Salim khan and Javed Akhtar

‘শোলে’ থেকে ‘জঞ্জির’, দীর্ঘ ১৬ বছরের চিত্রনাট্য-জুটি সেলিম-জাভেদের! কোন কারণে ভেঙেছিল?

হিন্দি সিনেমায় কাহিনি-চিত্রনাট্যকার হিসেবে নজির সৃষ্টি করা এই জুটি আচমকাই ভেঙে যায় একদিন। তার পর লোকে চাইলেও তাঁরা একসঙ্গে কাজ করতে চাননি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৩
Salim khan and Javed Akhtar Pair break due to which reason

কী কারণে জুটি ভেঙেছিল সেলিম-জাভেদের? ছবি: সংগৃহীত।

সেলিম খান মুম্বই এসেছিলেন অভিনেতা হতে। লম্বা, সুর্দশন সেলিমের সিনেমায় কাজ পেতে বেগ পেতে হয়নি। ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত অন্তত ২৪টি ফিল্মে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু অভিনেতা হিসেবে দাগ কাটতে পারেনি। অল্প সময়ের মধ্যে বুঝতে পারেন, অভিনয় তার কম্মো নয়। বন্ধু জাভেদ আখতারের সঙ্গে জুটি বেঁধে ফিল্মের সংলাপ লিখতে শুরু করলেন। সেলিম-জাভেদ জুটির যাত্রা শুরু হল। ইন্ডাস্ট্রিতে হিট হয়ে গেল সেই জুটি। হিন্দি সিনেমায় নজির সৃষ্টি করা এই জুটিও আচমকাই ভেঙে গেল একদিন। তার পর লোকে চাইলেও তাঁরা একসঙ্গে কাজ করতে চাননি।

Advertisement

১৯৭১ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত জুটি বেঁধে পর পর হিট ছবি উপহার দিয়েছেন সেলিম-জাভেদ। তাঁদের লেখা মোক্ষম সব সংলাপই অমিতাভ বচ্চনের কেরিয়ার দাঁড় করিয়ে দেয় সেই সময়। কাহিনিকার হিসেবে তাঁরাই প্রথম, যাঁরা বলিউডে নিজেদের আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে পেরেছিলেন।

তাঁদের সময় থেকেই সিনেমায় চিত্রনাট্যকারদের কৃতিত্ব দেওয়া শুরু হয়। তার আগে কোনও চিত্রনাট্য-কাহিনিকারের নাম থাকত না টাইটেল কার্ডে। ছবি হিট হতেই পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তাঁদের পারিশ্রমিক। কখনও কখনও নায়কের চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক পেতেন তাঁরা। তবে জাভেদের আখতারের একটা সিদ্ধান্তই নাকি বদলে দেয় তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ।

জাভেদ ও সেলিম বলা যেতে পারে কাহিনি লেখার কাজে প্রায় একসঙ্গেই থাকতেন সবসময়। একে অপরের প্রচুর খারাপ-ভাল’র সঙ্গী। চিত্রনাট্যের পাশাপাশি জাভেদ সঙ্গীত নিয়েও গবেষণা করতে চাইছিলেন। ইন্ডাস্ট্রিতে গান নিয়ে এগোতে চাইছিলেন তিনি। এমন সময় সিনেমায় গান লেখার প্রস্তাব দিয়ে বসেন সেলিম খানকে। জাভেদের আরও প্রস্তাব ছিল, সেলিম-জাভেদ নামেই গান লেখা হবে ছবির জন্য, যা একেবারেই পছন্দ হয়নি সেলিমের। তাঁর সাফ বক্তব্য ছিল, গান নিয়ে কোনও ধারণা নেই তাঁর। তিনি তিনি কোনও ভাবে জাভেদকে সাহায্য করতে পারবেন না। যে কাজে শ্রম দেবেন না তাঁর জন্য নামের ভাগীদারও তিনি হবেন না। তার পরেই বন্ধুত্বে নাকি চিড় ধরে। জাভেদকে সরাসরি সেলিম জানিয়ে দেন, এ বার তাঁরা আলাদা কাজ করলেই ভাল হবে। জাভেদ আপত্তি জানাননি।

তাঁদের ‘বিচ্ছেদ’-এর পরে সেলিম লন্ডন চলে যান। বেশ কয়েকবছর পর দেশে ফিরে এসে নিজের কাজ শুরু করেন। জাভেদ ততদিনে গীতিকার হিসেবে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে যান। সেলিম অবশ্য কাজ কমিয়ে দেন। মূলত কবিতা নিয়ে বাকিটা সময় কাটিয়ে দেন।

Advertisement
আরও পড়ুন