৃত্যুপ্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন অনীকের মানসিক স্বাস্থ্য প্রসঙ্গ। বলেছেন, “গত সাড়ে তিন বছর ধরে মানসিক সমস্যার চিকিৎসা চলছিল ওর। নিয়মিত ওষুধ খেত। গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিল। এই পরিস্থিতি যাঁদের, তাঁদের যখন মনখারাপ বেড়ে যায়, তখন নিজেদের সামলাতে পারেন না। কী করতে চলেছেন, সেটাও ঠিক মতো গুছিয়ে ভাবতে পারেন না।”

সন্ধি এবং ঐশী দত্ত।

সন্ধি এবং ঐশী দত্ত। সংগৃহীত।

ইতিমধ্যেই টলিউডের বেশ কিছু জনপ্রিয় মুখ অনীকের তীব্র অবসাদ এবং মৃত্যুর জন্য অভিযোগের আঙুল তুলেছেন পরিচালকের গবেষক ‘বান্ধবী’ পর্ণালি ধর চৌধুরীর দিকে। সমাজমাধ্যমে পোশাকশিল্পী, বাচিকশিল্পী, অভিনেত্রী পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিনেত্রী-পরিচালক শ্রীলেখা মিত্র, রূপসা গুহ দাবি করেছেন, অনীকের খ্যাতির আলোয় নাকি আলোকিত হতে চেয়েছিলেন পর্ণালি। কিন্তু শেষ কিছু দিন নাকি তাঁদের ‘গভীর বন্ধুত্ব’-এ ফাটল ধরেছিল। বান্ধবীর নীরবতা নাকি ব্যথিত করেছিল পরিচালককে। সন্ধি এ ব্যাপারেও তাঁর বক্তব্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “পর্ণালি সম্পর্কে কিছুই জানি না। জানার আগ্রহও নেই। আমার বন্ধুরা ওদের ছবি দেখিয়েছে। এই পর্যন্তই।” একটু থেমে সন্ধির পাল্টা প্রশ্ন, “কেন আগ্রহ দেখাব? আমরা তো পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন। তার পরে ও কী করছে, সেই বিষয়ে কেন খবর রাখব?”

সব আলোচনা থেকে দূরে থাকতে সন্ধি তাই নিজের চারপাশে গণ্ডি টেনেছেন। “কোনও নারীর জীবনে এ রকম কিছু ঘটলে তাকে শক্ত থাকতেই হয়”, বলেছেন তিনি। বিদেশ থেকে উড়ে এসেছেন ঐশী। পিতৃশোক, মেয়েকেও সামলাতে হচ্ছে...! বলতেই বলে উঠলেন, “ঐশী পূর্ণবয়স্ক। ওকে সামলাতে হয় না। ও-ই বরং আমাকে সামলে দিচ্ছে।”

Advertisement
আরও পড়ুন