কলকাতায় টিম ‘আখরি সওয়াল’। নিজস্ব চিত্র।
এত দিন পশ্চিমবঙ্গে নাকি প্রশ্ন করা যেত না। রাজনৈতিক পালাবদল সেই পরিবেশ বদলে দিয়েছে। এখন এই রাজ্যেও প্রশ্ন করা যায়। এই উপলব্ধি অভিনেতা-রাজনীতিবিদ মিঠুন চক্রবর্তীর। তাঁর কথায়, দেশ এবং বাংলায় ‘প্রশ্ন’ করার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাই যে রাজ্য তাঁর ‘বেঙ্গল ফাইলস’ মুক্তি পায়নি, সেই রাজ্যেই ‘আখরি সওয়াল’ বিনা বাধায় মুক্তি পাচ্ছে!
শনিবার শেষমুহূর্তের প্রচারে কলকাতায় হাজির টিম ‘আখরি সওয়াল’। মিঠুন চক্রবর্তী ছাড়াও এসেছিলেন সমীরা রেড্ডি, নমোশি চক্রবর্তী, ত্রিধা চৌধুরী, ছবির পরিচালক অভিজিৎ মোহন ওয়ারং এবং সহ-প্রযোজক। মিঠুনের আমন্ত্রণে এ দিন এসেছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়ও। এই ছবি দিয়ে ছবি প্রযোজনায় পা রাখলেন সঞ্জয় দত্ত। তবে শহর হতাশ তাঁর অনুপস্থিতিতে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার আগে টিম। নিজস্ব ছবি।
ট্রেলার বলছে, ইন্দিরা গান্ধী, ১৯৭৫-এর ‘জরুরি অবস্থা ঘোষণা’ দিয়ে ছবি শুরু। মধ্যে রাম মন্দির-বাবরি মসজিদ হয়ে আরএসএস-এ শেষ। পর্দায় প্রশ্ন তোলার দায়িত্বে মিঠুন-পুত্র নমোশির। তিনি ছবির সূত্রধর। উত্তর দিয়েছেন সঞ্জয়। এ প্রসঙ্গে মিঠুনের বক্তব্য, “সারা ক্ষণ কেন দুটো বিশেষ গোষ্ঠী নিয়ে বিতণ্ডা হবে? এই প্রশ্ন উঠেছে ছবিতে। আর এটি যদি সত্যিই ইস্যু হয়, তা হলে তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠুক! এত দিন গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে এ বিষয়ে তো মুক্তকণ্ঠে আলোচনাই করতে দেওয়া হয়নি সাধারণ মানুষকে।” বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ-অভিনেতার আক্ষেপ, “১৯৪৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে তৈরি হয়েছিল ‘বেঙ্গল ফাইলস’। এত ভয় যে সেই ছবির মুক্তি আটকে দেওয়া হল।” তিনি জানান, এ বার সেই ছবি আরও বড় করে মুক্তি পাবে। একই সঙ্গে নাম না করে কটাক্ষ করেন আগের রাজ্য সরকারকেও। বলেন, “এত তেল দিয়েছে যে, সেই তেলে পা হড়কে নিজেই পড়েছে!”
মিঠুন অভিনীত ‘বেঙ্গল ফাইলস’-এ অভিনয় করেছেন নমোশিও। পরপর দুটো দেশাত্মবোধক ছবিতে কাজ। নমোশিও কি এই ধারার ছবিতেই স্বচ্ছন্দ? প্রশ্ন ছিল আনন্দবাজার ডট কম-এর। অভিনেতার সপ্রতিভ জবাব, “আমি সব ধারার ছবিতেই অভিনয় করতে চাই। বাণিজ্যিক ছবিতে। আবার এই ধরনের সাহসী ছবিতেও। তবে চিত্রনাট্য এবং চরিত্র জোরালো হতে হবে।” তবে বাবার মতো তিনি রাজনীতিতে আসবেন না, এ কথাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। মিঠুনের থেকে কি শুটিংয়ের আগে পরামর্শ নেন তিনি? মৃদু হেসে নমোশির জবাব, “বাবার থেকে একটা কথাই শিখেছি, স্টুডিয়ো ফ্লোরে পা রাখা মানে কাজে ডুবে যাওয়া। তা হলেই অভিনয় ভাল হবে।” হিন্দির পাশাপাশি বাংলা ছবিতেও কাজ করতে চান তিনি। জানালেন, সবটাই সময়ের উপরে ছেড়ে দিয়েছেন।
এই ছবি যদি সঞ্জয়ের প্রথম প্রযোজনা হয়, তা হলে এই ছবি সমীরার ‘কামব্যাক’ ছবি। দু’বছর পরে রাজনৈতিক থ্রিলার ছবিতে বড় করে ফিরছেন তিনি। সমীরা বললেন, “ছবির চিত্রনাট্য প্রধান আকর্ষণ। এখনকার মানুষ বিতর্ক পেলে যে ভাবে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেন, আমি পর্দায় সেটা করেছি। কাজ করে খুব খুশি।” খুশি পর্দায় নমোশির বান্ধবী ত্রিধাও। এই মুহূর্তে তিনি বেশি জনপ্রিয় ‘আশ্রম’ ছবিতে ববি দেওলের বিপরীতে সাহসী দৃশ্যে অভিনয়ের কারণে। সে প্রসঙ্গ তুলতেই আদতে কলকাতার কন্যা হেসে বললেন, “কখনও সাহসী দৃশ্য। কখনও ভারী ছবি। কখনও ওজন বাড়ানো। কখনও বাড়তিওজন ঝরিয়ে ছিপছিপে। এ ভাবে নানা স্বাদের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াটাই লক্ষ্য যে কোনও অভিনেতার। আমি সেটা পাচ্ছি। তাই খুব খুশি।” বাংলা ছবি দিয়ে যাঁর পেশাজীবন শুরু, সেই ত্রিধা ভাল চিত্রনাট্য পেলে আবারও কাজ করবেন টলিউডে, জানালেন অকপটে।
ছবি নিয়ে কী বললেন ত্রিধা? নিজস্ব ছবি।
‘আখরি সওয়াল’-এর প্রসঙ্গ তুলতে জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক বলেন, “সেন্সর বোর্ড ছাড়পত্র আটকে দিয়েছিল। আমরা আগে মন খুলে কাজ করতে পারতাম না। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে। আমার ছবি তার প্রমাণ।” তিনি আরও জানান, দর্শকমহলে বিতর্ক ছড়ানো তাঁর উদ্দেশ্য নয়। ইতিহাসে যা ঘটেছে, সেটা এই প্রজন্মের দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। অনেকে বলছেন, ‘কাশ্মীর ফাইলস’, ‘বেঙ্গল ফাইলস’, ‘ধুরন্ধর’ বা ‘আখরি সওয়াল’ আদতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচারমূলক ছবি। সত্যিই কি তা-ই? হাসতে হাসতে অভিজিত পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, “বাকি ছবির কথা বলতে পারি না। আমি ছোটখাটো পরিচালক। আমার ছবি কেন্দ্রের কী উপকারে আসবে?”