Rahul And Nabanita

‘আফসোস, রাহুলদার সঙ্গে কাজ হল না!’ ‘ভোলেবাবা পার করেগা ২’-তে নায়িকা হতেন নবনীতা মালাকার?

“অনেকেই ক্ষতিপূরণ দিয়ে মৃত অভিনেতার ফাঁক ভরাট করতে চান। অর্থ দিয়ে কারও অভাবপূরণ সম্ভব? অভিনেতার মৃত্যু মানে তাঁর পরিবারেরও মৃত্যু”, বললেন অভিনেত্রী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০৭
নবনীতা মালাকার এবং শ্বেতা মিশ্র।

নবনীতা মালাকার এবং শ্বেতা মিশ্র। ছবি: ফেসবুক।

‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিক থেকে বাদ পড়েছেন নবনীতা মালাকার। অনেকটা ওই ধারাবাহিকের আর এক অভিনেত্রী তন্বী লাহা রায়ের মতো। অথচ প্রথম ধারাবাহিকের জন্যই তিনি ‘ভোলেবাবা পার করেগা ২’তে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করতে পারেননি! আনন্দবাজার ডট কম-কে সেকথা জানালেন নবনীতা।

Advertisement

কেন নায়িকা হওয়ার সুযোগ ফিরিয়ে দিলেন নবনীতা ওরফে ধারাবাহিকের খলনায়িকা ‘রোহিনী এস রায়’? প্রশ্ন করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। অভিনেত্রীর কথায়, “তখন ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকে চুটিয়ে অভিনয় করছি। দর্শক অভিনয় দেখে প্রশংসা করছে। সেই সময়ে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ থেকে ডাক পেয়েছিলাম। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয়ের জন্য।” মাত্র চার দিনের নোটিসে এসভিএফ প্রযোজনা সংস্থার ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিক ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হত তাঁকে। নবনীতা জানিয়েছেন, এত কম সময়ে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এ যোগ দেওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে, তাঁর জায়গায় আসেন শ্বেতা মিশ্র।

পুরো ঘটনাটাই কি ‘শাপে বর’ হল নবনীতার ক্ষেত্রে? অন্তত এ রকম মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হতে হত না তাঁকে।

জবাবে অভিনেত্রী বললেন, “এরকম কিছু মনেই হচ্ছে না। কারণ, দুর্ঘটনা ঘটবে, রাহুলদা চলে যাবেন— কে ভেবেছিল? বরং যে ধারাবাহিকের জন্য যোগ দিতে পারলাম না, সেই ধারাবাহিক থেকে অকারণে সরিয়ে দেওয়া হল! আগাম সাত দিনের নোটিসও দেওয়া হয়নি। প্রযোজনা সংস্থারা বোঝে না, এ ভাবে না জানিয়ে কাজ কেড়ে নিলে আমরা বিপদে পড়ি। এখন আফসোস হচ্ছে, রাহুলদার সঙ্গে কাজটা করা হল না।”

তবে শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার তিনিও, এ কথা জানাতে ভোলেননি নবনীতা। “‘শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য’ ধারাবাহিকে আমি লক্ষ্মীপ্রিয়া। সাপের কামড়ে মারা যাব। মৃত্যুর পর ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হবে। এই দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে দেখি, আমার ভেলায় কিলবিল করছে সাপ! ভাসন্ত ভেলায় জল থেকে সাপ উঠে এসেছে। কোনওমতে সে দিন শুটিং করেছিলাম।” ‘মঙ্গলচণ্ডী’ ধারাবাহিকে শুটিংয়ের সময়েও জোর বেঁচে ফিরেছেন তিনি। “হার্নেস ছাড়াই ঝাঁপ দিতে বলা হয়েছিল আমায়। দিতে হয়েছিল সেটা। পড়ে পা মচকে গেল। তার পরেই পুজোর ছুটি পড়ে গিয়েছিল। প্রযোজনা সংস্থার কোনও সমস্যা হল না। কিন্তু আমার পা মচকে গেল। গোটা পুজো বিছানায় শুয়ে কাটিয়েছিলাম।”

এই জায়গা থেকে নবনীতার উপলব্ধি, “অনেকেই ক্ষতিপূরণ দিয়ে মৃত অভিনেতার ফাঁক ভরাট করতে চান। অর্থ দিয়ে কারও অভাবপূরণ সম্ভব? কিংবা ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে কত দিন সংসার চলে? কোনও অভিনেতার মৃত্যু মানে তাঁর পরিবারেরও মৃত্যু। বিশেষ করে, যে সব অভিনেতার উপরে নির্ভর করে চলে তাঁর পুরো পরিবার।”

Advertisement
আরও পড়ুন