বিপাকে সোহম চক্রবর্তী? ছবি: ফেসবুক।
তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ। হাই কোর্টে তাঁর নামে মামলা দায়ের করেছেন অভিযোগকারী শাহিদ ইমাম। অভিযোগকারী আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছেন, মামলার নোটিস পেয়েও নীরব বিধায়ক-অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। বাধ্য হয়ে এ বার তিনি সালিশির নোটিস (আরবিট্রেশন) পাঠালেন সোহমকে।
অভিযোগকারী শাহিদের আইনজীবী পিন্টু কাঁড়ার আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেছেন, “সোহম কোনও সাড়া দেননি। তাই আমরা এ বার সালিশি আইনে আলাদা করে আবার একটি মামলা দায়ের করলাম। বুধবার তার নোটিস পাঠানো হয়েছে সোহমকে।” প্রশ্ন, এই আইনে একই বিষয়ে নতুন করে মামলা দায়ের করতে গেলেন কেন? আইনজীবী জানিয়েছেন, এই আইন অনুযায়ী হাই কোর্ট একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে ‘আরবিট্রেটর’ নিযুক্ত করবেন। তিনি উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাঁর মক্কেলের বকেয়া পাওনা আদায়ের ব্যবস্থা করবেন। তাঁর কথায়, “মামলা উঠবে মার্চ মাসের মাঝামাঝি। সোহম সহযোগিতা করলে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।”
রাজ্যে এপ্রিল-মে মাস নাগাদ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি মামলা। নতুন করে নোটিস পেলেন তিনি। কী বলছেন সোহম? জানতে ফোন করা হয়েছিল তাঁকে। বিধায়ক-অভিনেতা নীরব। কোনও জবাব দেননি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তারও। তবে এর আগে তিনি আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেছিলেন, “আইনি নোটিস পেয়েছি। আমার আইনজীবী বিষয়টি দেখছেন। শাহিদ আইনি পথে হাঁটলে আমিও আইনি পদক্ষেপ করব। তবে উনি কোন কালে যুবনেতা ছিলেন, সেটা জানি না।” সোহমের আক্ষেপ, সামনে নির্বাচন আসছে বলেই হয়তো পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
‘মানিকজোড়’ ছবির জন্য ৬৮ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক-অভিনেতা-প্রযোজক। ঋণ নিয়েছিলেন অভিযোগকারী শাহিদ ইমামের থেকে। তিনিও অভিনেতা এবং প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের আরামবাগের যুবনেতা। ২০২২ সালে এসএসসিকাণ্ডে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শাহিদ বলেছিলেন, “সংশোধনাগারে থাকার ফলে আমি টাকা ফেরত চাইতে পারিনি। ২০২৩ সালে জামিন পাই। সংশোধনাগার থেকে বেরিয়ে যোগাযোগ করি সোহমের সঙ্গে। ওঁর থেকে টাকা ফেরত চাই।” শাহিদের কথা অনুযায়ী, সেই সময়ে দুই দফায় মোট ২৫ লক্ষ টাকা তাঁকে ফেরত দিয়েছিলেন অভিযুক্ত। তার পরেই তিনি নীরব।
বাকি টাকা আদায় করতে না পেরে শাহিদ ১৬ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্টে সোহমের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির মামলা দায়ের করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন চারু মার্কেট থানায়। এ প্রসঙ্গে সোহম বলেছিলেন, “বাকি ৪৩ লক্ষ টাকাও মিটিয়ে দেব, বার বার বলেছি শাহিদকে। আমার কয়েকটি ছবি আটকে। বাংলা ছবির ব্যবসার অবস্থাও সকলের জানা। ফলে, ছবিমুক্তি না ঘটলে বা হাতে টাকা না এলে কী করে ঋণশোধ করব? শাহিদ আমার অবস্থাটাই বুঝলেন না!”